গেইলকে আদর্শ মেনে গেইলের রূপেই জাজাই

আদর্শ মানেন ক্রিস গেইলকে। ইদানিং তার ব্যাটিং প্রায়ই মনে করিয়ে দেয় গেইলকেই। বিপিএলে অভিষেকে ঝড়ো এক ইনিংস খেলার পর হজরতউল্লাহ জাজাই বললেন, ২২ গজে যাওয়ার পর তার চাওয়া থাকে স্রেফ ছক্কার পর ছক্কা মারা!

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Jan 2019, 04:43 PM
Updated : 5 Jan 2019, 04:57 PM

বিপিএলের প্রথম দিনেই ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৭ ছক্কায় করেছেন ৪১ বলে ৭৮ রান। তার গত কিছুদিনের ফর্মের ধারাবাহিকতায়ই এই ইনিংস। গত অক্টোবরে আফগান প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে ওভারে মেরেছিলেন ছয়টি ছক্কা। ১২ বলে ফিফটি করে ছুঁয়েছিলেন টি-টোয়েন্টির বিশ্বরেকর্ড।

একই টুর্নামেন্টের আরেক ম্যাচে ৪৪ বলে সেঞ্চুরি করেন। খেলেন ৫৫ বলে ১২৪ রানের ইনিংস। গত মাসে টি-টেন লিগে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ৩৫ বলে।

বিপিএলে আর্বিভাবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ সেরা হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, তার আদর্শ ক্রিস গেইল। তার ব্যাটিং দর্শনও গেইলের মতোই, টাইমিং আর পেশীশক্তিই মূল ভরসা। ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি জানালেন, নিজের সামর্থ্যে তার আস্থা প্রবল।

“কোনো রহস্য নেই (বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের)। আমি স্রেফ নিজের ওপর, নিজের শটে বিশ্বাস রাখি। অনুশীলনে আমি সবসময় ছক্কার অনুশীলনই করি। আজকে কোচ ও অধিনায়ক আমাকে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, আমি সেটিই করার চেষ্টা করেছি। আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন নিজের মতো খেলতে।”

তার ব্যাটিং দেখে যেমনটি মনে হয়েছে, উইকেট কিন্তু ততটা সহজ ছিল না। দিনের প্রথম ম্যাচে তো উইকেট ছিল ভীষণ মন্থর। বল টার্ন করেছে, গ্রিপ করেছে। সন্ধ্যার ম্যাচে শিশির পড়ে বল একটু ভালো ব্যাটে এসেছে। তার পরও খুব ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। কিন্তু জাজাই জানালেন, উইকেট তার কাছে কখনোই বড় ব্যাপার নয়।

“উইকেট সহজ ছিল না। বেশ কঠিন ছিল। তবে আমি ভালো ফর্মে আছি, তাই যে কোনো পিচেই ছক্কা মারতে পারি।”

যেভাবে ছক্কার ঝড় তুলে যাচ্ছেন, সেটি যে টানা ধরে রাখা সম্ভব নয়, জানেন সেই বাস্তবতা। তাই নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুলতে চান সময়ের সঙ্গে।

“বোলাররা অবশ্যই আমার দুর্বলতা বের করার চেষ্টা করবে। আমিও কাজ করে যাব। ক্রিকেটে সবসময়ই শিখতে হয়। আমি চেষ্টা করব শেখার।”

উন্নতির ধারায় এগিয়ে যেতে চান সামনে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আলোড়ন তুললেও সামনে তার স্বপ্ন, বিশ্বকাপ খেলা।

“আমি চেষ্টা করছি ওয়ানডেতে নিজের জায়গা করে নিতে। আশা করছি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক