রবিনসনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না ইংল্যান্ড

অলিভার রবিনসনের টুইটের ঘটনায় নড়েচড়ে বসছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এই পেসারের অতীতের করা কিছু বিতর্কিত টুইট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম দিন শেষেই তাই ক্ষমা চাইতে হয়েছে রবিনসনকে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 June 2021, 10:15 AM
Updated : 4 June 2021, 10:15 AM

ইংলিশ ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম থর্প মনে করেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেয়াল রাখতে পারে ইংল্যান্ড।

বুধবার লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় ২৭ বছর বয়সী পেসারের। একই দিনে ২০১২ ও ২০১৩ সালে তার করা কিছু টুইট সবার নজরে চলে আসে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না থর্প।

“ড্রেসিংরুমে আমরা তাকে সমর্থন জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।”

রবিনসনের টুইটগুলোতে ছিল সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত, এশিয়ান বংশোদ্ভূত ও নারীদের প্রতি ছিল অবমাননাকর মন্তব্য। তার বয়স তখন ছিল ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। সেই সময়টায় তিনি খেলছিলেন লেস্টারশায়ার, কেন্ট ও ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে।

এমন এক দিনে রবিনসনের এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যেদিন খেলা শুরুর আগে দুই দলই লিঙ্গবৈষম্যসহ ক্রিকেটে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানায়। ইংল্যান্ড দল একটি ট্রেনিং জার্সি উন্মোচিত করে, যেখানে লেখা আছে বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী নানা স্লোগান।

লিখিত ও ভিডিও বিবৃতিতে এরই মধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন রবিনসন।

“আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমি বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট নই। নিজের কাজের জন্য আমি ভীষণভাবে অনুতপ্ত ও এমন মন্তব্যের জন্য লজ্জিত। আমার সতীর্থরা ও সামগ্রিক ক্রিকেট খেলাটায় যারা আমার মন্তব্যে আহত হয়েছেন, বিশেষ করে এমন এক দিনে যেদিন আমরা খেলাটায় বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি ও সচেতনতা তৈরি করছি, তাদের সবার কাছে আমি অকপটে ক্ষমা চাইছি।”

ইংল্যান্ডের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলা থর্প জানিয়েছেন রবিনসন ড্রেসিংরুমে তাদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন।

“এটা তার জন্য বেশ কঠিন একটা দিন ছিল। তাকে ড্রেসিংরুমে এবং পুরো পৃথিবীর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। সেদিক থেকে দেখলে এটা তার জন্য কঠিন ছিল, তবে সে জানে সে ভুল করেছে।”

লর্ডস টেস্টেই আরেক অভিষিক্ত ডেভিড কনওয়ের ডাবল সেঞ্চুরির পর ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোতে রবিনসনের ছিল বড় ভূমিকা। ৭৫ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। নিউ জিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৩৭৮ রানে। দিনশেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১১।

মাঠের বাইরের ঘটনা ছাপিয়ে রবিনসনের এই লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ থর্প।

“সে যা করেছে এরপরে মাঠে গিয়ে পারফর্ম করাটা মোটেও সহজ ছিল না। সে দৃঢ় চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে এবং ধারাবাহিকও ছিল। আমরা তাকে নিয়ে খুবই খুশি। তার খেলার ধরণ ছিল অসাধারণ।"

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এরই মধ্যে রবিনসনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক