অপারেটরদের বিজ্ঞাপনী এসএমএস-ফোনকল থেকে মুক্তি চাই

মোঃ আলাউদ্দীন ভুঁইয়া
Published : 27 June 2019, 12:45 PM
Updated : 27 June 2019, 12:45 PM

প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে। যেহেতু একবার ব্যবহার শুরু করে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেয় না, সেহেতু মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা  কখনো কমে না, বরং প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যন্ত্রনার নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপনী এসএমএস আর ফোনকল। প্রতিটি কোম্পানি প্রতিদিন গড়ে প্রতি গ্রাহককে ১০ থেকে ১৫টি করে 'অফার' ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে। সময়ে অসময়ে, মাঝরাতে ঘুমের মাঝে, প্রতিনিয়ত টুং টাং করে এসএমএসগুলো  ইনবক্সে জমা হতে থাকে।

ব্যাপারটা এমন যে, ঐ সব কোম্পানির মোবাইল সিম ব্যবহার করে  নিজেকে ওদের কাছে নিজেকে বন্ধক দিয়ে রেখেছি। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য নেই। আমি চাই বা না চাই এ সব ম্যাসেজ আমার মোবাইলে আসতেই থাকবে এবং সেগুলো আমাকে দেখতে হবে। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার মনোযোগ, কাজের একাগ্রতা ও শখের ঘুম।

একজন গ্রাহক চেষ্টা করলেও এসব ম্যাসেজ বা ফোন কল বন্ধ করতে পারেন না। অনেকে বলেন, কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে ম্যাসেজ বা ফোনকল বন্ধ করে দেওয়া যায়।

আমার প্রশ্ন হলো, এসএমএস বা ফোনকল শুরু করার আগে কি আমাদেরকে বলা হয়েছে যে আপনি যদি আমাদের সিম ব্যবহার করেন, তবে আমরা আপনাকে যথেচ্ছাভাবে সময়ে-অসময়ে ভুরি ভুরি ম্যাসেজ পাঠাবো বা ফোন কল করবো? না কি সিম কেনার সময়ে আমরা এমন কোথাও স্বাক্ষর করেছি যেখানে বলা আছে এই সিম ব্যবহার করলে মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমত আমাদেরকে ম্যাসেজ পাঠানো বা ফোন কল করার নিরঙ্কুশ অধিকার রাখে?

যদি এগুলো কোনটাই না ঘটে থাকে, তবে আমাদেরকে কেন কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে নিজ উদ্যোগে ম্যাসেজ বা ফোন কল বন্ধ করতে হবে? তাছাড়া বাংলাদেশে এখনও এমন অনেক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী আছে যারা কাস্টমার কেয়ারের  সাথে পরিচিত নয়, অথবা তারা এখানে ফোন করতে সাহস পায় না।

বাস্তবতা হলো, কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে শতবার অনুরোধ করলেও আপনি তাদেরকে ম্যাসেজ পাঠানো বা ফোন কল থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। কয়েকদিন বন্ধ থাকবে, তারপরে বন্ধ রাখার মাশুল হিসেবে আগের থেকে দ্বিগুণ সংখ্যক ম্যাসেজ আসতে শুরু করবে।

পুঁজিবাদের এ যুগে বিনা পয়সায় কোনো বিজ্ঞাপন দেবার বা গ্রহণের সুযোগ নেই। মোবাইল কোম্পানিগুলো যেমন বিনা পয়সায় আমাদেরকে এক মিনিট কথা বলার সুযোগ দেয় না, তেমনি আমরাও বিনা খরচে তাদের এ সব কর্মকাণ্ড চলতে দিতে পারি না। যদি তারা এ সব বিজ্ঞাপন অব্যাহত রাখতে চায়, তবে এ ধরনের এসএমএস বার্তা  ও ফোনকল আমার যে সময়টুকু কেড়ে নিচ্ছে তার সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতে আমার প্রস্তাব –  প্রতিটি ম্যাসেজের জন্য কাস্টমারকে ১ টাকা এবং প্রতিটি ফোন কলের জন্য ২ টাকা করে ব্যালেন্স দিতে হবে।

ঘাম ঝরিয়ে আয় করা পকেটের টাকা দিয়ে আমরা প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। আমাদের টাকা নিয়ে আমাদের ঘাড়ে চেপে বসা স্বেচ্ছাচারি এ ব্যবসার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক