বৃষ্টি ভাগ্যের সঙ্গে ছিল মাশরাফির কৌশলও

লড়াইটা তখন আর শুধু ২২ গজে ব্যাট-বলের নয়। সেটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল প্রকৃতি। অস্ট্রেলিয়ার জন্য যা ছিল শঙ্কা, সেটিই বাংলাদেশের সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যকে পাশে পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেই সৌভাগ্যের ছোঁয়া পর্যন্ত ম্যাচটিকে টেনে নেওয়ার কৃতিত্ব মাশরাফি বিন মুর্তজার কৌশলের।

ক্রীড়া প্রতিবেদক লন্ডন থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 June 2017, 10:14 PM
Updated : 6 June 2017, 07:02 AM

মাঠের লড়াই যখন একতরফা, সেখানে অসহায় বাংলাদেশ, মাশরাফি চেষ্টা করেছেন প্রকৃতির আশ্রয় নেওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার ছিল তাড়া, দ্রুত ২০ ওভার শেষ করার। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সেখানে রাজ্যের অনিচ্ছা।

নিয়মের মধ্যে থেকেই দল চেষ্টা করে গেছে শেষ উপায়টুকু কাজে লাগানোর। যদি বৃষ্টি আসা পর্যন্ত ২০ ওভারের কম করা যায়! অফিসিয়াল স্কোর থেকে জানা যাচ্ছে, এক পর্যায়ে মাশরাফির ১ ওভার শেষ করতে সময় লেগেছে ৮ মিনিট। রুবেলের ১ ওভার শেষ হতে ৬ মিনিট।

বাংলাদেশের ১৬ ওভারের ১৫ ওভারই করেছেন পেসাররা। এক ওভার যে স্পিনার করেছেন, সেটিই আসলে ছিল বিস্ময়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কৌশলের কথাও লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।

“এই কথা এখানে বলা উচিত নয় হয়তো। তবে সত্যি বলতে আমাদের চিন্তা ছিল যে ম্যাচে তো পেছনে চলেই গেছি, একমাত্র উপায়ই ছিল যে ২০ ওভারের আগে যতটুকু সময় নেওয়া যায়। খেলাটাকে লম্বা করা। এজন্য মিরাজকে এক ওভার দিয়ে পরে এনেও আবার সরিয়ে নিয়েছি যাতে খেলাটা দূরে সরিয়ে নেওয়া যায়।”

১৬ ওভার শেষে পানি পানের বিরতি যখন হলো, তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে দল নিশ্চিত হতে পারছিল না। খেলা শেষ হওয়ার সময়টাও তখন এত দূরে ছিল যে, ড্রেসিং রুমে গিয়েও আকাশের দিকেই তাকিয়ে ছিল দল।

“সত্যি কথা বলতে, ১৬ ওভার যখন শেষ হলো, আমরা বুঝতে পারছিলাম না খেলা আরও হবে কিনা বা ২-১ ওভার চালিয়ে যাবে কিনা। পানি পানের বিরতির সময় বুঝিনি যে তখনই খেলা বন্ধ করে দেবে। জানতাম যে সাড়ে ৬টা বা ৭টায় বৃষ্টি আসতে পারে। তবে সেটার জন্য অপেক্ষা করে তো লাভ নেই। খেলা চালিয়ে যেতেই হতো। আমরা চেষ্টা করেছি টেনে নিয়ে যেতে যতটা যাওয়ায় যায়।”

মাঠে বাংলাদেশ যখন ওভার শেষ করতে সময় নিচ্ছে, মাঠে তখন গজরাচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে তাতে কান দেবেন কেন মাশরাফিরা! শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিস্নাত এক পয়েন্টে জয় হয়েছে কৌশলেরও।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক