ফরহাদ-ইয়াসিরদের সম্ভাবনায় বৃষ্টির জল

ডাবলিনের আকাশ যখন কাঁদছে, ফরহাদ রেজা, ইয়াসির আলিদের হৃদয়েও কি হচ্ছিল বর্ষণ? আশার দুয়ার ছোট হতে দেখে নিশ্চয়ই দমবন্ধ লাগছিল তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসানের? বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া একটু হলেও যে কমে গেছে এই টুর্নামেন্টে তাদের মাঠে নামার সম্ভাবনা।

আরিফুল ইসলাম রনিডাবলিন থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 May 2019, 05:09 PM
Updated : 9 May 2019, 05:09 PM

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৫ জনের বাইরে চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে আছেনএই চার জন। বিশ্ব আসরের দলে পরিবর্তনের সুযোগ আছে ২৩ মে পর্যন্ত। নাটকীয় কোনো পালাবদলেবিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্নও খানিকটা জিইয়ে আছে তাদের। স্বপ্নের ‘লাইফলাইন’ এই টুর্নামেন্ট।একটি ম্যাচে সুযোগ পেলেও অসাধারণ কিছু করে যদি নাড়া দেওয়া যায় টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায়!

বিশ্বকাপ দলে যদি জায়গা নাও মেলে, ভালো কিছু করতে পারলে,অন্তত বিশ্বকাপের পরের পথচলার জন্যও জোর দাবি জানিয়ে রাখা যেত। কিন্তু বৃষ্টিতেভেসে যাওয়া ম্যাচের পর সুযোগটি আসবে তো? প্রথম ম্যাচের উড়ন্ত জয়ের পর আয়ার‍ল্যান্ডেরবিপক্ষে ম্যাচেও জয় ছিল প্রত্যাশিত। দলের চাওয়া ছিল বোনাস পয়েন্টসহ জয়। কিন্তুমিলেছে মোটে ২ পয়েন্ট। তাতে একটু হলেও কঠিন হয়েছে ফাইনালের পথ।

দলের ভাবনা ছিল, ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে গেলে প্রাথমিক পর্বেরশেষ ম্যাচে পরখ করে দেখা হতো কয়েকজনকে। কিন্তু ফাইনালে উঠতে যদিনির্ভর করতে হয় শেষ ম্যাচের ফলে, দল নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকিতে যেতেচাইবে না।

এমনিতে অনুশীলনে নিজেদের উজার করে দিচ্ছেন চার জনই। জিমেওতারা নিয়মিত মুখ। ব্যাটিং-বোলিং কোচরা আলাদা কাজ করছেন তাদের নিয়ে। দলেউপস্থিতি প্রাণবন্ত। যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন মূল গ্রুপের সঙ্গে মিশে যেতে এবং টিমম্যানেজমেন্টের নজর কাড়তে। তবে শুধু অনুশীলন দলে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের দাবিজানানো হবে খুবই কঠিন।

ওই চারজনের জন্য কাজটি কঠিন হয়ে গেল, উপলব্ধি করতে পারছেনস্টিভ রোডসও। বিশেষ করে বাংলাদেশ কোচ আলাদা করে বললেন ফরহাদ ও ইয়াসিরের কথা।নাঈমকে কোচ এর মধ্যেই দেখেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তাসকিনকে দেখেছেন বিপিএলে। কিন্তুদীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা ফরহাদ ও নবীন ইয়াসিরকে দেখার পরিকল্পনা ছিল কোচের।

সেই পরিকল্পনায় খানিকটা জল ঢেকেছে আইরিশ বৃষ্টি। কোচও সেটিউপলব্ধি করতে পারছেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর কোচের কণ্ঠেফুটে উঠল হতাশা।

“আজকের ম্যাচটি জিতলে সামনে হয়তো আমরা ওদের পরখ করতে পারতাম।তা হলো না, কেবল দুটি পয়েন্টই পেলাম। ওদেরকয়েকজনের খেলার সম্ভাবনা তাতে কিছুটা হলেও কমে গেল, যা খুবই হতাশার।”

তবে বরাবরই ইতিবাচক মানসিকতার বলে পরিচিত রোডস আশা ছাড়ছেননা এখনই। কোচের চাওয়া, সমীকরণ পক্ষে এনে বাংলাদেশ ফাইনাল নিশ্চিত করবে আগেই। আরশেষ পর্যন্ত যদি তাদের কারও ম্যাচ খেলা না হয়, তার পরও ইতিবাচক প্রাপ্তির কমতিদেখছেন না তিনি।

“দুনিয়ার সবকিছু তো আদর্শ নয়। ওরা যারাআছে, বিশেষ করে ইয়াসির ও ফরহাদ, ওদেরকে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখেছিআমি। ভালো লেগেছে ওদের খেলা। এখানে কাছথেকে দেখতে চেয়েছিলাম। ওদের পেশাদারীত্ব, কিভাবে দলে মিশতে পারে, এসব দেখতে চেয়েছিলাম।দুজনই সেসব খুব ভালো পেরেছে।”

“আশা করি ওরা দুজনই সুযোগ পাবে। যদি সুযোগ না হয়, এরপরও ইতিবাচকঅনেক কিছু আছে। ওদেরকে আরও ভালো করে জানতে পারছি, এই পরিবেশে দেখছি। ওরাও নিজেদের দেখাতেপারছে, বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে, এসবও কম নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখতেপারলে ভালো লাগত। তবে সেই সুযোগ না হলেও যেটুকু হচ্ছে তা কম নয়।”

সুযোগ পাওয়া, না পাওয়ার পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় পুরোনোপ্রশ্নটিও আবার উঠছে নতুন করে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে, মূলত প্রস্তুতির জন্য অংশনেওয়া টুর্নামেন্টে ১৯ জনের বিশাল স্কোয়াড কতটা জরুরি ছিল? কোচিং স্টাফের কাজওঅনেক কঠিন হয়ে ওঠে এত ক্রিকেটারকে অনুশীলনে সামলাতে।

সেই বাস্তবতা অস্বীকার করছেন না কোচ। তবে স্কোয়াডের আকার বড়করার দাবিটা মূলত এসেছিল তার কাছ থেকেই। তাই নিজের কাজ সামলানোর চেয়ে দলেরপ্রয়োজনের কথাই তুলে ধরলেন আবার।

“কোচ হিসেবে কাজটা কঠিন। আমরা চাই গুছিয়ে অনুশীলন করাতে।অনুশীলনে সবাইকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়াও জরুরি। সেদিক থেকে আমার কাজটা কঠিন। তবেতাতে আমার আপত্তি নেই। আমরা চেয়েছিলাম বাড়তি কিছু ক্রিকেটারকে দেখতে। আগেই বলেছি,কি কারণে ওদেরকে আনা হয়েছে। সেসবও কম নয়।”

“আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে দেখতে। আশা করি পরের ম্যাচে আমরাপ্রত্যাশিত পয়েন্ট পাব এবং শেষ ম্যাচে ওদেরকে সুযোগ দিতে পারব।”

পরের ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের হারালেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবেবাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে সুযোগ থাকবে কাউকে পরখ করার। ইয়াসির-ফরহাদ-তাসকিনরাঅপেক্ষায় সেই সুযোগের।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক