অনশন, রোজা ও পটল তোলা

মোনেম অপু
Published : 13 July 2011, 08:41 AM
Updated : 13 July 2011, 08:41 AM

একটি দল গণঅনশনের কর্মসূচী দিয়েছে। আমাদের দেশের বাইরেও এই গণঅনশন বা সাধারণভাবে অনশনের কর্মসূচী ও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়। এমনকি নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাও ঘটেছে অনেক। অন্য জাতিগুলোর কথা বাদ থাকুক। নিজেদের কথাগুলো বিচার করে দেখা যাক।

আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমরা জীবনকে খুব সমীহ করতে শিখিনি। যে মৃত্যুকে সমীহ করে না, সে জীবনকেও সমীহ করতে পারে না। মৃত্যুকে নিয়ে, বিশেষ করে শত্রু বা সমাজের নিম্নশ্রেণী বলে কথিত ও নির্ধারিত জনদের মৃত্যু নিয়ে আমাদের তামাশা বাংলা ব্যাকরণ বইগুলো পর্যন্ত প্রসারিত।

আমরা ছোটবেলাতেই শিখে ফেলি 'পটল তোলা', 'অক্কা পাওয়া' গোছের বাগধারাগুলো এবং এগুলো দিয়ে রসাত্মক, ব্যঙ্গাত্মক সব বাক্য রচনা। মৃত্যুকে নিয়ে এতখানি বা এমন কৌতুক আর কোনো ভাষায় আছে কিনা জানি না। কিন্তু এটি আমার কাছে খুবই নিষ্ঠুর, অশোভন ও ক্ষতিকর মনে হয় যখন আমার কিশোর বয়সী সন্তান এগুলি মুখস্থ করে খোদ স্কুলপাঠ্য বইয়ে।

সে যাই হোক, আর একটি অদ্ভুত বিষয় হলো অনশনের সমান্তরালে একদিনের রোজা রাখার আহ্বান জানিয়েছে অন্য একটি সহযোগী দল। অনশন শব্দটি তাদের বিবেচনায় সম্ভবত গ্রহণযোগ্য শব্দ বা পরিভাষা নয়। কাজেই রোজার ব্যবস্থাপত্র দেয়া হলো। তারা এই প্রেসক্রিপশন কোথা থেকে পেলেন আর তাদের এই প্রাধিকারই বা কে দিল কে জানে!

আমরা আরও আগে আরও অনেক ইত্যাকার সমরূপী রীতি দেখেছি। মনে হচ্ছে কোরান বা নবী নন, বরং অন্যদের কাছ থেকেই যেন আমাদেরকে ধর্ম শিখতে হবে। আমাদের কর্তব্য শুধু আরবি-ফারসিতে অনুবাদ করে নেয়া মাত্র এবং কোনোভাবে ইসলাম ধর্মের কোনোকিছুর সাথে মিল করে দেয়া।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক