বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জিম্বাবুয়ের বড় লিড

প্রথম দিন শেষে দুই দল ছিল প্রায় সমতায়। দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনে দ্রুত জিম্বাবুয়ের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ দুই সেশনে স্বাগতিকদের ১৪৩ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বসেছে জিম্বাবুয়ে।

অনীক মিশকাতঅনীক মিশকাতবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Nov 2018, 04:14 AM
Updated : 4 Nov 2018, 03:50 PM

শেষ বেলায় উইকেট পেল না বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলায় জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং করার কথা ছিল ৮ ওভার। কিন্তু আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয় ওভার শেষে দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন দুই আম্পায়ার।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১/০। হ্যামিল্টন মাসাকাজা ১ ও ব্রায়ান চারি ০ রানে অপরাজিত আছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৮২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩ (লিটন ৯, ইমরুল ৫, মুমিনুল ১১, শান্ত ৫, মাহমুদউল্লাহ ০, মুশফিকুর ৩১, আরিফুল ৪১*, মিরাজ ২১, তাইজুল ৮, অপু ৪, আবু জায়েদ ০; জার্ভিস ১১-২-২৮-২, চাটারা ১০-৪-১৯-৩, মাভুটা ৬-০-২৭-০, রাজা ১২-২-৩৫-৩, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৮-২-২১-০, উইলিয়ামস ৪-০-৫-১)

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ২ ওভারে ১/০ (হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১*, চারি ০*; তাইজুল ১-০-১-০, অপু ১-১-০-০)

১৪৩ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

লড়াই করলেন কেবল অভিষিক্ত আরিফুল হক। টিকলেন না অন্যরা। গড়ে উঠলো না তেমন কোনো জুটি। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে পেল ১৩৯ রানের বড় লিড। টেস্টে টানা সপ্তম ইনিংসে দুইশ রানের নিচে থামল বাংলাদেশ।

১১ নম্বর ব্যাটসম্যান আবু জায়েদ চৌধুরীকে আগলে রেখে খেলতে চেয়েছিলেন আরিফুল। টেন্ডাই চাটারার প্রথম পাঁচটি বল ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান খেলেন ডট। স্ট্রাইক ধরে রাখতে শেষ বলে নিতে চেয়েছিলেন সিঙ্গেল। আরিফুল স্কয়ার লেগে বল পাঠালে দৌড় শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যান। রান সম্ভব নয় দেখে ফিরে যান আরিফুল কিন্তু পড়মড়ি করে দৌড়ানো আবু জায়েদ ফিরতে পারেননি। তার রান আউটে ১৪৩ রানে থামে বাংলাদেশ।

অভিষেক টেস্টে নিজের প্রথম ইনিংসে ৯৬ বলে তিন চারে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন আরিফুল।

রাজার তৃতীয় শিকার অপু

আরও একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিলেন সিকান্দার রাজা। অফ স্পিনে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়ে বড় লিডের আশা উজ্জ্বল করলেন এই অলরাউন্ডার।

অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু যেতে পারেননি বলের কাছে। শরীর থেকে বেশ দূরের বল তবুও খেললেন ব্যাটে। কানায় লেগে সিলি পয়েন্টে যাওয়া ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ব্রায়ান চারি। ১৪৩ রানে নবম উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

১৫ বলে এক বাউন্ডারিতে ৪ রান করে ফিরেন অপু। ক্রিজে আরিফুল হকের সঙ্গী আবু জায়েদ চৌধুরী।

রাজার দ্বিতীয় শিকার তাইজুল
 
তাইজুল ইসলাম বল ছাড়ছিলেন খুব কম। সব খেলার মানসিকতাই তার কাল হল। সিকান্দার রাজার অফ স্পিনে ফিরে গেলেন কট বিহাইন্ড হয়ে। 
 
স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি তাইজুল। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ যায় কিপার রেজিস চাকাভার কাছে। ১৩১ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
 
২৪ বলে ৮ রান করেন তাইজুল। ক্রিজে আরিফুল হকের সঙ্গী আরেক অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু।

মিরাজকে থামালেন উইলিয়ামস
 
ব্যাটিংয়ে দলকে পথ দেখানো শন উইলিয়ামস সফল বোলিংয়েও। বাঁহাতি স্পিনে মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে ভেঙেছেন সপ্তম উইকেট জুটির প্রতিরোধ। 
 
লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন দ্রুত রান তোলা মিরাজ। একটু বাড়তি লাফানো বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ফিরতি ক্যাচ যায় বোলার উইলিয়ামসের কাছে। ৩৩ বলে তিন চারে ২১ রান করে বিদায় নেন মিরাজ।
 
১০৮ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ক্রিজে অভিষিক্ত আরিফুল হকের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম।

মুশফিককে ফেরালেন জার্ভিস
 
অনেকবার দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলা মুশফিকুর রহিম এবার পারলেন না। বাংলাদেশের অন্যতম এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেন থিতু হয়ে। 
 
চা-বিরতির পর প্রথম বল পয়েন্ট দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান মুশফিক। পরের বলে তাকে চমকে দেন কাইল জার্ভিস। একটু বাড়তি লাফানো ইন সুইঙ্গার ঠিক মতো খেলতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে রেজিস চাকাভার গ্লাভসে। 
 
৫৪ বলে পাঁচ চারে ৩১ রান করে ফিরেন মুশফিক। ৭৮ রানে স্বাগতিকরা হারায় ষষ্ঠ উইকেট। 
 
ক্রিজে অভিষিক্ত আরিফুল হকের সঙ্গী আরেক অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

দ্বিতীয় সেশনে বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী
 
তিনশ রানের আগেই জিম্বাবুয়েকে থামানোর খুশি অনেকটাই মিলিয়ে গেছে এক সেশনের বাজে ব্যাটিংয়ে। অতিথিদের ২৮২ রানের জবাব দিতে নেমে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে দ্বিতীয় সেশনে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যাদের চারজনই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। 
 
চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় স্বাগতিকদের স্কোর ৭৪/৫। একবার জীবন পাওয়া মুশফিকুর রহিম ২৭ ও আরিফুল হক ৯ রানে ব্যাট করছেন। এখনও ২০৮ রানে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে।
 
দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ৭২ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
 
৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন পেসার টেন্ডাই চাটারা। একটি করে উইকেট নেন পেসার কাইল জার্ভিস ও অফ স্পিনার সিকান্দার রাজা।

জীবন পেলেন মুশফিক
 
ফিরে গেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে স্বাগতিকরা তাকিয়ে মুশফিকুর রহিমের দিকে। আশা হয়ে টিকে থাকা কিপার  ব্যাটসম্যান বেঁচে গেলেন একটুর জন্য। 
 
সিকান্দার রাজার একটু ঝুলিয়ে দেওয়া বল বেরিয়ে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মুশফিক। ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তিনি। স্টাম্পিংয়ের দারুণ সুযোগ এসে যায় রেজিস চাকাভার সামনে। তবে জিম্বাবুয়ে কিপর বল স্পর্শই করতে পারেননি। বাই চার পেয়ে যায় বাংলাদেশ।  সে সময় ১৮ রানে ব্যাট করছিলেন মুশফিক। বাংলাদেশের রান ছিল ৫৬।

মুমিনুলের প্রতিরোধ ভাঙলেন রাজা

পেসাররা আক্রমণ থেকে সরার পর একটু আলগা হয়েছিল চেপে বসা ফাঁস। স্পিন মোটামুটি ভালো খেলছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। তবে সেই স্পিনেই ভাঙল প্রতিরোধ। মুমিনুল হককে ফিরিয়ে দিলেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা।

অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে আরও বেরিয়ে যাওয়া বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি মুমিনুল। শট খেলে ফেলেন বল বেশ দূরে থাকতে, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ যায় স্লিপে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার কাছে।

৩৮ বলে ১১ রান করে ফিরেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল। ভাঙে ৩০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী অভিষিক্ত আরিফুল হক।

বোল্ড হয়ে বিপদ বাড়ালেন মাহমুদউল্লাহ

ইমরুল কায়েস যেভাবে আউট হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহও ঠিক সেভাবেই টেন্ডাই চাটারার বলে বোল্ড হয়ে গেলেন। অধিনায়ককে হারিয়ে আরও চাপে পড়লো বাংলাদেশ।

মাত্র দুই বল টিকলেন মাহমুদউল্লাহ। আলসে এক শটে ফিরে গেলেন দলকে বিপদে ফেলে। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে একটু ভেতরে ঢোকা বল অধিনায়ক খেলেন আড়াআড়ি ব্যাটে। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল লাগে স্টাম্পে।

দুই বলে শূন্য রানে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ। ১৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

ক্রিজে মুমিনুল হকের সঙ্গী অনেক বিপদের ত্রাতা মুশফিকুর রহিম।

রিভিউ নিয়ে শান্তকে ফেরাল জিম্বাবুয়ে

দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসে দ্রুত ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শরীরের বেশ দূরের বল খেলতে গিয়ে হয়েছেন কট বিহাইন্ড।

অফ স্টাম্পের চ্যানেল ধরে টানা বল করে যাওয়ার আরেকটি পুরস্কার পেলেন টেন্ডাই চাটারা। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে ঠিক মতো খেলতে পারেননি শান্ত। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে কিপার রেজিস চাকাভার গ্লাভসে।

আম্পায়ার কট বিহাইন্ডের আবদেনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। আল্ট্রা এজে মিলে ব্যাটের কানা স্পর্শের প্রমাণ। পাঁচ বলে এক চারে ৫ রান করে ফিরে যান শান্ত। ১৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

টিকলেন না লিটনও

দ্রুত দুই ওপেনারকে হারাল বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসের পর ফিরে গেলেন লিটন দাসও।

নবম ওভারে কাইল জার্ভিসের প্রথম বলে ব্যাকফুট পাঞ্চে দারুণ এক বাউন্ডারি হাঁকান লিটন। এক বল পর বাজে এক শটে বিদায় নেন ডানহাতি এই ওপেনার। অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বলে ধরা পড়েন রেজিস চাকাভার গ্লাভসে।

২৫ বলে এক চারে ৯ রান করে ফিরেন লিটন। ১৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

শুরুতেই শেষ ইমরুল

লাঞ্চের পর প্রথম বলেই যে শট খেলেছিলেন ইমরুল, আউট হতে পারতেন সেটিতেই। টেন্ডাই চাটারার সেই বল অল্পের জন্য স্পর্শ করেনি ব্যাটের কানা। খানিকপর সেই চাটারার বলেই ব্যাটের কানায় লেগে ফিরলেন ইমরুল।

অফস্টাম্পে গুড লেংথ বল টানা করে যাচ্ছিলেন চাটারা। গুড লেংথ থেকে একটু পেছনে পিচ করে লাফিয়ে ওঠা বলে ইমরুল ব্যাট পেতে দিলেন আড়াআড়িভাবে। বল ব্যাটে ছুঁয়ে লাগল স্টাম্পে।

৫ রানে ফিরলেন ইমরুল। টেস্টে তার দুর্দশা দীর্ঘায়িত হলো আরও। টানা ১৭ ইনিংস নেই ফিফটি। ৮ রানে বাংলাদেশ হারাল প্রথম উইকেট।

লাঞ্চের আগে ১ ওভার ব্যাটিং বাংলাদেশের

লাঞ্চের আগে স্বাগতিকরা ব্যাটিং করতে হয় কেবল ১ ওভার। কাইল জার্ভিসের সেই ওভার থেকে একটি করে সিঙ্গেল নেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। বাংলাদেশ ২/০।

জিম্বাবুয়েকে ২৮২ রানে থামালেন তাইজুল

পূরণ হল বাংলাদেশের লক্ষ্য, পারল না জিম্বাবুয়ে। অতিথিদের ৩২০ রানের মধ্যে থামাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে চেয়েছিল তিনশ ছোঁয়া রান। তাইজুল ইসলামের স্পিনে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল থেমেছে ২৮২ রানে।

দ্বিতীয় দিন ৪৬ রান যোগ করতে শেষ ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে, যার চারটিই নেন তাইজুল।

জার্ভিসকে বিদায় করার পরের বলে টেন্ডাই চাটারার উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি এই স্পিনার। বল ডিফেন্স করতে গিয়ে সিলি মিড অফে লিটন দাসকে সহজ ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান। 

৬ চারে ১৯২ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার মুর।

তাইজুল ১০৮ রানে নেন ৬ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনে নাজমুল ইসলাম অপু নেন দুটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১১৭.৩ ওভারে ২৮২ (আগের দিন ২৩৬/৫) (মুর ৬৩*, চাকাভা ২৮, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৪, মাভুটা ৩, জার্ভিস ৪, চাটারা ০; আবু জায়েদ ২১-৩-৬৮-১, তাইজুল ৩৯.৩-৭-১০৮-৬, আরিফুল ৪-১-৭-০, মিরাজ ২৭-৮-৪৫-০, নাজমুল অপু ২৩-৬-৪৯-২, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-৩-১)

তাইজুলের ৫ উইকেট

সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে পাঁচ উইকেট পেলেন তাইজুল ইসলাম। সিলেট টেস্টে তার পঞ্চম শিকার কাইল জার্ভিস।

তাইজুলের বাঁহাতি স্পিন বোলারের মাথার ওপর দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন জার্ভিস। ঠিক মতো শট খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে।  টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার পাঁচ উইকেট পেলেন তাইজুল, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার।

২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে সবশেষ পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল। চলতি বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন ইনিংসে নেন চারটি করে উইকেট।

৯ বলে চার রান করে ফিরে যান জার্ভিস। তার বিদায়ের সময় ১১৭.২ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৮২/৯। ক্রিজে পিটার মুরের সঙ্গী টেন্ডাই চাটারা।

মাভুটাকে দ্রুত বিদায় করলেন নাজুমল

দ্বিতীয় দিনের সকালে তাইজুল ইসলাম দুই উইকেট নেওয়ার পর আঘাত হানলেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। অভিষিক্ত এই স্পিনার ফিরিয়ে ফিরিয়ে দিলেন আরেক অভিষিক্ত ব্র্যান্ডন মাভুটাকে।

লেংথের বল পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের নয় নম্বর ব্যাটসম্যান। স্টাম্প সোজা বল ব্যাটের কানা ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান মাভুটা।

১১৩ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৭৩/৮। ক্রিজে পিটার মুরের সঙ্গী কাইল জার্ভিস।

তাইজুলের চতুর্থ শিকার ওয়েলিংটন

প্রথম ঘণ্টার পানি বিরতির পর উইকেট হারাল জিম্বাবুয়ে। অভিষিক্ত ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে দ্রুত ফিরিয়ে দিলেন তাইজুল ইসলাম।

বাঁহাতি স্পিন পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ওয়েলিংটন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ যায় মুশফিকুর রহিমের কাছে।

২৮ বলে চার রান করে ফিরে যান ওয়েলিংটন। ১১০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৬৯/৭। ক্রিজে পিটার মুরের সঙ্গী আরেক অভিষিক্ত ব্র্যান্ডন মাভুটা

সৌভাগ্যের ক্যাচে চাকাভার বিদায়

জিম্বাবুয়ের জমে যাওয়া জুটি ভাঙল সৌভাগ্যের এক ক্যাচে। শর্ট লেগে কোনোমতে ক্যাচ নিয়ে রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

তাইজুল ইসলামের বলে শট মাটিতে রাখতে পারেননি চাকাভা। ক্যাচ যায় শান্তর কাছে। শুরুতে হাতে নিতে পারেননি এই তরুণ। তবে শরীর দিয়ে ভালোভাবেই কাভার করেন। পায়ে-হাতে লাগার পর বল আটকে যায় দুই পায়ের ফাঁকে। তার এই ক্যাচে ভাঙে ৬০ রানের জুটি।

৮৫ বলে দুটি চারে ২৮ রান করে ফিরেন চাকাভা। ১০৩ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৬১/৬। ক্রিজে পিটার মুরের সঙ্গী অভিষিক্ত ওয়েলিংটন মাসাকাদজা।

দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মুরের ফিফটি

পরিস্থিতির দাবি দারুণভাবে মিটিয়ে চলেছেন পিটার মুর। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি।

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে চার হাঁকিয়ে ১৪৫ বলে পঞ্চাশ রানে যান মুর। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান যেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ক্রিজে থেকে পৌঁছান ফিফটিতে। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার।

১০১ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৬০/৫। মুর ৫৩ ও চাকাভা ২৮ রানে ব্যাট করছেন।

মুর-চাকাভার জুটিতে পঞ্চাশ

দ্বিতীয় দিনের সকালে সতর্ক জিম্বাবুয়ে। ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন পিটার মুর ও রেজিস চাকাভা। দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

তাইজুল ইসলামের বলে মুরের বাউন্ডারিতে ১৩০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে জুটির রান।

৯৯ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৫৪/৫। মুর ৪৭ ও চাকাভা ২৮ রানে ব্যাট করছেন।

জিম্বাবুয়েকে ৩২০ রানের ভেতর থামাতে চায় বাংলাদেশ

ক্রিজে জিম্বাবুয়ের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের সবশেষ জুটি। রোববার সকালেই একটি উইকেট নিতে পারলে অতিথিদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া সম্ভব। প্রতিপক্ষের শক্তি আর নিজেদের সামর্থ্য বিবেচনা করে দ্বিতীয় দিন জিম্বাবুয়েকে ৩২০ রানের ভেতরে থামাতে চায় বাংলাদেশ। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে সকাল দশটায়। প্রথম দিন শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৩৬/৫। পিটার মুর ৩৭ ও রেজিস চাকাভা ২০ রানে ব্যাট করছেন।

দ্বিতীয় নতুন বলে খেলা হয়েছে মোটে ১১ ওভার। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সুইংয়ের আশায় আছেন আবু জায়েদ চৌধুরী। কাটার ধরলে দ্বিতীয় দিন আরও বেশি সাফল্য সম্ভব বলে মনে করেন তরুণ এই পেসার।

মুর-চাকাভার দিকে তাকিয়ে জিম্বাবুয়ে

বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের সবশেষ জুটির দিকে তাকিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। শন উইলিয়ামস মনে করেন, পিটার মুর-রেজিস চাকাভার জুটির ওপর নির্ভর করবে প্রথম ইনিংসে কত দূর যাবেন তারা।

উইলিয়ামস জানান, প্রথম ইনিংসে তিনশ-সাড়ে তিনশ রানের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় দিন নামবেন তারা। ৮৮ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, প্রথম দিন শেষে দুই দলের কেউ এগিয়ে নেই। যদি জিম্বাবুয়ে একটি উইকেট কম হারাত আর ২৫০/২৬০ রান করতে পারত তাহলে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান এগিয়ে রাখতেন নিজেদেরই।

প্রথম দিনের খেলা শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৯১ ওভারে ২৩৬/৫ (মাসাকাদজা ৫২, চারি ১৩, টেইলর ৬, উইলিয়ামস ৮৮, রাজা ১৯, মুর ৩৭*, চাকাভা ২০*; আবু জায়েদ ১৮-৩-৬১-১, তাইজুল ২৭-৩-৮৬-২, আরিফুল ৪-১-৭-০, মিরাজ ২১-৬-৩৭-০, অপু ১৯-৫-৪২-১, মাহমুদউল্লাহ ২-০-২-১)

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক