তামিমদের বিদায় করে দিলেন উইলিয়ামস-স্যামি

জয় নিশ্চিত হতেই ডাগ আউট থেকে ছুটে আসছিলেন রাজশাহীর ক্রিকেটার। হাত দিয়ে ইশারায় সবাইকে থামালেন ড্যারেন স্যামি। রাজশাহী অধিনায়ক নানাভাবে ভঙ্গি করলেন পোজ দেওয়ার। আর কাল্পনিক ক্যামেরায় ছবি তুলতে থাকলেন সতীর্থরা। অনন্য উদযাপন!

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2016, 09:08 AM
Updated : 6 Dec 2016, 12:20 PM

একই উদযাপন দেখা গেছে ম্যাচের প্রথম ভাগেও। তখন পোজ দিয়েছেনকেসরিক উইলিয়ামস। আর সতীর্থদের নিয়ে কাল্পনিক ছবি তুলেছেন স্যামি। উদযাপনের মতো ম্যাচেরনায়কও এই দুজনই। দুই ক্যারিবিয়ানের অসাধারণ পারফরম্যান্সে চিটাগং ভাইকিংসকে বিদায় করেরাজশাহী কিংস উঠেছে কোয়ালিফায়ারে।

বিপিএলের এলিমিনেটরে চিটাগংকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। ১৪২রান তাড়ায় স্যামির দল জিতে যায় ৯ বল বাকি থাকতে।

বড় স্কোরের পথে থাকা চিটাগংকে মাঝারি স্কোরে আটকে রাখে উইলিয়ামসেরদুর্দান্ত বোলিং। সেই রান তাড়ায়ও হারের দ্বারপ্রান্তে থাকা রাজশাহীকে অসাধারণ ইনিংসেজয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেন স্যামি।

৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন উইলিয়ামস। ২৭ বলে অপরাজিত৫৫ রানের ইনিংসে ব্যাট হাতে নায়ক রাজশাহীর অধিনায়ক স্যামি।

রান তাড়ায় ইনিংসের অর্ধেক শেষেও ধুঁকছিল রাজশাহী। শুরুটায় উইকেটেরদুই প্রান্তে ছিল দুই চিত্র। এক পাশে রান করেছেন নুরুল হাসান, আরেক পাশে উইকেট পড়েছেনিয়মিত।

শুভাশীষকে পুল করে গিয়ে আউট হয়েছেন মুমিনুল হক। নিজের আসল ভূমিকায়প্রথম সুযোগেই ব্যর্থ আফিফ হোসেন। প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের লেগ স্টাম্পেরবাইরের বলে।

একবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি সাব্বির। সামিত প্যাটেলও জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনও গা ভাসিয়েছেন সেই স্রোতে।

ভরসা হয়ে ছিলেন নুরুল। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন দুর্দান্তএক দলীয় ক্যাচে (২৮ বলে ৩৪)। লং অফ দিয়ে ছক্কা হতে যাওয়া বল দারুণ দক্ষতায় ভেতরে ঠেলেনশোয়েব মালিক, লং অন থেকে ছুটে আসা জহুরুল সেটি জমান হাতে!

১১ ওভার শেষে রাজশাহীর রান ৬ উইকটে ৫৭। চিটাগংয়ের জয় মনে হচ্ছিলকেবল সময়ের ব্যাপার। স্যামির মনে ছিল অন্য ভাবনা। উইকেটে গিয়েই টানা তিন চার মোহাম্মদনবিকে। সাকলাইন সজীবকে আছড়ে ফেললেন সাইটস্ক্রিনে। তাসকিনকে কাট করে বাউন্ডারি গুলিরবেগে।

তার পরও ম্যাচ দুলছিল পেন্ডুলামের মতো। শুভাশীষের তিন বলেইসেটি হেলে পড়ল রাজশাহীর দিকে। লেগ সাইডে সীমানায় তিন ফিল্ডার নিয়ে শুভাশীষ বোলিং করেগেলেন অফ স্টাম্পের বাইরে। স্যামির হ্যাটট্রিক চারে সহজ হলো সমীকরণ।

পরে নবিকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে অর্ধশতক ছুঁলেন ২৩ বলে। শেষপর্যন্ত অপরাজিত ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রানে। শেষ দিকে দারুণ সঙ্গ দিলেন ফরহাদ রেজা(১১ বলে ১৯*)। জয়ের পর ছুটে গিয়ে রাজশাহীর সহ-অধিনায়কও উদযাপনে দাঁড়ালেন অধিনায়কেরপাশে।

ম্যাচের প্রথম ভাগেই এই উদযাপনের উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন উইলিয়ামস।বিপজ্জনক ডোয়াইন স্মিথকেফিরিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন চিটাগংকে। মাঝে তামিমের উইকেট নিয়ে বদলে দেন ম্যাচেরমোড়। আরও ২ উইকেট নিয়ে শেষ দিকেও দমিয়ে রাখেন চিটাগংকে।

অথচ দ্বিতীয় উইকেটেতামিম ও গেইলের জুটিতে বড় স্কোর দেখছিল চিটাগং। ৫ ছক্কায় ৪৪ রান করেন গেইল। ৫০বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। দলের পথ হারানোর শুরু এই দুজনের বিদায়েই।

একাদশে ফেরা ডোয়াইনস্মিথকে নিয়ে ইনিংস শুরু করেন তামিম। তবে ক্রিস গেইলকে আসতে হয় দ্রুতই। পুরোক্যারিবিয়ান সমন্বয়ে ফেরেন স্মিথ। সেন্ট ভিনসেন্টের উইলিয়ামসের বলে স্লিপেবারবাডোজের স্মিথের ক্যাচ নেন সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি।

উইলিয়ামস শুরুতে কিছুটাঅস্বস্তি উপহার দেন গেইলকেও। স্পিন আসতেই স্বরূপে গেইল। মেহেদী হাসান মিরাজকে পরপরদুই বলে ছক্কা মারেন লং অন ও লং অফ দিয়ে। পরের ওভারে জোড়া ছক্কায় ওড়ান অভিষেকম্যাচের বিস্ময় আফিফ হোসেনকে।

শুরুর অস্বস্তিটকু ঝেড়েতখন ছন্দে ফিরেছেন তামিমও। ড্যারেন স্যামিকে এক ওভারে তিনটি চার মারেন দুজন। ১০ওভারে চিটাগংয়ের রান ১ উইকেটে ৭৫।

জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনকেবিশাল এক ছক্কায় স্বাগত জানান গেইল। ওই ওভারেই ছন্দপতনের শুরু। নিরীহ এক ফুলটসেটাইমিংয়ের গড়বড়ে লং অনে ফরহাদ রেজার হাতে ধরা পড়েন গেইল (২৯ বলে ৪৪)।

ফরহাদ পরে বল হাতেওফিরিয়ে দেন শোয়েব মালিক ও এনামুল হককে। এর মাঝেই তামিম স্পর্শ করেন অর্ধশতক,এবারের বিপিএলে যেটি তার ষষ্ঠ। স্পর্শ করলেন বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশিঅর্ধশতকের রেকর্ড।

তবে দল যখন চাইছে আরওবড় কিছু, তখনই অধিনায়কের বিদায়। আক্রমণে ফিরে উইলিয়ামস ফিরিয়ে দেন তামিমকে (৪৬ বলে৫১)। পরে এক ওভারে ফেরান রাজ্জাক ও তাসকিনকে। শেষ দিকে ঝড় তুলতে পারেননিনবি-জহুরুলরাও।

একের পর এক উইকেটের মতউইলিয়ামস ও রাজশাহী মাতিয়েছে উদযাপনেও। উইলিয়মাসের ‘সেলফি’ তোলার চেনা উদযাপন তোছিলই। সেটিকে নতুন মাত্রা দেন স্যামি। দলের সবাই মিলে কাল্পনিক ক্যামেরায় ছবিতোলা, আবার সবাই মিলে উইলিয়ামসের ছবি তোলা, ভিডিও করা… সব মিলিয়ে পারফরম্যান্স আরউদযাপনে রাজশাহী জুগিয়েছে দারুণ বিনোদন।

শেষ উদযাপন দেখা গেল ম্যাচ শেষেও। রাজশাহী ভাসল জয়ের আনন্দে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৪২/৮ (তামিম ৫১, স্মিথ ০, গেইল ৪৪, মালিক ১৪, এনামুল ১১, নবি ৫, জহুরুল ১১*, রাজ্জাক ০, তাসকিন ০, সাকলাইন ১*; উইলিয়ামস৪/১১, মিরাজ ০/৩৬, আফিফ ০/২৫, স্যামি ০/২০, ফরহাদ ২/২৬, ফ্র্যাঙ্কলিন ১/৮, নাজমুল ০/১৬)।

রাজশাহী কিংস: ১৮.৩ ওভারে ১৪৩/৭ (মুমিনুল ৪, নুরুল ৩৪, আফিফ০, সাব্বির ১১, প্যাটেল ৫, ফ্র্যাঙ্কলিন ২, স্যামি ৫৫*, মিরাজ ১০, ফরহাদ ১৯*; রাজ্জাক১/১৭, শুভাশীষ ২/২৮, স্মিথ ০/১৩, তাসকিন ০/৩১, সাকলাইন ২/২৪, নবি ১/৩০)।

ফল: রাজশাহী কিংস ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ড্যারেন স্যামি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক