নাজিমউদ্দিনের পর আরিফুল

ওয়ানডে স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে দলের সঙ্গে ঘুরছিলেন। বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর অভিষেক হয় দ্বিতীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে। তবে টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে টেস্ট ক্যাপও পেয়ে গেলেন আরিফুল হক। নাম উঠে গেল তার রেকর্ড বইয়ে। অল্পের জন্য যদিও রেকর্ডে সবার ওপরে থাকা হয়নি। তাতে আক্ষেপও খুব একটা থাকার কথা নয়। রেকর্ডটি যে অপেক্ষার!

আরিফুল ইসলাম রনিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Nov 2018, 08:49 AM
Updated : 3 Nov 2018, 03:34 PM

সিলেটের অভিষেক টেস্টে শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছে আরিফুলের। রংপুরের ছেলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বরিশালের হয়ে, ২০০৬ সালের নভেম্বরে। সেই থেকে অভিষেক টেস্টের আগ পর্যন্ত আরিফুল খেলেছেন ৭৬টি ম্যাচ। তার চেয়ে বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে টেস্ট অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের মাত্র একজনের। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকের আগে নাজিমউদ্দিন খেলেছিলেন ৮১ ম্যাচ।

নাজিমউদ্দিনের পর, আরিফুলের আগে এই অপেক্ষা অবসানের স্বস্তি পেয়েছিলেন শামসুর রহমান। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের আগে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ৬৬টি।

শামসুরের কয়েক মাস আগে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মার্শাল আইয়ুবের। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার আগে স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ৬২টি। মার্শালের সমান ম্যাচ খেলার পর প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন পেসার আবু জায়েদ চৌধুরীও। বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল হক ও ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন ৬০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর।

আরিফুলের সঙ্গেই সিলেট টেস্টে অভিষেক নাজমুল ইসলাম অপুর। টেস্ট স্বপ্ন পূরণের আগে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল তাকেও। ৫৪ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর টেস্ট খেলতে নেমে এই তালিকায় আছেন তিনি নয় নম্বরে।

এই অপেক্ষার বিশ্ব রেকর্ডটি দেখে অবশ্য চোখ কপালে উঠতে পারে অনেকের। ১৯০৬ সালে লেস্টারশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম খেলেছিলেন ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা পড়ে তার ১৯২৭ সালে। ততদিনে খেলে ফেলেছেন ৪২৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ!

চারশর বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল আরও একজনের। তিনিও ইংল্যান্ডের। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার জোসেফ ভাইন ক্যারিয়ারে দুটি টেস্ট খেলেছেন ১৯১২ সালে। ততিদনে তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়োর ১৬ বছরের, খেলেছেন ৪০৩টি ম্যাচ।

এর উল্টো স্বাদও আছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটিও ম্যাচ না খেলে সরাসরি টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়েছে ৩৩ জনের। এই তালিকার সবশেষ তিনজনের দুইজনই বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাজমুল হোসেন, দুই পেসারের অভিষেক টেস্টই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাদের প্রথম ম্যাচ।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মাশরাফির, ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নাজমুলের। এরপর প্রথম শ্রেণিতে না খেলে টেস্ট অভিষেক হয়নি বিশ্ব ক্রিকেটেই আর কারও।

সবচেয়ে বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক:

নাজিমউদ্দিন - ৮১

আরিফুল হক - ৭৬

শামসুর রহমান - ৬৬

মার্শাল আইয়ুব - ৬২

আবু জায়েদ চৌধুরী - ৬২

সানজামুল ইসলাম - ৬০

জহুরুল ইসলাম - ৬০

জিয়াউর রহমান - ৫৮

ইলিয়াস সানি - ৫৬

নাজমুল ইসলাম অপু - ৫৪

শুভাশিস রায় - ৫১

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক