সাকিবের বাজে শট ‘নার্ভাসনেস’ থেকে

প্রকৃতি সুযোগ করে দিয়েছিল প্রতিরোধের। বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারেনি। দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল অধিনায়ককে দিয়েই। বিরতির পর প্রথম বলেই অবিশ্বাস্য এক বাজে শটে আউট হন সাকিব আল হাসান। ম্যাচ শেষে জানালেন, স্নায়ুর চাপ থেকেই অমন শট খেলে ফেলেছেন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2019, 03:17 PM
Updated : 9 Sept 2019, 03:40 PM

শেষ দিনের লড়াইটা বৃষ্টির সৌজন্যে চলে এসেছিল শেষ ঘণ্টায়। স্রেফ ৭০ মিনিট উইকেট আঁকড়ে রাখলেই চলত। কিন্ত বিরতির পর প্রথম বলেই সেই শট খেলে সাকিবের বিদায়। চায়নাম্যান জহির খানের বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে। একদমই নিরীহ বলটি ছেড়ে দেওয়া যেত অনায়াসেই। সাকিব চাইলেন কাট শট খেলতে। হলেন কট বিহাইন্ড।

অধিনায়ককে হারানো দিয়েই হারার পথে বাংলাদেশের হাঁটা শুরু। বাকিরাও পারেনি দলকে উদ্ধার করতে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রসঙ্গে সাকিব কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন নিজেকে।

“আমি আমারটা বলতে পারি, বাকিদেরটা বলা কঠিন। আমি যেহেতু প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছি, দলের জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই দায় তো আমার ওপরই পরে। যেহেতু প্রথম বল, কাট শটটা না মারলেও হতো। না মারলেও হতো মানে, না মারার মতোই ছিল। আমি শটটা খেলে ফেলেছি এবং দল অনেকটা চাপে পড়ে গেছে।”

“আমি যেহেতু উইকেটে ছিলাম, দায়িত্ব আমার ওপরই ছিল মূল ভূমিকা পালন করার। সেটা যদি আমি করতে পারতাম, ড্রেসিং রুম অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করত। শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারতাম অথবা ড্র করার সম্ভাবনা ছিল। যেহেতু প্রথম বলে আউট হয়ে গেছি, কাজটা দলের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।”

কোন ভাবনা থেকে অমন শট খেলেছেন সাকিব? যদি উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকাই লক্ষ্য হয়, তাহলে গিয়েই অমন শট খেলার কথা নয়। আবার নিজের সহজাত ব্যাটিং করা যদি হয় চাওয়া, যেটা সাকিব নিজে বেশ পছন্দ করেন, সেক্ষেত্রে শট খেলার তাড়না আসতে পারে।

তবে সাকিব শোনালেন অন্য ব্যাখ্যা। চাপের কারণেই নাকি হয়ে গেছে অপ্রত্যাশিত শট। বৃষ্টির ফাঁকে দুপুর ১টায় একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ বল খেলেছিল বাংলাদেশ, তখন কোনো উইকেট পড়েনি। কিন্তু বিকেলে শেষ সময়ে তাকে পেয়ে বসেছিল চাপ।

“মানসিকতা এমন ছিল যে, এক ঘন্টা ১০ মিনিটের জন্য যেহেতু এসেছি, নার্ভাসনেস অনেক বেশি কাজ করছিল। দুপুর বেলা যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছি, তখন এতোটা কাজ করেনি। স্বাভাবিকভাবে আমি চাইছিলাম যে প্রথম বলটা যেন একটু ভালোভাবে মোকাবেলা করি। কিন্তু প্রথম বলে আউট হয়ে গেছি। আমারই ভুল।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক