‘ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় চার সিমার খেললে তো সমালোচনা হয় না’

প্রসঙ্গটি পুরানো। বছর তিনেক ধরেই দেশের ক্রিকেটে নিত্য সঙ্গী। ঘরের মাটিতে টার্নিং উইকেট বানিয়ে এক গাদা স্পিনার নিয়ে টেস্ট জয়ের চেষ্টা কতটুকু যৌক্তিক? আলোচনা-সমালোচনা, স্তুতি-বাঁকা দৃষ্টি, সবই আছে প্রবল। বাংলাদেশ দল যদিও নিজেদের কাছে পরিষ্কার। প্রশ্ন তুলে আসছেন যারা, তাদের দিকে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পাল্টা তির, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় একগাদা পেসার নিয়ে খেলা হলে তো প্রশ্ন ওঠে না!

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Sept 2019, 09:58 AM
Updated : 4 Sept 2019, 05:31 PM

দেশের মাটিতে টার্নিং উইকেট বানিয়ে টেস্ট জয়ের পরিকল্পনা প্রথম এসেছিল মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে। ২০১৬ সালে সেই সময়ের টেস্ট অধিনায়ক তার ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন তখনকার কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহেকে। কোচেরও দারুণ মনে ধরেছিল। ড্রেসিং রুমে অনেক কথা, বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ দিতে বড় ভূমিকা ছিল কোচের।

মাঠে সেটিকে কার্যকর করে তুলেছিলেন ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে স্পিনাররা। স্পিন ফাঁদ পেতে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে একই কৌশল নেওয়া হবে কিনা, সেটি অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ আফগানদের স্পিন আক্রমণও দারুণ। বিসিবি কর্তারা গত কিছুদিনে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে আফগানদের বিপক্ষে চট্টগাম টেস্টে স্পিন সহায়ক উইকেটের সম্ভাবনা কমই।

তবে এই ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন থেমে থাকছে না। নতুন মৌসুম শুরুর আগে যথারীতি উঠল সেই প্রসঙ্গ। স্পিন কৌশল নিয়ে অনেকের যে সমালোচনা, সাকিব সেটি কিভাবে দেখেন? বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কের সহাস্য উত্তর, বাইরের আলোচনা তিনি গায়ে মাখেন না।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে পাত্তা দেই না। কারণ যখন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় খেলা হয়, চার সিমার খেলে, কোনো স্পিনার খেলে না, সেগুলো নিয়ে তো আমরা সমালোচনা করি না। আমার কাছে মনে হয় না এগুলো নিয়ে চিন্তা করার কিছু আছে। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে একদমই ভাবি না।”

“আমাদের চিন্তা থাকবে ম্যাচ জেতার। সেটি যদি দুজন বা তিনজন সিমার নিয়ে খেলতে হয়, খেলব। এক সিমার নিয়ে খেলতে হলে খেলব। যেটাই আমরা পরিকল্পনা করব, সেটিতেই অটল থাকার চেষ্টা করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করব।”

কথা প্রসঙ্গেই সাকিব ফিরে গেলেন এই পরিকল্পনার শুরুর দিনগুলিতে। পেসারদের ওপর ভরসা রেখে আগে খুব একটা উপকৃত হয়নি দল। তাছাড়া, টেস্ট ড্র করেই তৃপ্তি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল দল। সাকিব জানালেন, সময় ও বাস্তবতার দাবি থেকেই কৌশল নিয়েছিল দল।

“এটা বলতে পারেন যে, আমরা যখন দেশে খেলি, তখন খুব বেশি ব্যবহার করি না পেসারদের। কারণ এখন আমরা জেতার কথা চিন্তা করি। আগে সবসময় ২ জন পেসার খেলিয়েছি আমরা। তখন সেভাবে সাফল্য পাইনি। সে কারণেই আমরা পরিকল্পনা বদলেছি এবং আমার মনে হয় না এটা ভুল সিদ্ধান্ত যে আমরা জেতার জন্য অন্য কিছু চিন্তা করছি।”

বাংলাদেশের পেসাররা কোথায় পিছিয়ে, সে বিষয়ে অবশ্য নিশ্চিত নন সাকিব। তবে নতুন পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট আসার পর পেসারদের উন্নতি হবে, আশা অধিনায়কের।

“বলা মুশকিল, পেসারদের কিসের অভাব। আমি যেহেতু পেস বোলার নই, ওদের মনমানসিকতা আমার জন্য বোঝা কঠিন। একটা কারণ হতে পারে যে ঘরোয়া ক্রিকেটে ওরা এতটা বোলিং করে অভ্যস্ত নয়। সেটা একটি কারণ হতে পারে। হয়তো ফিটনেসের সমস্যা হতে পারে। তবে যেটাই হোক, আমি নিশ্চিত, পেস বোলিং কোচ নতুন যিনি এসেছেন, বোলারদের সঙ্গে ওসব নিয়ে কাজ করবেন এবং এই জায়গাগুলিতে উন্নতি করবে ওরা।”

ঘরের মাঠে টেস্টে পেসাররা ভালো না করলেও তাদের যে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে, সেটিও দেখিয়ে দিলেন সাকিব।

“গুরুত্বপূর্ণ হলো যে পেসাররা যখনই সুযোগ পাবে, তখন যেন ভালো করতে পারে। তারা যেন দলকে বোঝাতে পারে যে, জায়গা তাদের প্রাপ্য। তাহলে ভালো হবে। বিদেশে গেলে তো বেশির ভাগ সময় ২-৩ পেসারই খেলে। ওই জায়গায় ওদের পারফরম্যান্স বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

“এই টেস্টের পরই আমাদের ভারত ও পাকিস্তানে সিরিজ, দুটিই দেশের বাইরে। তখন আমাদের পেস বোলারদের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে যদি টেস্ট জিততে হয়। ওদের ভূমিকা নাই, এটা তাই ঠিক নয়। তবে জায়গা মতো ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক