হাসিমুখে আলাপে রুবানা-জাহাঙ্গীর

বিজিএমইএ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলার মধ্যে হাসিমুখে আলাপ করতে দেখা গেল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের প্রধান নেতা রুবানা হক ও জাহাঙ্গীর আলমকে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 April 2019, 08:38 AM
Updated : 6 April 2019, 10:04 AM

চার বছর পর তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠনের শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ-ফোরাম প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা।

অন্যদিকে ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদের আধিপত্য ভাঙতে ভোটের লড়াইয়ে নামা স্বাধীনতা পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর।

নির্বাচনের আগে থেকে নানা অভিযোগ করে আসছিলেন জাহাঙ্গীর। ভোটগ্রহণ শুরুর পরও তার এজেন্টকে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ আসে তার কাছ থেকে।

এর মধ্যেই দুপুরে কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে ভোটগ্রহণ চলার সময় একসাথ হন রুবানা ও জাহাঙ্গীর।

বেলা ১২টার দিকে ভোটার লাইনের বাইরে দুজনকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

জাহাঙ্গীর রুবানাকে বলেন, “আমার লোকদের এজেন্ট করা হয়নি। তবে ভোট গণনার সময় যেন আমাকে ভেতরে থাকতে দেওয়া হয়।”

উত্তরে রুবানা বলেন, “কমিশন এলাও করলে আপনি অবশ্যই থাকবেন। আমিও থাকতে পারব।”

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি রুবানা হক

বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদে ৩৫টি পদের জন্য দুই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন। এই প্রথম ভোটে অংশ নেওয়া স্বাধীনতা পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে প্রার্থী করতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে তাদের কোনো এজেন্টও ছিল না। সকালে দুজন এজেন্ট বুথে এলেও কিছুক্ষণের মধ্যে তারা চলে যান।

প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাউকে এজেন্ট করার জন্য সকাল থেকেই দেন-দরবার চালিয়ে ব্যর্থ হন স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর।

এজেন্ট নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, “ভেতরে আমাদের একজন এজেন্টও নেই। এই হল নির্বাচনের অবস্থা। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে খুশি বলতেই হবে। ভোটাররা এসে সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনটা হচ্ছে, অন্তত এই কথা ভেবেই আমি খুশি।”

এজেন্ট কেন দেওয়া সম্ভব হয়নি- প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা ৯ জনের একটা তালিকা দিয়েছিলাম এজেন্ট করার জন্য। সেখানে দুজন ছাড়া বাকিরা সবাই নির্বাচনে পরিচালক পদপ্রার্থী। প্রার্থীদেরকে যে এজেন্ট করা যাবে না, এই কথা কোথাও উল্লেখ নেই। তবুও কমিশন তাদের এজেন্ট হিসাবে বিবেচনা করেনি।”

দুজন এজেন্ট সকালে বুথে আসলেও তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর। তবে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই দুই এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।

বিজিএমইএর একাধিক সাবেক নেতা বলেন, প্রার্থীদের এজেন্ট হিসাবে কাজে লাগানোর নিয়ম নেই। যারা এনিয়ে অভিযোগ করছে, তারা ধূম্রজাল সৃষ্টি করতে চাইছে।

অন্যদিকে রুবানা ভোট নিয়ে সন্তষ্টি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “ফলাফল যাই হোক, আমরা মেনে নেব।”

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কেন্দ্রে বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফল ঘোষণার আশা প্রকাশ করেছেন এই নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত কমিশিনের সদস্য নিহাদ কবির।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক