ডিজিটাল হাটে কেনা গরু পছন্দ না হলে ‘ফেরতও দেওয়া যাবে’

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবারও চালু হল 'ডিজিটাল হাট', যেখানে পছন্দ না হলে অনলাইনে কেনা কোরবানির পশু ফেরত দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 03:44 PM
Updated : 4 July 2022, 11:40 AM

পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতার হিসাব সমস্যার সমাধানের ভার্চুয়াল ক্যালকুলেটরও সংযোজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে 'ডিজিটাল হাট ২০২২' এর উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “অনলাইনে গবাদি পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

ডিজিটাল হাটের সাথে সম্পৃক্ত এটুআই, একশপ, ই-ক্যাব সহ অন্যান্য ফোরামকে সম্মিলিতভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা বাড়াতেই এটা করা প্রয়োজন।

“যদি কেউ প্রতারিত হয়, তারা আগামী বছর এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী থাকবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “অনলাইনে কেনা গবাদিপশু পছন্দ না হলে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, যাতে এটা সবার কল্যাণে কাজে লাগে এবং কেউ যেন কোনোভাবে প্রতারণার শিকার না হয়।

“এ বছর ভার্চুয়াল ক্যালকুলেটর নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এটি ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অনাহুত সমস্যা থেকে মুক্ত রাখবে এবং তাদের দুশ্চিন্তা দূর করবে।”

এবারের কোরবানিতে পশুর সংকট হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী এবার ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে । তার বিপরীতে দেশে কোরবানি যোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২১ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৮৯টি।

“এক সময় ভারত-মিয়ানমার থেকে পশু না এলে কোরবানির নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে, তার অন্যতম অধ্যায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত পশু বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে।”

কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনা নিয়ে একসময় নানা বিড়ম্বনা এবং প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হত, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা ‘অনেক সহজ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, “আর্থিক লেনদেনের জন্য স্মার্ট কার্ডসহ অন্যান্য অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ডিজিটাল দেশে রূপান্তর হওয়ার দৃশ্যমান অবস্থা তুলে ধরেছে।”

মন্ত্রী বলেন, “গতবছর অনলাইনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কারণে অনেকেই কোরবানির জন্য আগ্রহী হয়নি। এ বছর আশা করা হচ্ছে আরো বেশি গবাদিপশু বিক্রি হবে।”

তিনি বলেন, অনলাইনে পশু বিক্রির ক্ষেত্রে মালিকানা, ঠিকানা, মালিকের মোবাইল নম্বর, পশুর বয়স, ওজন এবং ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া জরুরি। এসব তথ্য অনলাইনে দেওয়ার আগে  গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সনদও নিতে হবে।

“এক্ষেত্রে আমাদের ভেটেরিনারি সার্জনরা সেবা দেবেন। তাতে রোগাক্রান্ত ও কোরবানির অনুপযুক্ত পশু নির্ণয় করা যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।”

এক্ষেত্রে ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। 

তিনি জানান, “অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হাসিল আদায় করা যাবে না। এ ক্ষেত্রকে ইজারা বহির্ভূত রাখা হবে এবং এ সংক্রান্ত হয়রানি রাতে কেউ না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

“এমনকি বাজারের বাইরে বাড়িতে বা রাস্তায় কেউ পশু বিক্রি করলে কোনভাবেই তাদের কাছ থেকে হাসিল বা চাঁদা আদায় করা যাবে না। কোরবানির পশু পরিবহনকারী যানবাহন সড়কে, সেতুতে এবং ফেরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

অনলাইনে কেনা পশু আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ সমস্যায় পড়লে তার সমাধান করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে বলেন, “ডিজিটাল হাট দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, আশা করছি এ বছরও ডিজিটাল হাটে আপনাদের পশু বিক্রি করবেন। আর যারা ক্রেতা আছেন, তারাও ডিজিটাল হাট থেকে পশু ক্রয় করবেন।

“আমি নিজেও গত বছর ডিজিটাল হাট থেকে পশু কিনেছিলাম। এবারও ডিজিটাল হাট থেকে একটি পশু কিনব এবং মানব সেবায় দান করব।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় আপনাদের ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয় করা উচিৎ। এবার আমরা লাইভ হাট আপডেট দিতে থাকব। প্রতিনিয়ত আপডেট দিতে থাকব।

“নয়শর বেশি হাটের লাইভে গরু দেখে পছন্দ করার সুযোগ থাকছে। এবার ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহীতে থাকবে। আমরা ডিজিটাল হাটে পশু বিক্রিকে বছরব্যাপী কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে এসেছি।”

অন্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান ও এ এইচ এম শফিকুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহে আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি-২ প্রকল্পের পরিচালক আ ন ম গোলাম মহিউদ্দিন, ইউএনডিপির জাতীয় প্রকল্প ব্যাবস্থাপক কাজল চ্যাটার্জি, ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ডিজিটাল হাট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে উপস্থাপনা করেন এটুআই এর হেড অব ই-কমার্স রেজওয়ানুল হক জেমি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক