চতুর্থ দিনের কৌশল জানালেন মুশফিক

মিরপুরের উইকেটে থিতু ব্যাটসম্যানও আসলে থিতু না। তিনি ধারণাও করতে পারেন না পরের বল ঠিক কী আচরণ করবে। এই ধরনের উইকেটে বোলারদের কাজ একটাই, লম্বা সময় ধরে স্টাম্প বরাবর বল করে যাওয়া। বাকি কাজ উইকেটই করবে। ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন এটাই ছিল বাংলাদেশের পরিকল্পনা।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 August 2017, 12:48 PM
Updated : 30 August 2017, 03:09 PM

শেষ দুই দিনে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৫৬ রান। হাতে ছিল ৮ উইকেট। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার জয় এখনও অনেক দূরের পথ। মুশফিক জানান, সেটা শুধুই কথার কথা ছিল না। তাদের বিশ্বাস ছিল, জেতা সম্ভব।

কোনো বল উঠছে, কোনোটা নিচু হচ্ছে। কখনও বল স্কিড করছে, কখনও থামছে। মুশফিক মনে করেন, এমন উইকেটে প্রতিটি রানই করতে হয় সংগ্রাম করে।

“এমন উইকেটে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৬ রান করা… সব সময় বিশ্বাস ছিল (জেতা সম্ভব)। ওদের দুই জন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ক্রিজে ছিল ওদের কাউকে যদি দ্রুত আউট করতে পারি….।”

এই পরিকল্পনা সফল হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত ফেরানো যায়নি ডেভিড ওয়ার্নার বা স্টিভেন স্মিথকে। আগের দিন শেষ বেলায় স্বাগতিকদের হতাশ করা দুই ব্যাটসম্যান গড়েন ১৩০ রানের জুটি।

মুশফিক জানান, শেষ রান পর্যন্ত প্রাণপণ লড়ার সংকল্প নিয়ে নেমেছিলেন তারা।

“যে উইকেট ছিল তাতে নিয়মিত স্টাম্প বরাবর বল করে যেতে পারলে একটা না একটা বল অন্যরকম আচরণ করবেই। যা আমাদের ইনিংসেও হয়েছে। এদিক থেকে আমাদের বিশ্বাস ছিল।”

“একজন নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য খেলা খুব কঠিন। আর সেট ব্যাটসম্যান যতই রান করুক যে কোনো বলে সে আউট হতে পারে। আমাদের তিন জন উঁচু মানের স্পিনার ছিল, বিশ্বাস ছিল সুযোগ আসবেই। আমরা ফিল্ডার যারা আছি তারা যেন সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি।”

ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে সাকিব আল হাসান ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেওয়ার পর পরিকল্পনা মতোই সব এগোচ্ছিল। গোল পাকাচ্ছিলেন প্যাট কামিন্স। মেহেদী হাসান মিরাজের ওভারে দুই ছক্কায় ১৫ রান নিয়ে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলেন খুব কাছে। অধিনায়ক জানান, তখনও তার মাথায় কেবল জয়ই ছিল।

“কামিন্স যখন দুইটা ছয় মারল তখনও আমার বিশ্বাস ছিল। আউট হতে লাগে এক বল আর তখনও দরকার ২১ রান। অর্থাৎ আরও ২১টা স্কোরিং শট খেলতে হবে বা চেষ্টা করতে হবে। সে দিক থেকে বিশ্বাসটা ছিল। শুধু আমার না আমাদের পুরো দলের ভেতরেই ছিল। এই জয় আমাদের জন্য অনেক দরকার ছিল।”

 
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক