পাকিস্তানের হারে ওয়াসিমের কাঠগড়ায় আজহারের নেতৃত্ব

ম্যাচ হাতেই ছিল, জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এর জন্য আজহার আলির নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়কের কৌশলগত ভুলের মাশুল এই হার বলে মনে করেন দলটির সাবেক অধিনায়ক।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 August 2020, 11:15 AM
Updated : 9 August 2020, 12:01 PM

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের শেষ ইনিংসে ২৭৭ রান তাড়ায় নামা ইংল্যান্ডকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে চেপে ধরেছিল পাকিস্তান। ১১৭ রানে স্বাগতিকদের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের লাগাম হাতে নিয়েছিল সফরকারীরা। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ক্রিস ওকস ও জস বাটলারের ১৩৯ রানের জুটি বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। ইংল্যান্ড জিতে যায় ৩ উইকেটে।

সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় স্টার স্পোর্টসে আজহারের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন ২৫ টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করা ওয়াসিম।

“এটা (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার) যন্ত্রণা দেবে। পাকিস্তান দল ও দেশটির ক্রিকেটপ্রেমীদের এই হার যন্ত্রণা দেবে।”

“জয়-পরাজয় ক্রিকেটের একটি অংশ। কিন্তু আমার মনে হয়, তার নেতৃত্বের দিক বিবেচনা্য় আমাদের অধিনায়ক এই ম্যাচে বেশ কয়েকবার কৌশলগত ভুল করেছে।”

বাটলার ও ওকস দুই জনেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙে দেন মূলত তারাই। ওয়াসিম মনে করেন, এই জুটির বিপক্ষে বিচক্ষণতার সঙ্গে বোলারদের ব্যবহার করতে পারেননি আজহার। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট (৪১৪) শিকারির মতে, এখানেই ছিল তার বড় ভুল।

“যখন ওকস উইকেটে আসে, কোনো বাউন্সার, শর্ট বল করা হয়নি। তাকে তারা থিতু হতে দিয়েছে এবং রানও খুব সহজে আসছিল।”

“যখন জুটিটি এগোতে শুরু করল, কিছুই কাজ করেনি, টার্ন-সুইং কিছুই না। বাটলার ও ওকস কেবল পাকিস্তানের হাত থেকে ম্যাচটি বের করে নিয়ে গেল।”

ম্যাচের দুই ইনিংসে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩৩ ওভার ও নাসিম করেন ২৯ ওভার। ওয়াসিমের মোটেও ভালো লাগেনি তা। দলের এই দুই তরুণ পেসারকে আরও বেশি ওভার বোলিং করানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

“পাকিস্তানের ক্রিকেট হলো সহজাত দক্ষতা, অনুনমেয় এবং আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের সমাহার। আমাদের বোলাররা কাউন্টি বোলারদের মতো নয়, যারা কেবল মাঠে নামবে আর পুরো দিন জুড়ে লাইন-লেংথে বল করে যাবে।”

“আমাদের আছে একজন ১৭ বছর বয়সী বোলার (নাসিম), যে ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগে বল করে। আরেকজন আছে ২০ বছর বয়সী (আফ্রিদি), যার গতি ঘণ্টায় ৮৮ মাইলের আশেপাশে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তাদের আরও অনেক ওভার বোলিং করা উচিত ছিল, প্রতি ইনিংসে ১৮-২০ ওভারের মতো।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক