ঢাবিতে মুক্তবুদ্ধির চর্চা বজায় থাকবে, প্রত্যাশা প্রাক্তনদের

অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ছিল, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Dec 2021, 03:31 PM
Updated : 4 Dec 2021, 03:35 PM

শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূতি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানমালার চতুর্থ দিনের আলোচনা সভায় খ্যাতিমান সাবেক শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে এমন প্রত্যাশার কথা উঠে আসে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে স্বাধীনতা পূর্ব আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকার জন্য ‘অগ্নিকণ্যা’ খ্যাত সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সর্বদা মুক্তচিন্তা ও মুক্তিবুদ্ধির চর্চা করে নিজেদেরকে আলোকিত করেছেন এবং সমাজ, দেশ ও জাতিকে আলোকিত করেছেন।

“মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার আলোকিত পথ রচনার যে নিরন্তর চর্চা, আমি আশা রাখি অতীতের দিকে তাকিয়ে বর্তমানকে বিশ্লেষণ করে এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আলোর চর্চা অক্ষুণ্ণ রাখবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “আমি জগন্নাথ কলেজে যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, তখন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতাম। আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনকার জহুরুল হক হলে এসে বসে থাকতাম যে, আমাদের নেতারা এসে কী বলেন।

“সবাই এখানে নিয়ে আসত। কারণ এটা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র, স্বাধিকারের জন্য এখানে যেতে হবে, শুনতে হবে। তখন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার দুর্বলতা বেড়ে যায়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সব আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জন থেকে আজ পর্যন্ত যা কিছু বাংলাদেশের অর্জন হয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আলোকবর্তিকা হিসেবে সব সময় পথ দেখিয়েছে।

“এখনকার তরুণ প্রজন্ম যারা দেশের জন্য অবদান রাখছেন, তাদের সিংহভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজেদের কর্মগুণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখবে বলে আশা করি।”

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্ব অনুভব করি। ষাটের দশকে এ ক্যাম্পাসে এসে আমি বঙ্গবন্ধুকে চিনেছি, বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রাম-নেতৃত্ব দেখেছি এবং বাংলাদেশকে চিনেছি।

“প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগামীতেও তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহাদত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক