লাল বলে খেলা কঠিন ছিল: তানজিদ

প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। গত দুই বছর খেলেছেন শুধু সাদা বলে। এবার নামতে হলো লাল বলে খেলতে। আর নেমেই ঝড়ো সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ হাসান। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান জানালেন, লাল বলে খেলা যত সহজ ভেবেছিলেন, ততটা সহজ ছিল না মোটেও। 

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Feb 2020, 12:14 PM
Updated : 19 Feb 2020, 12:14 PM

কিছুদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে আসা বাংলাদেশ দলের ছয়জন খেলেছেন বিসিবি একাদশের হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে। বিশ্বকাপের পর এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। যেখানে সবচেয়ে সফল তানজিদ। বিকেএসপিতে বুধবার তিনি ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৮৭ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। ৯৯ বলে ১৪ চার ও ৫ ছক্কায় করেন অপরাজিত ১২৫ রান।

তানজিদ মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলের হয়ে ওপেন করেছেন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে নামানো হয় সাত নম্বরে, যখন ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তার দল চাপে। তবে কি ওপেনিংয়ে নামতে না পারার জেদ থেকেই এমন ইনিংস?

“আসলে দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার। আমিও প্রস্তুত ছিলাম যেখানেই সুযোগ আসে যেন কাজে লাগাতে পারি। এরকম (জেদ থেকে) কিছু না, আমি কেবল পরিস্থিতিটা সামলানোর চেষ্টা করছিলাম।”

বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পরপরই একটি টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে খেলা; কিছুটা চাপ থাকলেও উপভোগ করেছেন বলে জানালেন তানজিদ।

“জিম্বাবুয়ে একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশ, আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে এসেছি, এসেই একটা জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলা। একটু চাপের ছিল। কিন্তু আমরা চাপ হিসেবে নিইনি, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা অনেক উপভোগ করেছি।”

“সাদা বল দুই বছর খেলে লাল বল খেলা আসলে কঠিন ছিল। আমরা কেবল মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি।”

মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরেছিলেন। ব্যাটিং করেছেন ওয়ানডে মেজাজে। তানজিদ বলছেন, এটাই তার স্বাভাবিক খেলা।

“আসলে আমি সব সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। আমার জোনে বল পেলে মেরেছি। অবশ্যই স্বাভাবিক খেলা, আমার জোনে যেটা পাই, সেটা মারার চেষ্টা করি।”

তানজিদের পাশাপাশি সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক আল আমিন জুনিয়রও। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন গড়েন অবিচ্ছিন্ন ২১৯ রানের জুটি। তানজিদ ধন্যবাদ দিলেন অধিনায়ককে।

“আসলে সত্যি কথা বলতে ভাই (আল আমিন) আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। আমি ভাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। যখন ক্রিজে আসি তখন পরিস্থিতিটা সত্যি অন্যরকম ছিল, আমরা চাপে ছিলাম, উনি আমাকে স্রেফ বলেছে সহজাত ক্রিকেটটা খেলার জন্য।”

“আমি যখন অন্যমনষ্ক হয়ে যাচ্ছিলাম, তখন ভাই আমাকে সাহায্য করেছে স্বাভাবিক থাকতে। ভাই অনেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, উনার সেঞ্চুরিটা উপভোগ করেছি।”

সেঞ্চুরি নিজের প্রয়াত কোচকে উৎসর্গ করলেন তানজিদ, “আমার বাড়ি যেহেতু বগুড়ায়, বগুড়ায় আমার ডিস্ট্রিক্ট কোচ মুসলিম উদ্দিন স্যার কিছুদিন আগে মারা গেছেন। আমার সেঞ্চুরিটা আমি উনাকে উৎসর্গ করতে চাই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক