এলিসের হ্যাটট্রিকের প্রেরণায় জয়ের আশায় অস্ট্রেলিয়া

৩.৩ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট নেই। যে কোনো মানদণ্ডেই খরুচে বোলিং। চলতি সিরিজের উইকেটে তো মহাখরুচে। অভিষেকটা ভুলে যাওয়ার মতোই হচ্ছিল ন্যাথান এলিসের। শেষ তিন বলেই তা হয়ে গেল স্মরণীয়! টানা তিন উইকেটে গড়লেন তিনি অভিষেকে হ্যাটট্রিকের ইতিহাস। এলিসের এই ঘুরে দাঁড়ানো থেকেই এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে প্রাপ্তির প্রেরণা খুঁজছে অস্ট্রেলিয়া।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 August 2021, 05:09 AM
Updated : 7 August 2021, 05:09 AM

এলিস এই সফরে এসেছিলেন রিজার্ভ হিসেবে। রাইলি মেরেডিথের চোটে সিরিজ শুরুর আগের দিন তার জায়গা হয় মূল স্কোয়াডে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার টি-টোয়েন্টি ক্যাপও পেয়ে যান ২৬ বছর বয়সী পেসার। নিজের চার ওভারের স্পেলের বেশির ভাগ সময় রান জোয়ারের হতাশায় ছুটলেও শেষ তিন বলে ভাসেন সাফল্যের স্রোতে। প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে।

এলিস ফেরার পথ পেলেও অস্ট্রেলিয়া এখনও তা হাতড়ে বেড়াচ্ছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ হেরে গেছে তারা প্রথম তিন ম্যাচেই। তবে বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি ম্যাচই তো নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। অধিনায়ক ওয়েড ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস পাচ্ছেন এলিসকে দেখে।

“ক্রিকেট মজার একটি খেলা। ৩৪ রান দিয়ে একটিও উইকেট না থাকতে পারত তার। কিন্তু শেষ তিন বলে তার ফিগার ৩৪ রানে ৩ উইকেট। ক্রিকেটে এভাবেই ঘুরে দাঁড়ানো যায়। এটি মাথায় রেখেই আমাদের সফরের বাকিটায় তাকাতে হবে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”

“আরও দুটি সুযোগ আছে আমাদের। বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি সুযোগই মূল্যবান। ব্যক্তিগতভাবে ও দলীয়ভাবে কিছু দিক ঠিক করতে চাইব আমরা এবং শেষ করতে চাইব জয় দিয়ে।”

অস্ট্রেলিয়া ধুঁকছে মূলত মন্থর উইকেটে ব্যাটিং ব্যার্থতায়। প্রথম ম্যাচের ভোগান্তির পর তারা উইকেট ধরে রেখে শেষ দিকে ঝড় তোলার কৌশল নেয়। প্রত্যাশিত জুটিও তারা গড়ে তুলেছে দুই ম্যাচেই। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৭ রানের জুটি গড়েন মিচেল মার্শ ও মোইজেস হেনরিকেস, তৃতীয় ম্যাচে ৬৩ রানের জুটি মার্শ ও বেন ম্যাকডারমটের। কিন্তু শেষ দিকে সেই ঝড় আর ওঠেনি। দুই ম্যাচেই ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৬ ওভার শুরু করলেও তারা ব্যর্থ হয় দ্রুত রান তুলতে।

এখানে ওয়েডের কণ্ঠ অনেকটাই শোনাল অসহায়ের মতো।

“সিরিজ জুড়েই বোলাররা দারুণ করেছে, আমাদের ম্যাচে রেখেছে। ১২০, ১৩০ রানে আটকে রেখেছে ওদের। কিন্তু ব্যাট হাতে আমরা সুযোগটি নিতে পারিনি। এটা ভীষণ হতাশার।”

“আমরা জানতাম, শেষ দিকের ওভারগুলি অনেক কঠিন হবে। এই উইকেটে দ্রুত রান তোলা খুবই চ্যালেঞ্জিং। ওদের কয়েকজন বোলার ওভারে মাত্র চার-পাঁচ করে রান দিয়েছে আগের দুই ম্যাচে। ওদের যে বোলাররা ইনিংস শেষ করে, তাদের বিপক্ষে ওভারে আট রান করে তোলা কঠিন। ওই জুটি খুব ভালো ছিল। আমাদেরকে ক্ষেত্র গড়ে দিয়েছিল শেষ দিকে হাত খোলার। গত ম্যাচেও এরকম ছিল। কিন্তু এই পিচে ইনিংসের শেষ দিকে ভালো করার পথ পাচ্ছি না আমরা।”

পথের সন্ধানে শনিবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে নামবেন ওয়েডরা, খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক