হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিক ছাপিয়ে শেষের নায়ক মিলার

পুঁজি খুব বেশি নয়, তবে বোলারদের নৈপুণ্যে লড়াই জমিয়ে তুলল শ্রীলঙ্কা। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিকে একটা সময় ম্যাচের লাগাম তো তাদের হাতেই চলে যায়। শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন পড়ে ১৫ রান। টানা দুই ছক্কায় যেন এক ঝটকায় ম্যাচ বের করে নিলেন ডেভিড মিলার। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখে এনে দিলেন জয়ের হাসি।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2021, 01:51 PM
Updated : 30 Oct 2021, 03:17 PM

শারজাহতে শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৪ উইকেটে। প্রথম ম্যাচে হারার পর টানা দুটি জিতল তারা।

ব্যাট হাতে সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে একাই দলকে টানেন পাথুম নিসানকা। তার ক্যারিয়ার সেরা ৭২ রানের ইনিংসে ১৪২ করে শ্রীলঙ্কা। মিলারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে এক বল আগেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

রান তাড়ায় শেষ ২ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। উনবিংশ ওভারে দুশমন্থ চামিরাকে লং-অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে কাগিসো রাবাদা ব্যবধান কমান। ম্যাচের শেষ ৫ বলে ১৪ রানের সমীকরণে স্ট্রাইক পান মিলার। লাহিরু কুমারাকে টানা দুই ছক্কায় গ্যালারিতে পাঠান তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে যখন দরকার এক রান, চার মেরে দেন রাবাদা। জয়ের উল্লাসে মাতে দক্ষিণ আফ্রিকা।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এই মন্থর উইকেটেই আগের দিন খেলে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ১৪৩ রানের লক্ষ্য ছিল মাহমুদউল্লাহর দলের সামনেও। কিন্তু শেষ ওভারে ১৩ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা।

উইকেট মন্থর হলেও এদিন গতি দিয়েই টস হেরে ব্যাটিং নামা শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আনরিক নরকিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা পেসারের ১৪৪ কিলোমিটার গতির লেংথ বলে মিডল স্টাম্প উড়ে যায় কুসাল পেরেরার।

এই পেসারকে পরের ওভারে টানা দুই চার মারেন চারিথ আসালাঙ্কা। তার ও নিসানকার ব্যাটে ৩৯ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে লঙ্কানরা।

শুরুর ওই ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নেন এই দুইজন। কেশভ মহারাজকে তিন বলের মধ্যে একটি করে ছক্কায় ওড়ান আসালাঙ্কা ও নিসানকা। ওই ওভারেই ভাঙে তাদের ৪০ রানের জুটি। রান আউটে কাটা পড়েন আসালাঙ্কা (১৪ বলে ২১)।

১৭ রানে ৩ উইকেট নেওয়া তাবরাইজ শামসি আভিশকা ফার্নান্দোর ফিরতি ক্যাচ ধরছেন। ছবি: আইসিসি

এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। আর কোনো ২৫ রানের জুটিও হয়নি। তাবরাইজ শামসিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ভানুকা রাজাপাকসা। বাঁহাতি এই রিস্ট স্পিনার নিজের পরের দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন আভিশকা ফার্নান্দো ও ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে।

সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের রান বাড়াতে থাকেন নিসানকা। ৪৬ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি দাসুন শানাকাও।

কাগিসো রাবাদাকে এক ওভারে এক ছক্কা ও ২ চার মারেন নিসানকা। রানের চাকায় দম দিতে গিয়ে তিনি ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। ইনিংস শুরু করতে নেমে করেন ক্যারিয়ার সেরা ৭২ রান। ৫৮ বলের ইনিংসটি গড়া ৩ ছক্কা ও ৬ চারে।

শেষ ওভারে আরও দুই উইকেট হারিয়ে অল আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন শামসি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে। প্রিটোরিয়াসেরও শিকার তিনটি।

রান তাড়া করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরুতে চেপে ধরে লঙ্কানরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন দুশমন্থ চামিরা।

এলবিডব্লিউ হন রিজা হেনড্রিকস। রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি। আর গতিময় শর্ট বল পুল করেন কুইন্টন ডি কক। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল আকাশে উঠে যায়। পরে বোলার নিজেই ক্যাচ মুঠোয় জমান। এই দুইজনকে হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪০ রান তোলে তারা।

রাসি ফন ডার ডাসেনও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। কাভার থেকে সরাসরি থ্রোয়ে তাকে রান আউট করে দেন শানাকা।

হ্যাটট্রিক উদযাপন করছেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। ছবি: আইসিসি।

এরপর দলের হাল ধরেন এইডেন মারক্রাম ও বাভুমা। দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন লক্ষ্যের দিকে। তাদের ৪৭ রানের জুটি ভাঙেন হাসারাঙ্গা। ১৫তম ওভারের শেষ বলে এই লেগ স্পিনারকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন মারক্রাম (২০ বলে ১৯)।

দুই ওভার পর আক্রমণে এসে প্রথম দুই বলে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক বাভুমা (৪৬ বলে ৪৬) ও প্রিটোরিয়াসকে ফিরিয়ে দেন হাসারাঙ্গা। গড়েন শ্রীলঙ্কার প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি।

জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুলে মিলার ভেঙে দেন তাদের সেই আশা। ১৩ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। রাবাদা ৭ বলে করেন ১৩।

আগামী সোমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা। পরের দিন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৪২ (নিসানকা ৭২, পেরেরা ৭, আসালাঙ্কা ২১, রাজাপাকসা ০, আভিশকা ৩, হাসারাঙ্গা ৪, শানাকা ১১, চামিকা ৫, চামিরা ৩, থিকশানা ৭*; মারক্রাম ২-০-৮-০, রাবাদা ৩-০-৩২-০, নরকিয়া ৪-০-২৭-২, মহারাজ ৪-০-৩৪-০, শামসি ৪-০-১৭-৩, প্রিটোরিয়াস ৩-০-১৭-৩)।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯.৫ ওভারে ১৪৬/৬ (ডি কক ১২, হেনড্রিকস ১১, ফন ডার ডাসেন ১৬, বাভুমা ৪৬, মারক্রাম ১৯, মিলার ২৩*, প্রিটোরিয়াস ০, রাবাদা ১৩*; চামিরা ৪-০-২৭-২, থিকশানা ৪-০-৩১-০, কুমারা ৩.৫-০-৩৫-০, চামিকা ৩-০-২৩-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-২০-৩, শানাকা ১-০-৭-০)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: তাবরাইজ শামসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক