রঙিন দিনে সিলেটে ম্যাড়মেড়ে ক্রিকেট

নানা রঙের বেলুন উড়ল। হরেক রকমের ফুল ছড়াল সৌরভ। টেস্টের অভিজাত জগতে সিলেটের যাত্রা শুরুর দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে সীমিত সময়ের মধ্যেই করা হলো নানা আয়োজন। দিনটিও রোদ ঝলমলে। কিন্তু এমন রঙিন দিনে মাঠের খেলা হলো না খুব দ্যুতিময়। মন্থর উইকেটে দিন জুড়েই ক্রিকেটের গতি ছিল স্লথ।

আরিফুল ইসলাম রনিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Nov 2018, 12:00 PM
Updated : 3 Nov 2018, 03:35 PM

দিনশেষে একটু বেশি খুশি থাকবে হয়তো জিম্বাবুয়ে। তিন স্পিনারের সামনে ৫টির বেশি উইকেট হারাতে হয়নি, ওয়ানডে সিরিজে উড়ে যাওয়া দলের জন্য সেটি বড় স্বস্তি। সিলেটের অভিষেক টেস্টের প্রথম দিন শেষে শনিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯১ ওভারে জিম্বাবুয়ে তুলেছে ২৩৬ রান। ওভার প্রতি রান এসেছে আড়াই করে।

উইকেট শিকারের দিক থেকে প্রথম দিনে বাংলাদেশের হতাশ হওয়ার কারণ কিছুটা আছে। তবে স্বস্তির একটি জায়গাও আছে। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ার মতো বাড়েনি প্রতিপক্ষের রান।

দিনের শুরুটা বাংলাদেশের ছিল টস হারের হতাশা দিয়ে। একাদশ নির্বাচনও জন্ম দিয়েছে প্রশ্নের। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে অভিষেক আরেক স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর। শুষ্ক উইকেটে তিন স্পিনারে বিস্ময় নেই, কিন্তু প্রশ্ন আবারও এক বিশেষজ্ঞ পেসারের রক্ষণশীল মানসিকতায়। অভিষিক্ত অলরাউন্ডার আরিফুল হকের বোলিং দিয়ে খানিকটা কাজ চালানো গেছে, কিন্তু জিম্বাবুয়েকে বিপাকে ফেলা যায়নি।

প্রশ্ন আরও উচ্চকিত হয়েছে আবু জায়েদের বোলিংয়ে। সকালে নতুন বলে তো বটেই, দিন জুড়েই দারুণ বোলিং করেছেন এই পেসার। উইকেট মাত্র একটিই পেয়েছেন, কিন্তু মন্থর উইকেটেও দুই দিকে সুইংয়ের স্কিল দেখিয়েছেন।

প্রথম উইকেট অবশ্য ধরা দিয়েছে স্পিনে। তবে সেটি ছিল বাংলাদেশকে দেওয়া ব্রায়ান চারির উপহার। প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন চারি ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। নতুন বলে শুরু করা তাইজুলকে সোজা ব্যাটে দারুণ দুটি ছক্কাও মারেন মাসাকাদজা। কিন্তু তাইজুলকে অযথা স্লগ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন চারি।

তাইজুলের হাত ধরেই আসে দ্বিতীয় উইকেট। যেটিতে বড় ভূমিকা একাদশে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্তর রিফ্লেক্স ক্যাচের। ৬ রানে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর।

লাঞ্চ পর্যন্ত উইকেট ছিল দুটিই। তাইজুল-আবু জায়েদের বোলিংয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সামলে নিয়ে মাসাকাদজা পৌঁছে যান ফিফটিতে। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই তাকে থামান আবু জায়েদ। ভেতরে ঢোকা দারুণ ডেলিভারিতে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এলবিডব্লিউ ৫২ রানে।

সেখান থেকে দায়িত্ব নিজের ব্যাটে তুলে নেন শন উইলিয়ামস। স্পিনে তিনি বরাবরই জিম্বাবুয়ের সেরাদের একজন। এ দিনও সেটির ছাপ রেখেছেন ব্যাটিংয়ে। তাকে খুব একটা বিপাকে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা।

অভিষিক্ত নাজমুল অপুর প্রথম শিকার হয়ে সিকান্দার রাজা ফিরেন ১৯ রানে বোল্ড হয়ে। এরপর পিটার মুরকে নিয়ে উইলিয়ামস গড়েন দিনের সবচেয়ে বড় জুটি। পঞ্চম উইকেটে টেম্পারমেন্টের পরীক্ষা দিয়ে দুজন যোগ করেন ৭২ রান।

শেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর এ দিনও তিন অঙ্কের হাতছানি দেখছিলেন উইলিয়ামস। ৮৮ রানে তাকে থামিয়েছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লার আচমকা লাফানো ডেলিভারি। স্লিপে দারুণ ডাইভিং ক্যাচ নিয়েছেন মিরাজ।

দিনে বাংলাদেশের শেষ সাফল্য সেটিই। মুর ও রেজিস চাকাভার ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ ঘণ্টায় আর কোনো উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে। রান খুব বেশি হয়নি, সেটির তাড়নাও তাদের খুব বেশি ছিল না।

উইকেট শুষ্ক ও মন্থর হলেও টার্ন খুব বেশি ছিল না। তিন স্পিনারের বোলিং তাই হয়নি খুব ভয়ঙ্কর। সিলেটের প্রথম দিনটি তাই হয়নি বাংলাদেশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৯১ ওভারে ২৩৬/৫ (মাসাকাদজা ৫২, চারি ১৩, টেইলর ৬, উইলিয়ামস ৮৮, রাজা ১৯, মুর ৩৭*, চাকাভা ২০*; আবু জায়েদ ১৮-৩-৬১-১, তাইজুল ২৭-৩-৮৬-২, আরিফুল ৪-১-৭-০, মিরাজ ২১-৬-৩৭-০, নাজমুল অপু ১৯-৫-৪২-১, মাহমুদউল্লাহ ২-০-২-১)

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক