টেইলরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতেও পারল না জিম্বাবুয়ে

শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের পার্থক্য অনেক। তবে সাড়ে সাত মাস পর ক্রিকেটে ফিরে জিম্বাবুয়ে লড়ল বুক চিতিয়ে। অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা দেখালেন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু শেষ বেলায় পথ হারিয়ে মিলিয়ে গেল সেই আশা। স্লগ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিতল পাকিস্তান।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2020, 03:50 PM
Updated : 30 Oct 2020, 03:50 PM

তিন ম্যাচ সিরিজেরপ্রথমটিতে পাকিস্তান জিতেছে ২৬ রানে। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে দুই দলের প্রথম ম্যাচছিল এটি।

রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেটস্টেডিয়ামে শুক্রবার ৫০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২৮২। জিম্বাবুয়ে থমকে যায় ২৫৫রানে।

পরাজিত দলে থেকেও১১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ টেইলর। ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গে টেইলরেরজুটিই জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে নেয় জয়ের পথে। কিন্তু আফ্রিদি ও ওয়াহাবের আগুনে বোলিংয়েরসঙ্গে শেষ পর্যন্ত তারা পেরে ওঠেননি।

পাকিস্তানের এই দুইবাঁহাতি পেসার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ৯ উইকেট। ৪৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা আফ্রিদি।৪১ রানে ওয়াহাবের শিকার ৪টি। এই দুজনের তোপে ২১ রানেই শেষ ৬ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

ছবি: পিসিবি

এই নিয়ে টানা দুইওয়ানডেতে আফ্রিদি নিলেন ৫ উইকেট। সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপে, বাংলাদেশেরবিপক্ষে লর্ডসে সেই ম্যাচে ৩৫ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।

এই দুই ম্যাচের ঠিকআগের ম্যাচে আফ্রিদি ৪ উইকেট নিয়েছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। টানা তিন ম্যাচে ৪ বাততোধিক উইকেট নিয়ে তিনি স্পর্শ করেছেন ওয়ানডের রেকর্ড।

আফ্রিদি-ওয়াহাবেরবোলিং কীর্তির আগে টেইলরই ছিলেন নায়ক হওয়ার পথে। রান তাড়ায় জিম্বাবুয়ে দ্রুতই হারায়দুই ওপেনার ব্রায়ান চারি ও অধিনায়ক চামু চিবাবাকে। দারুণ দুটি ডেলিভারিতে দুজনকেই বোল্ডকরেন আফ্রিদি। শুরু হয় টেইলরের লড়াই।

তৃতীয় উইকেটে ক্রেইগআরভিনকে নিয়ে টেইলর যোগ করেন ৭১ রান। আরভিনের সম্ভাবনাময় ইনিংসটি ৪১ রানে থামে বাঁহাতিস্পিনার ইমাদ ওয়াসিমকে রিভার্স সুইপ খেলে।

অভিজ্ঞ শন উইলিয়ামসটেকেননি বেশিক্ষণ। ১১৫ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে টেনে নেন টেইলর ও মাধেভেরে। গত মার্চেবাংলাদেশ সফরে নজর কাড়ার পর তরুণ মাধেভেরে তার প্রতিভার ছাপ রাখেন আবারও।

টেইলর ফিফটি স্পর্শকরেন ৬৫ বলে। সেখান থেকে পরের ফিফটিতে যান ৪১ বলে। ২০ বছর বয়সী মাধেভেরে নিজের চতুর্থওয়ানডেতেই পেয়ে যান দ্বিতীয় ফিফটির দেখা। দুজনের জুটি পেরিয়ে যায় শতরান।

শেষ ৩০ বলে জিম্বাবুয়েরপ্রয়োজন ছিল ৪৮ রান। এই সময়ের ক্রিকেটে খুব কঠিন কিছু নয়। টেইলর-মাধেভেরে তখনও উইকেটে।কিন্তু বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান আফ্রিদি ও ওয়াহাব।

৫৫ রান করা মাধেভেরেবোল্ড হন ওয়াহাবের বলে। ভেঙে যায় দুজনের ১১৪ বলে ১১৯ রানের জুটি। পরের ওভারেই টেইলরের১১ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংস থামে আফ্রিদির বলে।

এরপর স্রেফ একেরপর এক ব্যাটসম্যানের আশা যাওয়া। আফ্রিদি ও ওয়াহাবের বোলিংয়ের জবাব ছিল না জিম্বাবুয়েরলোয়ার অর্ডারের।

ছবি: পিসিবি

ম্যাচের প্রথম ভাগেপাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নামে টস জিতে। ওপেনিংয়ে আবিদ আলি ও তিনে নেমে অধিনায়ক বাবর আজমআউট হয়ে যান ভালো শুরু করেও।

আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হকবরাবরের মতোই ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ছিলেন। তার ৭৫ বলে ৫৮ রানের ইনিংস থামে রানআউটে।

মিডল অর্ডারে রানপেয়েছেন কেবল হারিস সোহেল। এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে এসেছে ৮২ বলে ৭১। মোহাম্মদ রিজওয়ান,ইফতিখার আহমেদরা পারেননি লম্বা সময় টিকতে।

শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের১৬ বলে ২৩ ও ইমাদের ২৬ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ২৮০ ছাড়াতে পারে পাকিস্তান।

খুব নিরাপদ পুঁজিছিল না তা। টেইলর তা প্রমাণও করলেন। এই দফায় পাকিস্তানকে উদ্ধার করলেন আফ্রিদি ও ওয়াহাব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৮২/৮ (ইমাম ৫৮, আবিদ ২১, বাবর ১৯, হারিস সোহেল৭১, রিজওয়ান ১৪, ইফতিখার ১২, ফাহিম ২৩, ইমাদ ৩৪*, ওয়াহাব ৮, আফ্রিদি ৮*; এনগারাভা ১০-০-৪৯-০,মুম্বা ৮-০-৬৯-১, মুজারাবানি ৯-০-৩৯-২, চিবাবা ২-০-১৬-০, মাধেভেরে ৭-০-৩১-০, রাজা ৯-০-৪৫-১,চিসোরো ৫-০-৩১-২)।

জিম্বাবুয়ে: ৪৯.৪ ওভারে ২৫৫ (চারি ২, চিবাবা ১৩, আরভিন ৪২, টেইলর ১১২,উইলিয়ামস ৪, মাধেভেরে ৫৫, রাজা ৮, চিসোরো ৫, মুম্বা ১, এনগারাভা ০*, মুজরাবানি ৫; আফ্রিদি১০-০-৪৯-৫, হারিস রউফ ১০-১-৫৭-০, ফাহিম ১০-১-৫৭-০, ওয়াহাব ৯.৪-০-৪১-৪, ইমাদ ১০-০-৪৯-১)।

ফল: পাকিস্তান ২৬রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজেপাকিস্তান ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ:ব্রেন্ডন টেইলর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক