শাহরিয়ার, মার্শালের ব্যাটে শিরোপা লড়াইয়ে দোলেশ্বর

হারলেই শিরোপার আশা শেষ- এমন সমীকরণ চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি প্রাইম দোলেশ্বরের সামনে। শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শাল আইয়ুবের ব্যাটে মোহামেডানকে হারিয়ে শিরোপার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে দলটি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 June 2017, 11:13 AM
Updated : 5 June 2017, 07:52 AM

সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দোলেশ্বরের জয়টি ৯৭ রানের।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৬৪ রান করে দোলেশ্বর। জবাবে ৩৪ ওভার ৫ বলে ১৬৭ রানে অলআউট হয়ে যায় মোহামেডান।

দোলেশ্বরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার, মার্শাল ও ইমতিয়াজ হোসেন।

দ্বিতীয় উইকেটে শাহরিয়ার-ইমতিয়াজের ৭৯ রানের জুটি দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করায়। তিন নম্বরে নেমে ৫৩ বলে খেলা ইমতিয়াজের ৪৮ রানের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও একটি ছক্কায়।

মার্শালের সঙ্গে ৫১ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়ে ফিরেন শাহরিয়ার। ওপেনিংয়ে ফেরা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ১০৩ বলে ৭০ রান করতে হাঁকান ৬টি চার।

নিজের মতো করে খেলে তিনটি চারে ৫০ রান করে ফিরেন মার্শাল। রজত ভাটিয়া ও ফরহাদ রেজার শেষের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আড়াইশ ছাড়ায় দোলেশ্বরের সংগ্রহ।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি মোহামেডানের। ২৪ রানের মধ্যে ফিরেন সৈকত আলী ও রনি তালুকদার। শামসুর রহমানের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন বিপুল শর্মা।

২ উইকেটে ৯৩ রানে পৌঁছে যাওয়া মোহামেডান পারেনি ভালো ভিতের সুবিধা কাজে লাগাতে। চার রানের মধ্যে শামসুর (২৬), তাইজুল ইসলাম ও বিপুলকে (৪৮) হারিয়ে দলটি বিপদে পড়ে। সেখান থেকে আর তাদের ম্যাচে ফেরাতে পারেননি কেউ।

৭৩ রানে শেষ ৮ উইকেট হারায় মোহামেডান, তার ৩১ রান আসে সাজেদুল ইসলামের ব্যাট থেকে।

দোলেশ্বরের শরিফউল্লাহ ৩২ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন রাহাতুল ফেরদৌস, দেলোয়ার হোসেন ও ফরহাদ রেজা।

এই জয়ে ১৫ ম্যাচে দোলেশ্বরের পয়েন্ট হল ২২। সমান পয়েন্ট আবাহনীরও। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

শেষ ম্যাচে আবাহনী শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কাছে হারলে দোলেশ্বর গাজীর বিপক্ষে জিতলে গাজী ও দোলেশ্বরের পয়েন্ট হবে সমান। মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলই একটি করে ম্যাচ জেতায় দেখা হবে রান রেট। যেখানে দোলেশ্বরের (+০.৫৩২) চেয়ে খানিকটা এগিয়ে গাজী (+০.৬৮৭)।

শেষ রাউন্ডে দোলেশ্বর গাজীকে হারালে ও আবাহনী শেখ জামালকে হারালে তিন দলেরই পয়েন্ট থাকবে সমান। তখন তিন দলের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শিরোপা যাবে গাজীর ঘরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রাইম দোলেশ্বর: ৫০ ওভারে ২৬৪/৬ (শাহরিয়ার ৭০, জাকের ১৪, ইমতিয়াজ ৪৮, মার্শাল ৫০, ভাটিয়া ৩৭, ফরহাদ ২০, সাঈদ ৬*, হাবিবুর ৭*; শুভাশীষ ০/৬২, সাজেদুল ২/৩৫, শামসুর ০/২২, রাব্বি ১/৪৫, তাইজুল ০/৪৪, বিপুল ১/৩৫, জুবায়ের ১/২০)

মোহামেডান: ৩৪.৫ ওভারে ১৬৭ (শামসুর ২৬, সৈকত ১৮, রনি ১, বিপুল ৪৮, তাইজুল ১, নাজমুল ১৮, রকিবুল ৪, সাজেদুল ৩১, রাব্বি ৬*, শুভাশিস ০, জুবায়ের ৯; ফরহাদ ২/৩২, হাবিবুর ০/২৭, দেলোয়ার ২/২৩, শরিফউল্লাহ ৩/৩২, ফেরদৌস ২/২১, ভাটিয়া ০/২০, সাঈদ ০/১১)

ফল: প্রাইম ব্যাংক ৯৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফীস