পাটকল বাঁচাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চায় স্কপ

সরকারি পাটকলগুলোর শত বছরের পুরনো যন্ত্রপাতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করলে এ খাতের সংকট দূর হবে বলে মনে করছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ- স্কপ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Dec 2019, 10:10 AM
Updated : 29 Dec 2019, 10:10 AM

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ফজলুল হক মিন্টু বলেন, “একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি আজ লোকসানি প্রতিষ্ঠানের অপবাদ নিয়ে ধুঁকছে। এই শিল্পের সাথে যুক্ত ২৬ হাজার স্থায়ী শ্রমিক, কয়েক লাখ বদলি শ্রমিক এবং কয়েক কোটি কৃষকের পরিবার চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিনযাপন করছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে বিজেএমসি পরিচালিত ২২টি কারখানায় হেসিয়ান, সেকিং এবং সিবিসি, এই তিন ধরনের মোট ১০ হাজার ৮৩৫টি তাঁত রয়েছে। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭৩ মেট্রিন টন। এসব তাঁত পুরনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

“পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এগুলো সংস্কার করলেও কয়েক দশকের পুরাতন যন্ত্রপাতির উৎপাদন ক্ষমতা খুব বেশি বাড়বে না। তাই বিজেএমসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে কারখানাগুলোর পুরাতন যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় তাঁত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনের বৃদ্ধি করে মাথাপিছু ব্যয় কমানোর কৌশল গ্রহণ করতে হবে।”

এ বিষয়ে একটি রূপরেখা তুলে ধরে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মিন্টু জানান, শতবছরের পুরনো স্কটল্যান টেকনোলজি পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ছয় হাজার ২৩২টি হেসিয়ান তাঁতের পরিবর্তে চীনের বিভিন্ন মডেলের আধুনিক তিন হাজার তাঁত স্থাপন করে সমপরিমাণ উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়া তিন হাজার ৬৯৬টি সেকিং তাঁতের পরিবর্তে দুই হাজার আধুনিত তাঁত স্থাপন এবং ওই দুই ধাপের সাফল্যের পর স্পিনিং, ড্রইং, প্রিপেয়ারিং ও বেচিং বিভাগের যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপটি সম্পন করা যেতে পারে।

কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিজেএমসি আত্মনির্ভরশীল এবং সরকারের আনুকুল্য ছাড়াই শিল্প ব্যবসায়িক নিয়মে পরিচালিত হতে পারবে বলে মনে করেন ফজলুল হক মিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্কপের নেতা ও জাতীয়বাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক