বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: তেল, গ্যাস ও কয়লার পর ডিজেলেও আক্রা

মহামারীর ধাক্কা সামলে কল কারাখানায় কাজের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানি চাহিদা; তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে দাম। গ্যাস, কয়লা ও অপরিশোধিত তেলের পর এবার ডিজেলের দামও বাড়তে পারে বলে আভাস এসেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2022, 05:09 PM
Updated : 11 Feb 2022, 05:09 PM

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজেল সংকট জ্বালানি ও পরিবহন খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং তার প্রভাবে পণ্যের খুচরা মূল্য আরও ঊর্ধ্বমুখি হতে পারে সামনের দিনগুলোতে।

তেল শোধনাগারগুলো মহামারী-পরবর্তী চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন বজায় রাখতে পারছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ পড়তির দিকে। আর তাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে।

মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে এখন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাথা ঘামাতে হচ্ছে। সেই সময়ে ডিজেলের সংকট বাড়লে তা বাজারে আরও বেশি চাপ তৈরি করবে।

উৎপাদন খাতে ও সড়ক চলাচলে জ্বালানি ব্যবহার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়া থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপে তেল রপ্তানি কমেছে। অথচ ইউরোপ এ দুই অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা ইনসাইটস গ্লোবাল জানিয়েছে, ইউরোপের আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্পে (এআরএ) গ্যাসওয়েলের মজুদ এক সপ্তাহে আড়াই শতাংশ কমেছে। ডিজেল ও বাড়িঘর উষ্ণ রাখতে ব্যবহৃত জ্বালানিও রয়েছে এর মধ্যে।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, ২০০৮ সালের পর এবারই বছরের এই সময়ে আঞ্চলিক মজুদ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মজুদাগারগুলোতে এখন ডিজেলের মজুদের পরিমাণ ৮২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল, যা অনেক বছরের মধ্যে কম।

ইনসাইটস গ্লোবালের লারস ভান ভাহেনিংগেন বলেন, “উত্তরপশ্চিম ইউরোপে ডিজেলের চাহিদা বাড়ছে কিন্তু কোভিড-পূর্ব সময়ের চেয়ে পরিশোধন সক্ষমতা কম থাকায় এবং আমদানি কমায় তেলের বাজার দারুণ চাপে রয়েছে।”

সোমবার উত্তরপশ্চিম ইউরোপে ডিজেল কার্গোর দাম ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছায়, ২০১৪ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ। ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দামও গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা জানান ২০০৮ সালে ডিজেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৮০ ডলার ছুঁয়েছিল। ব্রেন্ট ক্রুড ১৫০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।

“একই ঘটনা আবারও ঘটতে পারে- আমরা এমনটি বলছি না, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডিজেলের দাম ২০০৭-০৮ এর পথেই এগোচ্ছে। এ বছরের শেষার্ধে হয়ত ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছুঁতে পারে।”

গত সপ্তাহে একটি শীতকালীন ঝড় যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে মোটামুটি পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেয়। নিজেদের চাহিদা মেটাতে চীন তাদের পরিশোধিত তেল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ায় ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।

সরবরাহ চাপে থাকায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এশিয়ার ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

সাধারণত চাহিদা বাড়লে এবং মজুদ কম থাকলে শোধনাগারগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করে। গত মাসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবার তেল পরিশোনাগারগুলোর সক্ষমতা এখন নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক সময়ে যত শোধনাগার বন্ধ হয়েছে, নতুন চালু হওয়া শোধনাগারের সংখ্যা তার চেয়ে কম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক