কার্ডিফে বাংলাদেশের “আনন্দ বৃষ্টি”

খেলা শুরুর পর থেকেই চোখ রাখছিলেন স্কোরে। স্ত্রী-সন্তানদের দেশের পথে বিদায় দিয়ে হোটেলেই ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইংল্যান্ড দুই ওভারে দুই উইকেট হারাতেই বের হয়ে পড়েছেন। হোটেলে ভালো লাগছিল না।

আরিফুল ইসলাম রনিকার্ডিফ থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 June 2017, 06:59 PM
Updated : 10 June 2017, 06:59 PM

একা একা ঘুরছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, টুকটাক শপিং। আর একটু পরপরফোনের স্ক্রিনে চোখ। ওয়েন মর্গ্যান আর বেন স্টোকসের একেকটি শটে একটু একটু করে সরে যাচ্ছিলোঅধিনায়কের বিষাদের ছায়া। দুজনের জুটিতে রানের জোয়ার যত বাড়ছিল, ততই চওড়া হচ্ছিলো মাশরাফিরমুখের হাসি।

ইংল্যান্ডের জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, এক পর্যায়ে কার্ডিফ সিটি সেন্টারেছুটির দিনের ভীড়ের মাঝেও ছেলেমানুষের মতো শরীর নাচালেন অধিনায়ক, “কী যে ভালো লাগছেভাই… সেমি-ফাইনাল, আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল!”

বাংলাদেশ দলের সবারই দিন কেটেছে আশা-নিরাশার দোলাচলে। সকাল থেকেপ্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন কোচ। ওই সময়টুকু ছাড়া ছুটি। সবাইহালকা মেজাজেই ছিলেন। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি, শপিং। তবে সবারই মন ছিল বার্মিংহামে, চোখছিল স্কোরে।

অ্যারন ফিঞ্চ ও স্টিভেন স্মিথ যখন দারুণ খেলছিলেন, স্কোর দেখাবাদ দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। টিম হোটেলে তখন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন এইওপেনার। ফিঞ্চ আউট হওয়ার কথা জেনে খুশি হয়ে উঠলেন, পর মুহূর্তেই আবার হাসি উধাও, “স্মিথটিকে থাকলে বিপদ।” এক পর্যায়ে স্মিথও আউট। পরের দিকে উইকেট পড়ল টপাটপ। তামিমের মুখেরহাসি আকর্ণ বিস্তৃত!

দুপুরে খেতে বের হওয়ার সময় সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান বলেগেলেন, ইংল্যান্ডকে জিততে হবে। বাংলাদেশ কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে তো টুইটারে জানিয়েদিয়েছেন, এদিন তিনি ইংল্যান্ডের কড়া সমর্থক!

খারাপটার জন্য নিজেদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখার জন্যই কিনা,সবাই বারবার বলেছেন, নিজেদের কাজটা করেছি, এখন সেমিতে উঠতে না পারলে হতাশা নেই। তবেতাসকিন আহমেদের মুখে মনের কথাই।

“সেমি-ফাইনালটা খেলতে পারলে দারুণ হয়। আশায় বসে আছি নিউ জিল্যান্ডকেহারানোর পর থেকেই। এই ম্যাচ না জিতলে এতটা খারাপ লাগত না। কিন্তু দারুণ এই জয়ের পরসেমি খেলতে না পারলে খারাপ লাগবে।”

স্ত্রী-সন্তানদের বিদায় দিয়ে মনটা ভার ছিল মাশরাফির। বারবারই বলছিলেন,মেয়ে আর ছেলের জন্য পরাণ পুড়ছে। তবে দল আর দেশের কথা ভাবলেই আবার মুখে হাসি, “দেশেসবাই নিশ্চয়ই এখন দারুণ খুশিতে আছে। পরপর দুই দিন উৎসব।”

পাশ থেকে একজন বললেন, “ঈদের আগেই দুইটা ঈদ।” শুনে অধিনায়ক আবারহাসেন। ঈদের খুশি!

বার্মিংহামে যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, কার্ডিফের আকাশও তখন কাঁদছে।ডাকওয়ার্থ-লুইসে এগিয়ে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার হার নিশ্চিত। বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণতন্ময় মাশরাফি, প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন নিজের অনুভূতিটাও, “আহা বৃষ্টি…আনন্দ বৃষ্টি!”

হঠাৎ মাথার হুডি ফেলে দিয়ে একটু ভিজলেন বৃষ্টিতে। মাখামাখি হলেনআনন্দধারায়। শুধু কি অধিনায়কই? কার্ডিফের আনন্দধারায় অবগাহন করছে তো আসলে গোটা বাংলাদেশ্ই!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক