বন্ডের ‘অপব্যবহার’: এক কোম্পানিরই ২৭৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

রাজধানীর লালবাগের নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2021, 05:36 PM
Updated : 6 Dec 2021, 05:36 PM

২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করে বন্ডের অপব্যবহারের পাশাপাশি এ বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন অধিদপ্তরটি।

লালবাগের বকশিবাজারে অবস্থিত নাহিদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আনোয়ার হোসেন।

মামলা করা ছাড়াও ভ্যাট গোয়েন্দার অনুসন্ধানে পাওয়া ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগটির আরও গভীর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলকে (সিআইসি) অনুরোধ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে ঢাকা বন্ড কমিশনারকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দারা জানতে পারেন নাহিদ এন্টারপ্রাইজ বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। এরপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেশ কয়েকবার চিঠি দেওয়ার পরও ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলপত্র না দেওয়ায় গত ১৭ জুন অভিযান চালানো হয়।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে বন্ড সুবিধায় আমদানি পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি ও ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটন করে।

ভ্যাট গোয়েন্দা জানায়, নাহিদ এন্টারপ্রাইজ অন্যান্য বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পণ্য কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অনুসন্ধানে দেখা যায়। এতে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অপরাধও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালে মে পর্যন্ত প্রায় ৫ বছরে দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য দেখিয়েছে ২৯১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

কিন্তু জব্দ করা দলিলে দেখা যায়, এ সময়ে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ছিল এক হাজার ৫৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

বিক্রয়মূল্য কম দেখানোতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং এ ফাঁকির ওপর মাসভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১১৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা সুদসহ মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এছাড়া ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে একই সময়ে ১৫৭ কোটি ১২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। এত বিপুল রাজস্ব ফাঁকি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরনের অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কারও বক্তব্য জানা যায়নি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক