অথচ নার্ভাস ছিলেন মাহমুদউল্লাহ!

চোখে অবিশ্বাস, মুখে হাসি! ম্যাচ জিতে মাহমুদউল্লাহ ছুটছিলেন মাথায় হাত দিয়ে। শেষ ওভারের নাটকীয়তা, নিজের আরও একটি নায়কোচিত পারফরম্যান্স যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না খুলনা টাইটানস অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে জানালেন, শেষ ওভারের আগে জয়ের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন!

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2016, 02:33 PM
Updated : 12 Nov 2016, 03:16 PM

শেষ ওভারে চিটাগং ভাইকিংসের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। প্রথম বলে একটি সিঙ্গেলের পর আর কোনো রান দেননি মাহমুদউল্লাহ, উইকেট নিয়েছেন তিনটি। খুলনাকে জিতিয়েছেন ৪ রানে।

এই নিয়ে তিন ম্যাচে দুবার মাহমুদুল্লাহ প্রতিপক্ষের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে আনলেন অবিশ্বাস্য শেষ ওভারে। প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৭, সেবারও ৩ উইকেট নিয়ে মাহমুদউল্লাহ দলকে জিতিয়েছেন ৩ রানে।

দুবারই মাহমুদউল্লাহকে দেখে মনে হয়েছে স্নায়ুর চাপ নেই। একদমই শান্ত, ধীরস্থির। বল করেছেন ঠাণ্ডা মাথায়। এমন চাপের মুহূর্তে অতটা নির্লিপ্ত থাকা কিভাবে সম্ভব? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ শোনালেন উল্টো কথা।

“জানি না, হয়ে গেছে। এর বাইরে কিছু জানি না। খুব নার্ভাস লাগছিল। আমার হাত এখনও ঘামছে! জানি না… শুধু চেষ্টা করেছি নবিকে স্ট্রাইক কম দিতে। চতুরঙ্গার উইকেটটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

“৬ বলে ৬ রান, দুজন সেট ব্যাটসম্যান। একটা ছক্কাই যথেষ্ট ছিল। উইকেটও ভালো ছিল। প্রথম বলে সিঙ্গেল হওয়ার পর একটু বিশ্বাস ফিরে আসে। উইকেট পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।”

শেষের দিকের বিশেষজ্ঞ বোলাররা অনেক সময়ই মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলে। বাড়তি কিছু করে। তবে মাহমুদউল্লাহর দাবি, তিনি সেরকম কিছুই করেন নি।

“কোনো মেন্টাল গেম ছিল না। সত্যি কথা। শুধুমাত্র ভালো জায়গায় বোলিং করার চেষ্টা করেছি। এর বাইরে কিছুই না। কারণ আমি ভেবেছিলাম, ম্যাচটা আমরা হেরে গেছি।”

রাজশাহীর বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের পর মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, বিকল্প না থাকায়ই শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসেছিলেন নিজে। চিটাগংয়ের বিপক্ষেও শেষ তিন ওভারের দুটি করেছেন মাহমুদউল্লাহ। আবারও জানালেন একই কারণ।

“এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। আমার ভাবনা ছিল, সেরা বোলারদের ওভার রেখে দিলে পরে সেগুলো কাজে আসবে না। এজন্য মূল বোলারদের আগেই বোলিং করিয়েছি উইকেট নিতে। শফিউলের স্পেলটা অসাধারণ ছিল। কুপার-রুবেল-জুনাইদ মাঝে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলি করেছে।”

“শেষ ওভার আমি আসলেই করতে চাচ্ছি না। চাই আমরা সেরা বোলাররাই শেষের ওভার করুক। এখন বিকল্প না পেয়ে আমি নিজেই দায়িত্ব নিচ্ছি। দুদিন সফল হয়েছি। পরের ম্যাচে নাও হতে পারি। তার পরও প্রয়োজন হলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক