কে হবেন বাংলাদেশের ডি ভিলিয়ার্স-দু প্লেসি?

শেষ দিনের লড়াইয়ে যদি বেছে নিতে বলা হয় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম থেকে একজনকে, কে হতে পারেন তিনি? চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় আঁকড়ে রাখতে পারতেন উইকেট, বুক চিতিয়ে সামলাতেন সব ঝড়, থিলান সামারাবিরার চেয়ে আদর্শ কে হতে পারেন!

আরিফুল ইসলাম রনিহায়দরাবাদ থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2017, 02:59 PM
Updated : 12 Feb 2017, 03:53 PM

সমস্যা হলো, রাজীব গান্ধীর ২২ গজকে টাইম মেশিনে করে অতীতে বয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। আর বর্তমান বলছে, সামারাবিরা শেখাতে পারেন, মাঠে গিয়ে দেখাতে নয়!

শেখানোর কাজটি নিশ্চয়ই আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এক্সপ্রেস গতি বোলার সামলানো বা টার্নিং উইকেটে ঘূর্ণিবলের জাদুকরদের সামলানোর চেয়েও কঠিন। ২২ গজে নামলে সব কিছু নিজের হাতে। ড্রেসিং রুমে বসে তো সেই সুযোগ নেই। ব্যাটিং কোচ হিসেবে টোটকা দিতে পারেন, নিজের সব শিক্ষা-অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিতে পারেন। যাকে দিচ্ছেন, তিনি ধারণ করতে না পারলে, উইকেটে গিয়ে দেখাতে না পারলে সব বৃথা।

কাজটি যখন বাংলাদেশের এই ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে, ব্যাটিং কোচের কাজ তখন কঠিনতম। বল ঘুরতে শুরু করছে। পুরোনো হয়েছে, মিলবে রিভার্স সুইং। শেষ দিন টিকে থাকার লড়াই। কিন্তু মাথা কাটা পড়েছে এর মধ্যেই, নেই শুরুর তিন ব্যাটসম্যান।

উইকেটে আছেন দুজন। অভিজ্ঞ দুজনই, তবে দুজনকে নিয়ে দু রকমের শঙ্কা। সাকিব আল হাসান বরাবারের মতো আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নয়, তিনি চেষ্টা করবেন নিজের মতো খেলেই পরিস্থিতি জয় করতে। তাতে আরও একটি ৮০-৯০ বা সেঞ্চুরি আসতে পারে। কিন্তু ৯০ রানের চেয়ে তো বেশি দরকার ৯০ ওভার টিকে থাকা। সাকিবের ব্যাট সেই নির্ভরতা দেবে কিনা, সেটি কেবল সময়ই বলতে পারবে।

মাহমুদউল্লাহ লড়ছেন দলে জায়গা বাঁচাতে। নেই ছন্দ, হারিয়ে গেছে আত্মবিশ্বাস।

সবচেয়ে বড় সমস্যা, সকালে শুরু কবেন এই দুজন। অথচ প্রথম ঘণ্টায় উইকেট না হারানো জরুরি! দিনের শুরুতে উইকেট দেওয়া মানে ভারতীয় বোলারদের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়া। একবার সেটি খোলা পেলে বানের পানি ঢুকবে প্রবল হয়ে, বাধ দেওয়া হবে কঠিন।

শেষ দিনে কেমন হওয়া উচিত বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরন? ‘সারভাইভাল’ ব্যাপারটিকে আধুনিক ক্রিকেটে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমটি ২০১২ সালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড ওভালে ১৪৮ ওভার ব্যাট করে তারা তুলেছিল ২৪৮ রান। তবে রান রেট কে দেখে, স্থিতধী ব্যাটিংয়ের অবিশ্বাস্য প্রদর্শনীতে প্রোটিয়ারা বাঁচিয়েছিল ম্যাচ। দুনিয়া জুড়ে বোলারদের আতঙ্ক যিনি, সেই এবি ডি ভিলিয়ার্স আড়াইশ মিনিট উইকেটে থেকে ২২০ বলে করেছিলেন ৩৩ রান। তখনও পর্যন্ত মূলত টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে ছিল যার পরিচিতি, সেই ফাফ দু প্লেসি অভিষেকে করেছিলেন ৩৭৬ বলে ১১০!

২০১৪ সালে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই কেপ টাউনে ডি ভিলিয়ার্স করেছিলেন ২২৮ বলে ৪৩। অনেকে ভাবতে পারেন, স্পিনিং উইকেটে, ছাতা হয়ে দাঁড়ানো ফিল্ডারদের মাঝে টিকে থাকা আরও অনেক কঠিন। ‘ডি ভিলিয়ার্স অ্যান্ড কোং’ সেটিও করে দেখিয়েছেন। এই ভারতের মাটিতেই।

ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি তারা। তবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে ১৪৩ ওভারে তুলেছিলেন ১৪৩ রান। এবার ডি ভিলিয়ার্স ২৯৭ বলে ৪৩, হাশিম আমলা ২৪৪ বলে ২৫। বাংলাদেশ কেন পারবে না ৯০ ওভার? ডি ভিলিয়ার্স-আমলার চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক কেউ নিশ্চয়ই নেই বাংলাদেশে!

ব্যাটিং কোচ সামারাবিরাও বললেন, শেষ দিনে টিকে থাকাই হওয়া উচিত মূল ম্যাচ বাঁচানোর পথ।

“উইকেট আঁকড়ে পথে থাকতে হবে। আমাদের জন্য ভালো ব্যাপার হলো, উইকেট এখনও বেশ ভালো। স্পিন করছে তবে খুব ভয়াবহ নয়। প্রথম ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে হবে। ভারতকে মোমেন্টাম দেওয়া যাবে না। মোমেন্টাম দিলেই বিপদ।”

“দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মিনি (মুমিনুল) আউট হয়ে গেছে। ও আমাদের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। তবে সেরা আটের যে কেউ হতে পারে ‘অ্যাংকর’। আরও ৪-৫ জন ব্যাটসম্যান আছে। জুটি গড়ে তুলতে হবে।”

এই কাজটি কিন্তু অসম্ভব নয়। জুটি গড়া, উইকেটে পড়ে থাকা। বাংলাদেশের কেউ ডি ভিলিয়ার্স হতে পারবেন না অবশ্যই। আমলাও। কিংবা দু প্লেসি। সামগ্রিক ব্যাটসম্যানশিপে তাদের মত হওয়া কঠিন। কিন্তু এই একটি জায়গায় তো হওয়া যায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে লড়াই। সহজাত প্রবৃত্তির সঙ্গে। ডানাগুলো বন্ধ করে গুটিশুটি মেরে পড়ে থাকা। উইকেটই হোক ঘর-বাড়ি-বসতি। কোনো অবস্থায়ই যেটি ছাড়া যাবে না!

কে হবেন, বাংলাদেশের ডি ভিলিয়ার্স-দু প্লেসি?

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক