বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ আফগানিস্তানের

ছোট পুঁজি নিয়ে বোলাররা লড়াই করল সাধ্যমতো। সবার মিলিত চেষ্টায় জাগিয়েছিল রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু মোহাম্মদ নবির টর্নেডো ইনিংসে ৭ বল বাকি থাকতেই দারুণ এক জয় তুলে নিল আফগানিস্তান। সিরিজ জিতল এক ম্যাচ হাতে রেখেই।

অনীক মিশকাতবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 June 2018, 02:03 PM
Updated : 5 June 2018, 05:49 PM

নবি ঝড়ে সিরিজ আফগানিস্তানের

জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান। রুবেল হোসেনের ৫ বল থেকেই সেই রান তুলে নিলেন মোহাম্মদ নবি। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জিতে গেল আফগানিস্তান।

১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৬ উইকেটে জেতে আসগর স্টানিকজাইয়ের দল। তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।

ব্যাট হাতে শেষটায় ঝড় তোলার আগে আঁটসাট বোলিংয়ে ২ উইকেট নেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার নবি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: (লক্ষ্য ১৩৫) ১৮.৫ ওভারে ১৩৫/৪ (শাহজাদ ২৪, গনি ২১, শেনওয়ারি ৪৯, স্টানিকজাই ৪, নবি ৩১*, শফিকুল্লাহ ০*; নাজমুল ০/১৪, সাকিব ০/৩৭, রুবেল ১/৩৮, আবু হায়দার ১/১৪, মাহমুদউল্লাহ ০/৯, মোসাদ্দেক ২/২১)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৪/৮ (লিটন ১, তামিম ৪৩, সাব্বির ১৩, মুশফিক ২২, মাহমুদউল্লাহ ১৪, সাকিব ৩, সৌম্য ৩, মোসাদ্দেক ০, আবু হায়দার ২১*, নাজমুল ৬*; মুজিব ০/১৫, শাপুর ১/৪২, নবি ২/১৯, জানাত ১/৪০, রশিদ ৪/১২)

শেনওয়ারিকে ফেরালেন মোসাদ্দেক

ছক্কা হাঁকানোর পর ফিরে গেলেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। তাকে বোল্ড করে দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

৪১ বলে দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৯ রান করে ফিরে যান শেনওয়ারি। তাকে ফিরিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

১৮ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর ১১৫/৪। ক্রিজে মোহাম্মদ নবির সঙ্গী শফিকুল্লাহ।

বোলিংয়ে এসেই মোসাদ্দেকের আঘাত

বোলিংয়ে এসেই আঘাত হেনেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ফিরিয়ে দিয়েছেন আসগর স্টানিকজাইকে।

বেরিয়ে এসে অফ স্পিনারকে উড়াতে চেয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক। ব্যাটে খেলতে পারেননি। বল গ্লাভসে নিয়েই বেলস উড়িয়ে দেন মুশফিকুর রহিম।

৮ বলে ৪ রান করে স্টাম্পড হয়ে যান স্টানিকজাই। ১৩.৪ ওভারে আফগানদের স্কোর ৭৯/৩।

গনিকে ফেরালেন রুবেল

রানের জন্য উসমান গনির সংগ্রাম শেষ হল বাজে এক শটে। রুবেল হোসেনকে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরে গেলেন আফগান ওপেনার।

রুবেলকে পুল করে উড়াতে চেয়েছিলেন গনি। কিন্তু টাইমিং করতে পারেননি। মিড অফে ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার।

৩১ বলে ২১ রান করে ফিরে যান গনি। ১০.৩ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ৫৭/২। ক্রিজে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির সঙ্গী আসগর স্টানিকজাই।

পাওয়ার প্লেতে উজ্জ্বল নাজমুল, আবু হায়দার

সাকিব আল হাসান ছিলেন ভীষণ খরুচে। রুবেল হোসেনের একমাত্র ওভারে আসে দুটি বাউন্ডারি। সেখানে পাওয়ার প্লেতে ২ ওভারে কোনো রানই দেননি নাজমুল ইসলাম অপু!

পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর ৩৮/১। উসমান গনি ১১ ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি শূন্য রানে অপরাজিত।

একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার। ফিরিয়ে দিয়েছেন বিস্ফোরক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে।

শাহজাদকে জীবন দিলেন মুশফিক

লড়াইয়ের পুঁজিটা খুব এবটা বড় নয়। সেটাকে বড় দেখাতে পারে দারুণ ফিল্ডিং। ইনিংসের প্রথম ওভারে তার উল্টোটা করেছে বাংলাদেশ। জীবন দিয়েছে মোহাম্মদ শাহজাদকে।

নাজমুল ইসলাম অপু শুরু করেন মেডেন দিয়ে। সেটা হতে পারতো উইকেট-মেডেন। তার স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান বিস্ফোরক ওপেনার শাহজাদ।

বাংলাদেশের ১৩৪ রানের পুঁজি

এক সময়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৯৩। সেখান থেকে দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহে ছিল সাকিব আল হাসানদের নজর। রশিদ খানের স্পিনে দ্রুত ৪ উইকেট হারানো দলটি ১০৮ রানে হারিয়ে ফেলে ৮ উইকেট। তখন ১২০ রানও বেশ দূরের পথ। সেটা পারি দিয়ে আরও খানিকটা বাংলাদেশ এগোতে পারল আবু হায়দারের ব্যাটে।

তার শেষের ঝড়ে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান করেছে বাংলাদেশ। ১৪ বলে দুটি ছক্কা ও একটি চারে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন রশিদ খানের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া আবু হায়দার।

১২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আফগানদের সেরা বোলার রশিদ। মোহাম্মদ নবি ১৯ রানে নেন ২ উইকেট। কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র ১৫ রান দেন মুজিব উর রেহমান।

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৪/৮ (লিটন ১, তামিম ৪৩, সাব্বির ১৩, মুশফিক ২২, মাহমুদউল্লাহ ১৪, সাকিব ৩, সৌম্য ৩, মোসাদ্দেক ০, আবু হায়দার ২১*, নাজমুল ৬*; মুজিব ০/১৫, শাপুর ১/৪২, নবি ২/১৯, জানাত ১/৪০, রশিদ ৪/১২)

সাতে নেমে ব্যর্থ সৌম্য

সাত নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। রশিদ খানকে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরে গেছেন সীমানায় ক্যাচ দিয়ে।

নিয়মিত সব ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর রান যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিতে দলে ফেরা সৌম্যর দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি তিনি। ফিরে যান ৯ বলে ৩ রান করে।

১৭.৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৮/৮।

এবার মোসাদ্দেকের গোল্ডেন ডাক
 
আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাক পেয়েছিলেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান। এবার সেই স্বাদ পেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। রশিদ খানের লেগ স্পিন দুর্বোধ্যই থেকে গেল তার কাছে। গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান মোসাদ্দেক।
 
এক ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ আফগানিস্তানের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন রশিদ। ১৫.৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০৩/৭।

রশিদের দ্বিতীয় শিকার তামিম

রানের জন্য হাসফাস করা তামিম ইকবালকে বোল্ড করে বিদায় করেছেন রশিদ খান। আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পাওয়া তামিম ক্রিজে ছিলেন লম্বা সময়। আউট হন ষোড়শ ওভারে। ৪৮ বল খেলে পাঁচটি চারে ফিরেন ৪৩ রান করে।

প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি তামিম। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিকই সেরেছেন রশিদ। দারুণ এক ওভারে সাকিব আল হাসানের পর ফিরিয়ে দিয়েছেন তামিমকে।

মাহমুদউল্লাহকে থামালেন জানাত

ক্রিজে এসেই মোহাম্মদ নবিকে ছক্কার পর করিম জানাতের বলে বাউন্ডারি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। তার ব্যাটে ছিল ঝড়ের পূর্বাভাস। কিন্তু সেই ঝড় তুলতে দিলেন না জানাত। মিডিয়াম পেসার বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহকে।

৮ বলে ১৪ রান করে ফিরে যান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৯৩/৪। ক্রিজে তামিম ইকবালের সঙ্গী সাকিব আল হাসান।

মুশফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন নবি

দারুণ গতিতে এগোচ্ছিল তামিম ইকবালের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের জুটি। বিপজ্জনক এই জুটি ভেঙেছেন মোহাম্মদ নবি।

বেরিয়ে এসে অফ স্পিনারকে ব্যাটে খেলতে পারেননি মুশফিক। ফিরে যাওয়ার সময় পাননি তিনি। বল গ্লাভসে নিয়ে বেলস ফেলে দেন মোহাম্মদ শাহজাদ। স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান ১৮ বলে ২২ রান করা মুশফিক।

এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ভাঙে ৫.১ ওভার স্থায়ী ৪৫ রানের জুটি।

মুশফিক যা পারেননি, তা ক্রিজে এসে প্রথম বলেই করে দেখান মাহমুদউল্লাহ। বেরিয়ে এসে পাঠান গ্যালারিতে। ক্রিজে তার সঙ্গী তামিম ইকবাল। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮১/৩।

পাওয়ার প্লেতে লিটন, সাব্বিরের উইকেট

পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে ফিরে গেছেন দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও সাব্বির রহমান। টিকে আছেন আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পাওয়া তামিম ইকবাল।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪২/২। তামিম ২০ ও মুশফিকুর রহিম ৭ রানে ব্যাট করছেন।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশ ডট বল খেলেছে ১৭টি। তার ১১টিই অফ স্পিনার মুজিব উর রেহমানের ৩ ওভারে।

সাব্বিরকে ফেরালেন নবি

মুজিব-উর-রেহমানের অফ স্পিন যেন বুঝতেই পারছিলেন না সাব্বির রহমান। শাপুর জাদরানের পেস নিয়ে একটুও ভাবাতে পারল না তাকে। টানা তিন বলে তুলে নিলেন বাউন্ডারি। কিন্তু আরেক অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবি বোলিংয়ে এসেই ফিরিয়ে দিলেন সাব্বিরকে।

প্রমোশন পেয়ে তিনে আসা সাব্বির বেরিয়ে এসে উড়াতে চেয়েছিলেন নবিকে। টাইমিং করতে পারেননি, সীমানার বেশ সামনে সাব্বির ধরা পড়েন সামিউল্লাহ সেনওয়ারির হাতে।

৯ বলে ১৩ রান করে ফিরে যান সাব্বির। ৪.৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩০/২। ক্রিজে তামিম ইকবালের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

শুরুতেই ফিরলেন লিটন

মুজিব-উর-রেহমানের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বল রান নেওয়ার পর সেই ওভারে আর স্ট্রাইক পেলেন না লিটন দাস। পরের ওভারের প্রথম বলে পুল করে উড়াতে চাইলেন শাপুর জাদরানকে। কিন্তু ধরা পড়ে গেলেন রশিদ খানের হাতে।

ম্যাচের সপ্তম বলে নিজেদের প্রথম উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ৩ বলে ১ রান করে ফিরে গেলেন লিটন। ১.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১/১। ক্রিজে তামিম ইকবালের সঙ্গী সাব্বির রহমান।

অপরিবর্তিত আফগানিস্তান দল

প্রথম ম্যাচে অনায়াস জয় পাওয়া আফগানরা খেলছে একই একাদশ নিয়ে। দলে পেসার দুই জন শাপুর জাদরান ও করিম জানাত। অলরাউন্ডার মিলিয়ে স্পিনার আছে পাঁচ জন।

আফগানিস্তান: আসগর স্টানিকজাই, উসমান গনি, মোহাম্মদ শাহজাদ, মুজিব উর রেহমান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, শফিকুল্লাহ, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, করিম জানাত, শাপুর জাদরান।

বাংলাদেশ দলে দুই পরিবর্তন

প্রথম ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ের মাশুল দিয়েছেন আবুল হাসান ও আবু জায়েদ। দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও আবু হায়দার।

প্রথম ম্যাচে তিন পেসার খেলানো বাংলাদেশ এবার খেলছে দুই পেসার হিসেবে। বাঁহাতি পেসার আবু হায়দারের সঙ্গী রুবেল হোসেন। অলরাউন্ডার মিলিয়ে ৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলছেন সাকিবরা।

বাংলাদেশ: সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার, নাজমুল ইসলাম অপু।

বাংলাদেশের বাঁচা-মরার ম্যাচ

আফগানিস্তানের কাছে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজ হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে সাকিব আল হাসানদের সহজেই হারানো আফগানদের সামনে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিজেদের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সুযোগ।

দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাতে সাড়ে ৮টায়।

প্রথম ম্যাচে খরুচে ছিলেন বাংলাদেশের তিন পেসার আবু জায়েদ, আবুল হাসান ও রুবেল হোসেন। দারুণ এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নেওয়ার পরও বোলিং পাননি মাহমুদউল্লাহ।

তিন বিভাগেই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দেওয়া আফগানরা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে আগের ম্যাচে। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে সাকিবদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক