মোহামেডানকে জয়ী ঘোষণা, ব্রাদার্সের পাল্টা অভিযোগ

ম্যাচের ফল বলছে, “ব্রাদার্স খেলায় আপত্তি জানানোয় মোহামেডানকে জয়ী ঘোষণা।” ম্যাচ রেফারি জানালেন, বৃষ্টির পর খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ে মাঠে নামেনি ব্রাদার্স। কিন্তু ব্রাদার্স বলছে, খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত তাদের অফিসিয়ালি ও সময়মতো জানানো হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানিয়েছে ক্লাবটি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 April 2019, 12:58 AM
Updated : 2 April 2019, 01:57 PM

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচটি মঙ্গলবার ছিল বিকেএসপিতে। ৫০ ওভারে মোহামেডান তোলে ৩১৬ রান।

মোহামেডানের ইনিংসের পরই নামে বৃষ্টি। পরে বৃষ্টি থামার পর ব্রাদার্সের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০ ওভারে ১৭৪। কিন্তু ব্রাদার্সের ইনিংস শুরুর আগেই ম্যাচ শেষ। জয়ী ঘোষণা করা হয় মোহামেডানকে।

কেন ও কিভাবে মোহামেডান জয়ী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সেটির ব্যাখ্যা দিলেন ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ।

“বৃষ্টির সময় কাভারের ফুটো দিয়ে উইকেটের একটি অংশ একটু ভিজে গিয়েছিল। যেখানে নরম্যালি বল পিচ করার কথা নয়। এরপরও আমরা অপেক্ষা করেছি। রোদ উঠে উইকেট শুকানোর পরই খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আম্পায়াররা। সাধারণত খেলা শুরু অন্তত ১০ মিনিট আগে দুই দলকে জানানোর কথা। ৩টা ৫৫ মিনিটে দুই অধিনায়ককেই জানানো হয়েছে, ৪টা ৬ মিনিটে খেলা শুরু হবে।”

“আম্পায়াররা ও মোহামেডান সময়মতোই মাঠে নামে। ব্রাদার্স মাঠে নামেনি। ৯ মিনিট অপেক্ষার পর আম্পায়াররা ৪টা ১৫ মিনিটে মাঠ ছাড়েন। কারণ তখন আর ২০ ওভার পুরো হওয়ার মতো সময় অবশিষ্ট ছিল না। ব্রাদার্স মাঠে না নামায় নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে ‘রিফিউজড টু প্লে’ দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।”

ব্রাদার্স কেন মাঠে নামেনি, সেটি জানেন না বলে দাবি করলেন ম্যাচ রেফারি।

“আমি ঠিক জানি না তারা কেন মাঠে নামেনি। ম্যাচ শেষে তাদের অফিসিয়ালরা এসেছিল, তাদেরকে কারণ ব্যাখ্যা করেছি। দুই আম্পায়ার যেভাবে সবকিছু পরিচালনা করেছেন এবং যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে ম্যাচ রেফারি হিসেবে আমি সন্তুষ্ট।”

তবে ম্যাচ রেফারির বক্তব্যের বেশ কয়েকটি জায়গা নিয়েই দ্বিমত জানালেন ব্রাদার্স অধিনায়ক মোহাম্মদ শরিফ। অভিজ্ঞ এই বোলারের দাবি, খেলতে তাদের আপত্তি ছিল না।

“উইকেটের মাঝে এক পাশে ভেজা ছিল। ব্যাটসম্যানরা সাধারণত ওই অংশ দিয়েই দৌড়ে রান নেয়। সেখানে পিছলে পড়ার শঙ্কা ছিল। এরপরও আমাদের খেলতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু আমাদেরকে তো ঠিকমতো জানানোই হয়নি!”

“৩টা ৫৭ মিনিটে আমাদেরকে আম্পায়ারা বলেছেন ৪ টা ৬ মিনিটে খেলা শুরু হতে পারে। মানে তখনও নিশ্চিত নয়। এটি বলারও মিনিট তিনেক আগে, তারা বলছিল, এই ভেজা উইকেটে খেলা আর হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু হুট করে দেখি আম্পায়াররা মাঠে নেমে যাচ্ছেন। বলা হলো যে ২০ ওভারে ১৭৪ করতে হবে। আমরা বললাম যে নতুন নির্ধারিত লক্ষ্য আমাদেরকে অফিসিয়ালি জানান। তারা বললেন, আসছে।”

শরিফের দাবি, তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আম্পায়াররা খেলা শেষের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।

“আসছে বলেই তো আম্পায়াররা মাঠে নেমে যেতে পারেন না। কত ওভারে কত করতে হবে, এটি ম্যাচ অফিসিয়ালদের স্বাক্ষর করা কাগজে অফিসিয়ালি জানানোর পর আমরা সেটি জানতে পারব। সেরকম কিছু করা হয়নি। ২০ ওভারে ২০০ করতে হলেও আমাদের খেলতে আপত্তি ছিল না। আমরা গা গরমও করা শুরু করেছিলাম। কিন্তু অফিসিয়ালি না জানিয়ে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুত হওয়ার সময়ও দেওয়া হয়নি।”

শরিফ জানালেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা তাদের বক্তব্য ও অভিযোগ জানাবেন। 

বিতর্কের আগে ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন মোহামেডানের ব্যাটসম্যানরা। অভিষেক মিত্র ও ইরফান শুক্কুর উদ্বোধনী জুটিতে দলকে এনে দেন ১৭৪ রান।

৬৮ করে আউট হন অভিষেক। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি ইরফান। আউট হয়েছেন ১০৫ বলে ৯২ রানে।

চারে নেমে রকিবুল হাসান খেলেন ৩৫ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস। এরপর মোহাম্মদ আশরাফুলের ১২ বলে ৬ ও নাদিফ চৌধুরির ১৭ বলে ১৪ রান একটু কমিয়ে দিয়েছিল রানের গতি। শেষ দিকে সোহাগ গাজীর ২৫ বলে অপরাজিত ৪৩ রান মোহামেডানকে এনে দেয় বড় সংগ্রহ।

৩১৭ রানের প্রথম লক্ষ্য বা ২০ ওভারে ১৭৪ রানের পরের লক্ষ্য, দুটিই তাড়া করার মতো ফর্মে ছিল ব্রাদার্সের টপ ও মিডল অর্ডার। কিন্তু কতটা পারতেন তারা, সেটি দেখাই হলো না। বিতর্কের ডামাডোলে অপমৃত্যু হলো সম্ভাব্য রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মোহামেডান: ৫০ ওভারে ৩১৬/৯ (অভিষেক ৬৮, ইরফান ৯২, চতুরঙ্গা ১১, রকিবুল ৫০, আশরাফুল ৬, নাদিফ ১৪, সোহাগ ৪৩*, আলাউদ্দিন ২, নিহাদ ২, সাকলাইন ৬, শাহাদাত ০*; শরিফ ১০-০-৪৪-৩, সাজেদুল ৮-০-৪৩-৩, রনি ৭-০-৬৫-১, শরিফউল্লাহ ৯-০-৪২-০, নাঈম জুনিয়র ৭-০-২৬-০, বিশ্বনাথ ৭-০-৬৪-১, ইয়াসির ২-০-১৬-০)।

ফল: ব্রাদার্স খেলতে আপত্তি করেছে জানিয়ে মোহামেডানকে জয়ী ঘোষণা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক