মনে হচ্ছে ৪-৫ বছর ধরে রান করি না: মুশফিক

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রান পেলেও ব্যাটিংয়ের ধরনের জন্য হয়েছিলেন সমালোচিত। প্রাথমিক পর্বের পরের দুই ম্যাচে পাননি রান। সব মিলিয়ে বেশ চাপে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। অবশেষে ঝকঝকে এক ইনিংসে দিলেন ছন্দে ফেরার আভাস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটির পর কিছুটা অভিমান তার কণ্ঠে। লোকের কথায় নাকি মনে হচ্ছিল, তিনি ৪-৫ বছর ধরে রান করেন না!  

ক্রীড়া প্রতিবেদকশারজাহ থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Oct 2021, 07:03 PM
Updated : 24 Oct 2021, 09:47 PM

ঠিক ততটা না হলেও তার খরা সময়ের হিসেবে কম দিনেরও নয়। প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি করলেন মুশফিক। ২০১৯ সালে ভারত সফরে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংসে খেলার পর এই সংস্করণে হাসছিল না তার ব্যাট।

দুই ফিফটির মাঝে ১১ ইনিংসে তিনটি শূন্যসহ সাতবার যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। সবশেষ ২৮ ইনিংসে তার ফিফটি কেবল দুটি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোববার ৫ উইকেটে হেরে যাওয়া ম্যাচে ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর মুশফিক বললেন, রান না পেলেও তার চেষ্টার কমতি ছিল না।

“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা এমন, এখানে ধারাবাহিকভাবে রান করাটা বেশ কঠিন। কখনও তিন, চার কিংবা পাঁচে খেলতে হয়। আবার দলের প্রয়োজনে কখনও সাত বা আটেও নামতে হয়। দেখা যায় কখনও পঞ্চম ওভারে, কখনও ১৭তম ওভারে ক্রিজে যাচ্ছি। আমি তো পোলার্ড-রাসেলের মতো নই যে গিয়ে ধুমধাম কয়েকটা বলে পেলেই মেরে দিব। ২-৪-৬ বলেই রান করে ফেলব।”

“আমার কিছু সময় লাগে। আমার কিছু শক্তি ও দুর্বলতা আছে। নিজের উন্নতি করার চেষ্টা করছি। অনেক সময় অনেক দিক থেকে শুনে মনে হচ্ছে, শেষ চার-পাঁচ বছর ধরে আমি রান করি না। এই জিনিসটা আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে, যেটা আমি মনে করি। দলের জন্য অবদান রেখে যেতে চাই সেটা হতে পারে ১০, ৮০ কিংবা ১০০ রান করে।”

নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়ে আবারও জ্বলে উঠেলেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার রেকর্ড দারুণ। তিন সংস্করণেই আছে চমৎকার কিছু ইনিংস। দ্বীপ দেশটির বিপক্ষে খেলার সময় কি তার ভেতর বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণা কাজ করে?

“প্রতিটা দলের বিপক্ষেই লক্ষ্য থাকে, যতটা সম্ভব যেন অবদান রাখতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে ভালো করে লাভ নেই, যদি আমার দল না জেতে। তখন এই পারফরম্যান্সের কোনো অর্থ আমার নেই। আপনার কথা শুনে আমার মনে হলো, এরপর যে দলের বিপক্ষেই খেলা হবে মনে করতে হবে যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা। তাহলে হয়তো আমার আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে (হাসি)।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক