আশরাফুলের ম্যাচ জেতানো ইনিংসে আড়াল লিটন

একজন দেশের ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যত, নিত্যই যাকে নিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচল। আরেকজন বিষাদময় অতীত, যার নিবু নিবু বর্তমানে মিশে থাকে আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস। লিটন দাস ও মোহাম্মদ আশরাফুল, এক ম্যাচেই দুজন দেখালেন, কেন তাদেরকে নিয়ে এত আলোড়ন। দুজনের আলো ছড়ানোর দিনে শেষ হাসি আশরাফুলের।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 June 2021, 01:27 PM
Updated : 24 June 2021, 01:27 PM

লিটন দাসের ৫১ বলে ৭০ রানের ইনিংস আবাহনী লিমিটেডকে এনে দেয় বড় স্কোর। তবে ওই রান শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব টপকে যায় আশরাফুলের ৪৮ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংসে।

শেখ জামালের শিরোপার আশা শেষ আগেই, তবে তাদের ৬ উইকেটের এই জয় নতুন মাত্রা দিল ট্রফির লড়াইকে। শীর্ষে থেকে এই ম্যাচ শুরু করা আবাহনীর পথ একটু কঠিন হয়ে গেল হেরে গিয়ে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার আবাহনী ২০ ওভারে তোলে ১৭৩ রান। সেই রান তাড়ায় শেখ জামালকে নির্ভরতা জুগিয়ে যায় আশরাফুলের ইনিংস। আরেক প্রান্তে ম্যাচের মোড় বদলানো ইনিংস খেলেন নাসির হোসেন, মাঝের গতিময়তা এনে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নুরুল হাসান সোহান, আর শেষের দাবি মেটান জিয়াউর রহমান।

চলতি লিগে এটিই সবচেয়ে বড় রান তাড়ায় জয়।

শেখ জামালের রান তাড়ার শুরুটা হয় জোড়া ধাক্কায়। দ্বিতীয় ওভারে আরাফাত সানিকে ফিরতি ক্যাচ দেন সৈকত আলি। তৃতীয় ওভারে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের দুর্দান্ত ইয়র্কারে স্টাম্প হারান ইমরুল কায়েস। নাসির উইকেটে গিয়ে ওই ওভারেই ছক্কা মারেন দারুণ আপার কাটে।

লিটনের ৭০ রানের ইনিংস আবাহনীকে এনে দেয় বড় পুঁজি।

অস্বস্তি ঝেরে ফেলে শেখ জামাল। পরের ওভারে তানজিম হাসানকে দুই চার, এক ছক্কা মারেন আশরাফুল। নাসিরের দ্বিতীয় ছক্কা আসে আরাফাত সানির স্পিনে। ছুটতে থাকে দলের ইনিংস।

৬৯ রানের এই জুটি ভাঙে নাসিরের বিদায়ে। ৩ ছক্কায় ২২ বলে ৩৬ করে ফেরেন এই অলরাইন্ডার।

তবে দিশা হারায়নি শেখ জামালের ইনিংস। দারুণ ছন্দে থাকা সোহান ইনসাইড আউটে ছক্কা মারেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে, চোখধাঁধানো পুলে ছক্কা মারেন সানি ও তানজিমকে।

আশরাফুলও এগিয়ে যান সাবলিলভাবে। ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৬ বলে।

২০১৩ বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটির পর এই প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটির স্বাদ পেলেন আশরাফুল। ওই লিগেই স্পট ফিক্সিং করে তিনি নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এই দুই ইনিংসের মাঝের সময়ে খেলেছেন ২৬ ম্যাচ।

সোহান অবশ্য ২২ বলে ৩৬ করে আউট হয়ে যান তানজিমের বলে। তবে আশরাফুলকে নিয়ে শেষের কাজ সারেন জিয়াউর।

শেষ দিকে শেখ জামালের কাজ কিছুটা সহজ হয় মেহেদি হাসান রানার আলগা বোলিংয়ে। শেষ ৫ ওভারে যখন প্রয়োজন ৪৮ রান, এই বাঁহাতি পেসারের দুই ওভারেই আসে ৩১ রান।

৮ চার ও ২ ছক্কায় আশরাফুল অপরাজিত ৭২ রানে। দুটি করে চার-ছক্কায় জিয়াউর খেলেন ৯ বলে ২২ রানের ক্যামিও। সাইফ উদ্দিনকে টানা দুই বলে চার-ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন তিনিই।

শেষের মতো ম্যাচের শুরুটাও আবাহনীর ছিল বাজে। প্রথম ওভারেই আউট হন মুনিম শাহরিয়ার। তিন ম্যাচে দ্বিতীয়বার শূন্য রানে ফিরলেন তিনি।

ওপেনিংয়ে ফেরা মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তিনে নামা লিটন দাসের ব্যাটে ওই ধাক্কা সামাল দেয় আবাহনী। দুজনে গড়েন ৪৩ বলে ৬৮ রানের জুটি।

মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদিকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় নাঈম বিদায় নেন ২৫ বলে ৪২ করে। এই লেগ স্পিনার পরে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেনকেও।

কিন্তু লিটন এগিয়ে নেন দলকে। নান্দনিক সব শট যেমন খেলেন তিনি, শেষ দিকে দেখান কবজির জোরও। তাতে আবাহনী পায় ভালো পুঁজি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তাতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী: ২০ ওভারে ১৭৩/৭ (নাঈম ৪২, মুনিম ০, লিটন ৭০, শান্ত ৬, মোসাদ্দেক ১৬, আফিফ ১৯, সাইফ উদ্দিন ২*, তানজিম ৬, আমিনুল ০*; এনামুল ৪-০-৩০-১, ইবাদত ৪-০-৪৪-০, জিয়াউর ৪-০-৪২-২, আফ্রিদি ৪-০-২৫-২, নাসির ১-০-৮-০, সোহরাওয়ার্দী ৩-০-১৮-০)।

শেখ জামাল: ১৮.৩ ওভারে ১৭৫/৪ (সৈকত ২, আশরাফুল ৭২*, ইমরুল ৩, নাসির ৩৬, সোহান ৩৬, জিয়াউর ২২*; সাইফ উদ্দিন ৩.৩-০-৩৪-১, আরাফাত সানি ৪-০-৩৫-১, তানজিম ৩-০-৩৫-১, মোসাদ্দেক ১-০-৫-০, আমিনুল ৩-০-২৭-১, মেহেদি রানা ৪-০-৪২-০)।

ফল: শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ:  মোহাম্মদ আশরাফুল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক