মুস্তাফিজের উজ্জ্বল দিনে রাজস্থানের জয়

উইকেট পেতে পারতেন প্রথম ওভারেই। কিন্তু হাতছাড়া হয়ে গেলো ক্যাচ। ইনিংস জুড়ে দারুণ বোলিং করে যাওয়া মুস্তাফিজুর রহমান পরে অবশ্য পেলেন উইকেটের দেখা। বল হাতে ঝলমলে এক দিন কাটালেন বাঁহাতি এই পেসার। তার ছন্দে ফেরার দিনে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে সহজেই হারাল রাজস্থান রয়্যালস।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 April 2021, 04:05 PM
Updated : 24 April 2021, 07:01 PM

মুম্বাইয়ে কলকাতার বিপক্ষে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। শুবমান গিলের ক্যাচ যাশাসবি জয়সওয়াল না ফেললে আরেকটি উইকেট থাকত তার নামের পাশে।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শনিবার ৬ উইকেটে জিতেছে রাজস্থান। দুই ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল তারা। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে দলটি পৌঁছে যায় ৭ বল বাকি থাকতে।

প্রতিপক্ষকে অল্পতে থামিয়ে রাখার মূল নায়ক ক্রিস মরিস। দক্ষিণ আফ্রিকান এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

এই ম্যাচ দিয়ে আইপিএলের এবারের আসরে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল মুস্তাফিজ ও সাকিব আল হাসানের। গত ম্যাচে একাদশে জায়গা হারানো সাকিবকে ছাড়া এবারও দল সাজিয়েছে কলকাতা।

টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া রাজস্থানের মুস্তাফিজ বল হাত পান চতুর্থ ওভারে। তার করা প্রথম দুই বলে আসেনি কোনো রান। পরের বল পায়ের উপরে হাফভলি করলে মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান গিল।

এক বল পরই স্লোয়ার কাটারে কালকাতা ওপেনার ক্যাচ তুলে দেন হাওয়ায়। কিন্তু সুইপার কাভার থেকে কিছুটা দৌড়ে এসে বল হাতে জমাতে পারেননি জয়সওয়াল। ওভার থেকে আসে ৭ রান।

মিতব্যয়ী বোলিংয়ে এক উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি: বিসিসিআই।

ষষ্ঠ ওভারে এসে দুর্দান্ত বোলিংয়ে কেবল দুই রান দেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারে প্রথম সাফল্য পায় কলকাতা। জস বাটলারের দারুণ থ্রোয়ে রান আউটে কাটা পড়েন গিল। পরে থিতু হয়ে যাওয়া নিতিশ রানাকে কট বিহাইন্ড করে ফেরান চেতান সাকারিয়া।

সাকিবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া সুনিল নারাইনও ব্যাট হাতে করতে পারেননি কিছু। জয়দেব উনাদকাটের স্লোয়ারে তিনি বিদায় নেন জয়সাওয়ালের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে। এরপর অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান ফেরেন রান আউট হয়ে।

রাহুল ত্রিপাঠি ও দিনেশ কার্তিকের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে কলকাতা। উইকেটের খোঁজে থাকা রাজস্থান অধিনায়ক আবারও বোলিংয়ে ডাকেন মুস্তাফিজকে। ৩৬ রান করা ত্রিপাঠিকে ফিরিয়ে তিনি ভাঙেন ৩০ রানের জুটি। আলগা বলে বাউন্ডারি খেয়ে ওভার শেষ করেন ৫ রান দিয়ে।

পরে আন্দ্রে রাসেল ও দিনেশ কার্তিককে এক ওভারে ফিরিয়ে দেন মরিস।

১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দারুণ শুরু করা মুস্তাফিজ লেগ সাইডে আলগা এক বল দিয়ে হজম করেন বাউন্ডারি। পরে প্যাট কামিন্সকে স্লোয়ারে পরাস্ত করলে উঠে যায় ক্যাচের মতো, কিন্তু হাত ছোঁয়াতে পারেননি কোনো ফিল্ডার। ৯ রান দিয়ে ওভার শেষ করেন মুস্তাফিজ।

রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ওভারেই বাটলারকে হারায় রাজস্থান। জয়সওয়াল ২২ রান করে ফিরে যান পরের ওভারে।

দ্রুত দুই উইকেট হারানো দলকে লক্ষ্যের দিকে নিতে থাকেন সাঞ্জু স্যামসন ও শিভাম দুবে। দুই জনের ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন বরুণ চক্রবর্তী। টিকতে পারেননি রাহুল তেওয়াতিয়াও।

এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪১ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক স্যামসন। তাকে সঙ্গ দিয়ে ডেভিড মিলার মাঠ ছাড়েন ৩ চারে ২৪ রান নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কলকাতা নাইট রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৩৩/৯ (রানা ২২, গিল ১১, ত্রিপাঠি ৩৬, নারাইন ৬, মর্গ্যান ০, কার্তিক ২৫, রাসেল ৯, কামিন্স ১০, মাভি ৫, প্রসিধ ০*; উনাদকাট ৪-০-২৫-১, সাকারিয়া ৪-০-৩১-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২২-১, মরিস ৪-০-২৩-৪, তেওয়াতিয়া ৩-০-২৪-০, দুবে ১-০-৫-০)।

রাজস্থান রয়্যালস: ১৮.৫ ওভারে ১৩৪/৪ (বাটলার ৫, জয়সওয়াল ২২, স্যামসন ৪২*, দুবে ২২, তেওয়াতিয়া ৫, মিলার ২৪*; মাভি ৪-০-১৯-১, কামিন্স ৩.৫-০-৩৬-০, বরুণ ৪-০-৩২-২, নারাইন ৪-০-২০-০, প্রসিধ ৩-০-২০-১)।

ফল: রাজস্থান রয়্যালস ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রিস মরিস।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক