ড্যানিশ ফুডসের বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পারটেক্স গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2021, 06:22 PM
Updated : 27 Nov 2021, 06:22 PM

মামলায় গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি এই ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মইনুল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দা সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির জুলাই ২০১৫ থেকে ২০২০ জুন পর্যন্ত কার্যক্রম তদন্ত হয়।

তিনি বলেন, “তদন্তে ড্যানিশ ফুডসের দাখিল করা দলিলাদি, মূসক পরিশোধসংক্রান্ত ট্রেজারি চালান, দাখিলপত্র যাচাই করে এই ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন সেবা খাতের বিপরীতে উৎসে মূসক বাবদ ১২ লাখ ৬ হাজার টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার ফাঁকি দিয়েছে। এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাসিক ২ শতাংশ হারে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বিলম্বজনিত সুদ প্রযোজ্য হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে বিজ্ঞাপনের বর্ধিত মূল্য, চা এর জন্য টি পেপার ক্রয়, টি বক্সের বর্ধিত মূল্য, বাটারের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াত,ওয়েফারে ব্যবহৃত কার্টনের বর্ধিত মূল্য, নুডলসে ব্যবহৃত সিজনিং পাউডার, গ্যাস ও সিএন্ডএফ, এবং নুডলসে ব্যবহৃত কার্টনের বর্ধিত মূল্যের উপর অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াতসহ প্রায় ৬৪ লাখ ২২ হাজার টাকা ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই ভ্যাট পরিশোধ করেনি।

এছাড়া ৭ দশমিক ৫ শতাংশ উপকরণ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশোধিত মূল্য ঘোষণা না দেওয়ায় বর্ধিত মূল্যের উপর গৃহীত রেয়াত কর্তন বাবদ ৩ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার টাকা প্রযোজ্য ছিল।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪ টাকা সমন্বয় করে। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট হিসাবে পাওনা আরও ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৮৪ টাকা আদায়যোগ্য।

অধিদপ্তর জানায়, বর্ণিত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট বাবদ ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬২ টাকা এবং সুদ হিসেবে আরও ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৪৬ টাকাসহ ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০৮ টাকা পাওনা হিসেবে উদঘাটিত হয়।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের এই অভিযোগ মেনে নিয়ে ড্যানিশ ফুডস ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০৮ টাকা জমা দিয়েছে বলে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে জানিয়েছে।

তদন্তে উদঘাটন করা বাকি রাজস্ব আদায় এবং আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা পূর্বে পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে, প্রতিষ্ঠাটির ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা থাকায় এর সার্বিক কার্যক্রমের উপর বিশেষ নজরদারি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে মনিটরিং করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক