তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে বাংলাদেশের সকাল

সকালের ধূসর মেঘ কেটে গিয়ে মিরপুরে রোদ ঝলমলে দুপুর। সূর্যের মত হাসছে তখন বাংলাদেশের স্কোরকার্ড। সকালের অস্বস্তি কাটিয়ে হাসছে দলের ড্রেসিং রুম। তমিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের ব্যাটে মিরপুর টেস্টের প্রথম সকালে উজ্জ্বল বাংলাদেশ।

আরিফুল ইসলাম রনিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Oct 2016, 06:37 AM
Updated : 28 Oct 2016, 02:44 PM

ইমরুল কায়েসকে দ্রুত হারালেও লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। রান উঠেছে প্রায় ওয়ানডের গতিতে। লাঞ্চের সময় বাংলাদেশর রান ১ উইকেটে ১১৮।

৬৮ রানে অপরাজিত তামিম, ৪৪ রানে মুমিনুল। চট্টগ্রাম টেস্টে চার ইনিংসে শতরানের জুটি ছিল মাত্র একটি, সেটিও ছিল ইংল্যান্ডের। এবার ম্যাচের প্রথম সকালেই শতরানের জুটি গড়লেন তামিম ও মুমিনুল। লাঞ্চের সময় অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটির রান ১১৭।

২০১০ সালে এই মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাঞ্চের আগে প্রায় সেঞ্চুরি করেই ফেলেছিলেন তামিম। সেবার আউট হয়েছিলেন ৭১ বলে ৮৫ করে। এবারও দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেন প্রথম সকালে। তবে ধরণটা পুরো ভিন্ন।

সেবার শুরু থেকেই ছিলেন খুনে মেজাজে। এবার পুরো উল্টো। সেবার প্রথম ২০ বলে ছিল ২৭ রান, অর্ধশতক ছুঁয়েছিলেন ৩৪ বলে। এবার রানের খাতা খুলতেই লাগল ২০ বল! কিন্তু থিতু হওয়ার পর খেলেছেন অসাধারণ সব শট, রান করেছেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।

সকালে মহাগুরুত্বপূর্ণ টসটি জিতেছেন মুশফিকুর রহিম। তিন ওয়ানডের পর প্রথম টেস্ট, টানা চার ম্যাচে হারার পর ইংল্যান্ড সিরিজে প্রথম টস জয়!

উইকেট অনুমিতভাবেই শুষ্ক। টস রিপোর্টে মাইক আথারটন জানালেন, প্রথম দুদিন উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব দুরূহ নাও হতে পারে। তবে পরে ভাঙতে পারে। আগে ব্যাট করা দল কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবে নিশ্চিতভাবেই।

ইমরুল অবশ্য নিতে পারেননি সেই সুবিধা। তৃতীয় ওভারেই ক্রিস ওকসের অনেক বাইরের একটি শর্ট বল সরাসরি তুলে দিলেন পয়েন্টে (১)। বলটি ছিল মারার মতোই। তবে ইমরুল রাখতে পারেননি নীচে, পারেননি ফিল্ডারের ওপর দিয়ে পাঠাতেও।

প্রথম ৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১ উইকেটে ১। ওকসকে তিন বলের মধ্যে দুটি চার মেরে সেই বৃত্ত ভাঙেন মুমিনুল। পরের ওভারে স্টিভেন ফিনকেও অসাধারণ এক ড্রাইভে চার মারেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মুমিনুলের ব্যাটিংয়ে জেগে ওঠেন যেন তামিমও। মইন আলিকে ডাউন দা উইকেটে চার মারার পর ওকসকে এক ওভারেই মারেন তিন চার।

দুই ব্যাটসম্যানই চড়াও হয়েছেন ইংলিশ স্পিনারদের ওপর। থিতুই হতে দেননি স্পিনারদের। অভিষিক্ত জাফর আনসারির প্রথম ওভারেই ১৩ রান নিয়ে চাপে ফেলে দেন তামিম। জুটির ৫০ আসে ৫৭ বলে।

আনসারির জন্য চারজন ফিল্ডার সীমানায় রেখে দেন অধিনায়ক অ্যালেস্টার কুক। কাজে দেয়নি সেই ট্যাকটিসও। দারুণ ব্যাটিংয়ে অবিচ্ছিন্ন থেকেই লাঞ্চে গিয়েছেন দুজন। মাত্র ১৩ ইনিংসে দুজনের এটি চতুর্থ শতরানের জুটি।

মুমিনুলের ইনিংসে যথারীতি ছিল চোখধাঁধানো কিছু ড্রাইভ। স্পিনে পায়ের কাজ যথারীতি ছিল দারুণ। শুরু থেকেই খেলে গেছেন প্রায় একইভাবে। তার কাছেও একটি বড় ইনিংস চাইবে দল।

বাংলাদেশের একাদশে পেসার মাত্র একজন, স্পিনার চারজন। টস জয়টা ছিল ভীষণ জরুরি, এরপর প্রথম ইনিংসে বড় রান। প্রথম সকালে টস জয়ের পর মাত্র এক উইকেট হারিয়ে একশর বেশি রান, শুরুটা এর চেয়ে ভালো হতে পারত না বাংলাদেশের!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক