করোনাভাইরাস: টিকা আনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বেক্সিমকোর চুক্তি

ভারত থেকে করোনাভাইরাসের টিকা এনে বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (এসআইই) সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 August 2020, 04:29 PM
Updated : 28 August 2020, 04:29 PM

দেশের ওষুধ খাতের শীর্ষ এই কোম্পানি বলছে, এই চুক্তির আওতায় ভ্যাকসিনের জন্য এসআইইতে বিনিয়োগ করবে বেক্সিমকো। এই বিনিয়োগ বিবেচিত হবে ভ্যাকসিনের ‘অগ্রিম দাম’ হিসেবে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস হবে বাংলাদেশে এসআইইর ওই ভ্যাকসিনের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’।

ভারতে তৈরি সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ ‘প্রস্তুত’ বলে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়ার দশ দিনের মাথায় শুক্রবার বেক্সিমকোর এই চুক্তির ঘোষণা এল।

বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হয়ে গেল, বাংলাদেশেও এই ভ্যাকসিনগুলো আমরা আনতে পারব।”

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করা টিকার পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটি অফ ইন্ডিয়া। বর্তমানে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কোভিশিল্ড নামের ওই টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে।

এই টিকার ১০০ কোটির বেশি ডোজ উৎপাদন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহের জন্য এসআইআই ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার এবং গেটস ফাউন্ডেশন ও গ্যাভির সঙ্গে আংশীদারিত্বে পৌঁছেছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগে থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য ‘বুকিং’ দিয়ে রাখছে। আমাদের কিন্তু অক্সফোর্ডের সাথে কেনো... সেরাম ইনস্টিটিউটের সুবিধাটা হচ্ছে, তারা শুধু অক্সফোর্ড না, তারা তিনটা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করতেছে।”

এখন এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটিরশিপ পাওয়ায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এই ভ্যাকসিনগুলো বাংলাদেশে আনতে পারবে, সেটাই এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হল বলে জানান সালমান।

“এখন যেটা আমাদেরকে ওদের সাথে নেগোশিয়েট করতে হবে যে কত কোয়ানটিটি আনব, কী প্রাইসে আনব, প্রাইভেট সেক্টরের জন্য কী প্রাইস হবে, সরকারের জন্য কী প্রাইস হবে…।

“একটা তো সেকশন হবে, যারা টাকা দিয়েও কিনতে চাইবে। এবং যারা টাকা দিয়ে কেনার এফোর্ট করতে পারে, তাদের তো সরকার ফ্রি দেওয়ার কোনো মানে হয় না। সরকারেরও তো রিসোর্সেস সীমিত।”

বেক্সিমকোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন যখন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে, তখন যেসব দেশ সবার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাকসিন পাবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করবে এসআইআই।

“এসআইআই-এর উৎপাদন সক্ষমতা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের ওপর নির্ভর করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিনিয়োগের পরিমাণ এবং বাংলাদেশের জন্য এসআইআই-এর অগ্রাধিকারমূলক ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিমাণ।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের ‘প্রয়োজন মেটানোর’ বিষয়টিও নিশ্চিত করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

“বাংলাদেশ সরকার ও এসআইআই যে দামে সম্মত হবে, সেই দামে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সরবরাহের জন্য ভ্যাকসিন সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হবে সরকারকে। এছাড়া বাংলাদেশের বেসরকারি বাজারের জন্যও ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।”

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাসের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

ইতোমধ্যে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশে করার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে চীনের ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজটি করবে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর,বি। ১৮ মাস দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সম্প্রতি বাংলাদেশে এলে ভারতে তৈরি টিকা নিয়েও তার সঙ্গে আলোচনা হয়।

১৯ অগাস্ট শ্রিংলার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ট্রায়ালসহ কোভিড-১৯ টিকা তৈরিতে ভারতকে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। টিকা প্রস্তুত হলে সাশ্রয়ীমূল্যে শুরুতেই পেতে চায় বাংলাদেশ।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক