মিরপুরে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ভারতকে হারাল পাকিস্তান

মুখোমুখি যখন ভারত-পাকিস্তান, যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটই যেন ছড়ায় উত্তেজনা। স্নায়ুর চাপ থাকে বাড়তি। জয়ের খুশি বা হারের বেদনা, দুটির তীব্রতাই বেশি। সেটির আরেকটি নমুনা দেখা গেল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। দুই দেশের উদীয়মানদের লড়াইয়ে নাটকীয় জয়ে পাকিস্তান মেতে উঠল যেন বিশ্ব জয়ের উৎসবে। হতাশায় নুইয়ে পড়ল ভারত।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Nov 2019, 12:37 PM
Updated : 20 Nov 2019, 12:37 PM

এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের রোমাঞ্চকর সেমি-ফাইনালেভারতকে ৩ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বৃহস্পতিবার মিরপুরেই আফগানিস্তানেরসঙ্গে লড়বে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি-ফাইনালে বুধবার পাকিস্তানের২৬৭ রান তাড়ায় ভারত ছিল জয়ের পথেই। শেষ ৫ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে প্রয়োজন ছিল কেবল২৬ রান। কিন্তু পাকিস্তানের দারুণ বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সেই পথটুকুও পাড়ি দিতে পারেনিভারত। থমকে গেছে ২৬৪ রানে।

শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৮ রান, উইকেট ছিল৩টি। পেসার আমাদ বাটের দারুণ বোলিংয়ে ওই ওভার থেকে এসেছে কেবল চারটি সিঙ্গেল।

সকালে টস জয়ী পাকিস্তানকে ভালো শুরু এনে দেনওমাইর ইউসুফ ও হায়দার আলি। দুই ওপেনার দলকে এনে দেন ৯০ রানের জুটি।

৬০ বলে ৪৩ করে ফেরেন হায়দার। আরেক ওপেনার ওমাইর৬৬ করেন ৯৭ বলে। এই দুজনের জুটিতে রান রেট অবশ্য ছিল কেবল চারের একটু বেশি। 

তিনে নেমে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৫ রান করে রানেরগতি একটু বাড়ান অধিনায়ক রোহাইল নাজির। মিডর অর্ডারে সাইফ বদর করেন ৪৮ বলে ৪৭।

শেষ দিকে ইমরান রফিক করেন ৩০ বলে ২৮। পাকিস্তানজাতীয় দলের হয়ে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসা খুশদিল শাহ একটি করে চার ও ছক্কায়করেন ১৩। শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৮৩ রান।

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে গতির ঝড় তুলে আলোচনায়আসা পেসার শিবাম মাভি ২ উইকেট নিলেও খরচ করেছেন ৫৩ রান।

রান তাড়ায় ভারত শুরু করে ঝড়ের গতিতে। দুই ওপেনারবেলুর রাভি শরত ও আরইয়ান জুইয়াল ৬ ওভারে তোলেন ৪৩ রান।

১৭ রানে আরইয়ানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন পাকিস্তানেরজাতীয় দলের হয়ে গতি দিয়ে নজর কাড়া মোহাম্মদ হাসনাইন। তবে শরতের দারুণ ব্যাটিংয়ে ভারতেররানের গতি কমেনি।

৪৩ বলে ৪৭ রান করা শরতকে থামান লেগ স্পিনার সাইফবদর। ভারত এরপর পায় আরেকটি দারুণ জুটি। এবার সানভির সিং ও আরমান জাফর যোগ করেন ৮৩ রান।

এই জুটির সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচ হতে যাচ্ছে একতরফা। পাকিস্তানের বোলারদের কোনো প্রচেষ্টাই কাজে লাগছিল না। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেসানভির ৭৬ করে রান আউট হলে।

লেগ স্পিনার বদর এরপর ফেরান যশ রাঠোড়কে। পরেরওভারে ৪৬ রান করা জাফরকে ফিরিয়ে দেন নতুন স্পেলে ফেরা হাসনাইন। 

এই জোড়া ধাক্কার পরও ম্যাচ ছিল ভারতের নিয়ন্ত্রণে।স্বাভাবিক খেললেই ধরা দিতে পারত জয়। কিন্তু স্নায়ুর চাপেই হয়তো খেই হারায় তারা। শুভমশর্মা ফেরেন রান আউটে। পরের ব্যাটসম্যানরা পাকিয়ে ফেলেন ভজকট।

৪৯তম ওভারের শেষ বলে একটি ফুল টস পেয়ে হাসনাইনকেবাউন্ডারি মেরেছিলেন শিবাম মাভি। সমীকরণ তাতে নেমে আসে ভারতের নাগালেই। কিন্তু শেষওভারে শেষ হাসি পাকিস্তানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ইমার্জিং: ৫০ ওভারে ২৬৭/৭ (ওমাইর ৬৬,হায়দার ৪৩, রোহাইল ৩৫, শাকিল ১৩, বদল ৪৭*, রফিক ২৮, খুশদিল ১৩, আমাদ ৮, উমে ৩*; শিবাম১০-১-৫৩-২, দুবে ৯-০-৬০-২, সিদ্ধার্থ ৮-০-৩৭-১, সানভির ৪-০-১২-০, শুভম ৯-০-৪২-০, হৃত্মিক১০-১-৫৯-২)।

ভারত ইমার্জিং: ৫০ ওভারে ২৬৪/৮ (শরত ৪৭, আরইয়ান১৭, সানভির ৭৬, আরমান ৪৬, রাঠোর ১৩, চিন্ময় ২৮*, শুভম ১২, হৃত্মিক ৪, শিবম ৬, সিদ্ধার্থ২*; হাসনাইন ১০-০-৬১-২, আকিফ ৮-০-৪৩-০, আমাদ ১০-০-৪৩-১, বদর ১০-০-৫৭-২, খুশদিল ৫-০-২৩-০,উমের ৫-০-২৫-১, শাকিল ২-০-৮-০)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক