জৈব-সুরক্ষা বলয় যেন ‘বিলাসী বন্দিশালা’

বিলাসিতার সব উপকরণই আছে চারপাশে। কিন্তু সীমিত একটি গণ্ডির বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। কাগিসো রাবাদার কাছে জৈব-সুরক্ষা বলয়ের জীবনকে মনে হয় বিলাসবহুল কোনো জেলখানা। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তারা যে কতটা ভাগ্যবান, এটাও অবশ্য বলছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফাস্ট বোলার।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2020, 04:26 AM
Updated : 24 Nov 2020, 04:26 AM

আইপিএলে ১১ সপ্তাহ জৈব-সুরক্ষা বলয়ে কাটিয়ে দেশে ফিরে খুববেশি দিন ‘মুক্ত’ থাকা হয়নি রাবাদার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজেরজন্য আবার ঢুকতে হয়েছে জৈব-সুরক্ষা বলয়ে।

সিরিজের আগে সোমবার কেপ টাউনে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে রাবাদাবললেন তার জৈব-সুরক্ষা বলয়ের অভিজ্ঞতা।

“ এটা বেশ কঠিন। (শুরুতে) অন্যদের সঙ্গে মেশা যায় না। কার্যতস্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতে হয়। অনেকটা বিলাসী বন্দিশালায় থাকার মতো।”

তবে এখনকার বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এমন বন্দিশালায় থাকতে পারাওযে সৌভাগ্যের ব্যাপার, সেটিও জানেন ২৫ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার।

“ আমাদের নিজেদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে, আমরা বেশ সৌভাগ্যবান।কত লোক চাকরি হারিয়েছে, ধুঁকছে-ভুগছে এখন। এমন একটা সময়েও আমরা অর্থ আয় করতে পারছি,নিজেদের ভালোবাসার কাজটি করার সুযোগ পাচ্ছি, এজন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।”

“ খুব খারাপ কিছু করা হচ্ছে না আমাদের সঙ্গে (সুরক্ষা বলয়ে)।দারুণ হোটেলে থাকছি, সেরা খাবার পাচ্ছি। ব্যাপারটি এরকম যেন দুষ্টু কোনো বাচ্চা চকলেটেরদোকানে গিয়ে পছন্দের জিনিসটি পাচ্ছে না।”

জৈব-সুরক্ষা বলয়ে খেলা শুরু হওয়ার আগের সময়টুকুই চ্যালেঞ্জিং,এরপর আর সমস্যা হয় না বলে জানালেন রাবাদা।

“ চার দেয়ালের মধ্যেই থাকতে হওয়ায় মানসিকভাবে তা প্রভাব ফেলতেপারে, সেদিক থেকে এটা কঠিন। কিন্তু স্রেফ নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে, চারপাশে কী হচ্ছে।আর একবার যখন খেলা শুরু করছি, তার পর তো নিঃসঙ্গ সময়ের সমাপ্তি।”

জৈব-সুরক্ষা বলয় যে রাবাদাকে মানসিকভাবে খুব একটা কাবু করতেপারেনি, আইপিএলেই তিনি সেটা দেখিয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেতাদের সীমিত ওভারের সিরিজ শুরু আগামী শুক্রবার থেকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক