অভিষেক সিরিজে রেকর্ডে ভাস্বর মিরাজ

অ্যালেস্টার কুকের ব্যাটে ছোবল দিয়ে লফিয়ে উঠল বল। সিলি পয়েন্টে পড়িমরি করে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল হাতে জমালেন মুমিনুল হক। আনন্দে ভাসলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিষেক সিরিজ, অর্জনের সিরিজে নিজেকে তুলে নিলেন অনন্য উচ্চতায়।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2016, 10:09 AM
Updated : 30 Oct 2016, 05:07 PM

ইংলিশ অধিনায়কের উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের চতুর্থ উইকেট। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে পেলেন ১০ উইকেটের স্বাদ।

পরে মিরাজ নিয়েছেন আরও দুই উইকেট। গড়েছেন এক টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। দুই টেস্টের সিরিজের বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও এখন মিরাজ।

মিরাজের আগে ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার স্বাদ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসান। তবে একটি জায়গায় ওই দুজনকে ছড়িয়ে গেছেন মিরাজ। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ১০ উইকেট পেলেন তিনিই।

ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই মিরাজ পেলেন ১০ উইকেট। এনামুল ১০ উইকেট পেয়েছিলেন নিজের পঞ্চম টেস্টে। সাকিবের লেগেছিল ৩৬ টেস্ট!

বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচে ১০ উইকেট প্রথমবার পেয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন ৯৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচে ২০০ রানে ১২ উইকেট এত দিন ছিল টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং।

এরপর প্রায় ১০ বছরের অপেক্ষা। ২০১৪ সালে নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ১২৪ রানে ১০ উইকেট পান সাকিব। ওই ম্যাচে সাকিব করেছিলেন সেঞ্চুরিও।

এবার মিরাজ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ৮২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট ৭৭ রানে। ম্যাচে ১৫৯ রানে ১২ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন এনামুলকে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালের ওই সিরিজে ২ টেস্টে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন এনামুল। এবার ২ টেস্টে মিরাজ নিলেন ১৯ উইকেট।

বয়সের হিসেবে অবশ্য এনামুলের পেছনে মিরাজ। ১৮ বছর ৪০ দিন বয়সে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন এনামুল। মিরাজ এই ম্যাচ শুরু করেছিলেন ১৯তম জন্মদিনের ৩ দিন পর। সাকিব পেয়েছিলেন ২৭ বছর ২২৪ দিন বয়সে।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই তাকে নিয়ে দেশের ক্রিকেটের যে আশা, আন্তজার্তিক ক্রিকেটের শুরুটায় সেই আশার পারদ আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন মিরাজ। এবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পালা!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক