পরিকল্পনায় ভুল করছে না তো বাংলাদেশ?

প্রথম টেস্টের উইকেট কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বলার সময় এখনও আসেনি। যে কোনো উইকেটে বড় পরিবর্তন আনার জন্য দুই দিন কম সময় নয়। তবে এখন পর্যন্ত উইকেট যেমন তাতে পেসারদের জিভে জল আসতেই পারে। বাংলাদেশ দলের অবশ্য ধারণা, শেষ পর্যন্ত ভারতে বরাবরের মতো স্পিন সহায়ক উইকেট মিলবে। তাই স্পিন সামলাতে দিচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। অনুশীলনের যা চিত্র, তাতে ভারতের পেসারদের একটু কম গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

অনীক মিশকাতঅনীক মিশকাতইন্দোর থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2019, 02:15 PM
Updated : 12 Nov 2019, 03:39 PM

হলকার স্টেডিয়ামে এর আগে টেস্ট হয়েছে একটি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়েছিলেন ভারতীয় স্পিনাররা। দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। ৪ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে মনে করেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা হতে পারে ভিন্ন উইকেটে।

“উইকেট কেমন হবে, জানি না। এখনও দুই দিন সময় আছে। এর আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখানে খেলেছি। ওই উইকেট ছিল অন্য রকম, এবার আরেক রকম হতে পারে। ব্যাটিং বা বোলিং যাই করি, আমাদের লক্ষ্য দ্রুত উইকেট বুঝে নেওয়া।”

স্টেডিয়ামের সবুজ কার্পেট থেকে আলাদা করা কঠিন প্রথম টেস্টের উইকেট। শেষ পর্যন্ত এমন থাকলে অশ্বিন-জাদেজাকে ছাপিয়ে মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মারা হবেন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের সিরিজে দারুণ সফল ছিলেন শামি ও উমেশ। ৩ ম্যাচে ১২.৭৬ গড়ে ১৩ উইকেট নেন শামি। দুই টেস্টে ১২.১৮ গড়ে ১১ উইকেট নেন উমেশ। সিরিজ ততটা ভালো কাটেনি ইশান্তের। ২ ম্যাচে নেন কেবল দুটি উইকেট। রাহানের আশা বাংলাদেশের বিপক্ষেও নিজেদের মেলে ধরবেন পেসাররা।

“এটা সত্যিই দেখতে খুব ভালো লাগছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে আমাদের পেসাররা খুবই ভালো করেছে। আমার মনে হয়, একক কোনো বোলারের নয়, কৃতিত্ব পুরো ইউনিটের প্রাপ্য। সব পেসারেরই এটা প্রাপ্য। শুধু দেশের বাইরে নয়, ভারতেও আমাদের পেসাররা দাপট দেখাচ্ছে, দেখতে ভালো লাগছে।”

অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ভারতের স্পিনারদের মূল হুমকি ধরে নিয়েই অনুশীলন করছেন তারা। তবে পেসারদেরও গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন সবাই।

“অতীতে ভারতের কেবল স্পিন বোলিং আক্রমণ ছিল। এখন ওদের শক্তিশালী পেস বোলিং ইউনিটও আছে। ওদের দুইটা বিভাগই এখন শক্তিশালী। ওদের বিপক্ষে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যদি আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারি তাহলে ভালো করতে পারব।”

“ওদের পাঁচ বোলারের কাউকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পাঁচ বোলারই ভালো, বিশ্বমানের। নির্দিষ্ট একজনকে গুরুত্ব দিলাম, বাকি চারজনকে নয়, বিষয়টা এমন নয়। ভালো করতে হলে পাঁচজনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

অনুশীলনে অবশ্য এমনটা দেখা যায়নি। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি পুরোটা সময় কাজ করেছেন স্পিন সামলানো নিয়ে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এদিন অনেকটাই দর্শক হয়ে ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক