ঝাটা পেটা কর, রুখে দাঁড়াও নারী

ডাক্তার সুলতানা আলগিন
Published : 5 Jan 2013, 12:38 PM
Updated : 5 Jan 2013, 12:38 PM

ঝাটাপেটা করার উদ্যোগ নিতে হবে নারীদেরকেই। সেল্ফ হেল্ফ ইজ দ্য বেস্ট হেল্ফ। আত্মরক্ষার চেয়ে বড় সুরক্ষা আর কিছু নয়। কেউ এসে বাচাবে সেদিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। কে বাচাবে নারীদের। কেউ না। বরং অপমানিত নারীকে নিয়ে নানা তামাশায় মেতে উঠবে তারা। বিচারের নামে প্রহসন হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মত ইজ্জতের দাম দিতে চাইবে সমাজপতিরা। প্রশাসন তা না দেখার ভান করবে। তারচেয়ে নগদ প্রতিরোধ ভাল। আমি আইন হাতে তুলে নিতে বলছি না। বলছি নিজেকে শক্ত কর হে নারী। মনকে বলীয়ান কর। সাহসী হও। এইভাবে নিজেকে সংগঠিত কর যেন কেউ তোমার উপর হামলা চালালে তুমিও রুখে দাড়াবে। তুমি নিজেকে কোমল দুর্বল হীন ভাববে না। একটা মানুষ যখন অন্য একটা মানুষের উপর হামলা করে- তখন আক্রান্ত মানুষটা কি করে! সেকি বসে থাকে। সে কি বসে বসে মার খায়। তুমি কেন খাবে!তুমিও শক্ত হও। নিজেকে নিজেই রক্ষা কর। তোমার উপর শারিরীক হামলা হলে তুমিও রুখে দাড়াও। নিজেকে কাবু ভেব না। তুমি কাবু নও। তোমাকে মানসিকভাবে কাবু বানিয়ে রাখা হয়েছে। আসলে তুমি কাবু নও। তোমারও গায়ে গতরে শক্তি আছে। আসল সমস্যা হচ্ছে তুমি মানসিকভাবে দুর্বল। তুমি ভাব আক্রমনকারী পুরুষটার চেয়ে তুমি দুর্বল। আসলে তা নয়। একবার দুবার প্রতিরোধ কর। শক্তিশালী হও। দেখবে সবাই তোমাকে পাত্তা দিয়ে চলবে। তোমার উপর আর হামলা করতে সাহস পাবে না। আসামের নিচের খবরটা পড়। দেখবে নারী প্রতিরোধ করলে আক্রমনকারী কিভাবে সহিংস জানেয়ার থেকে হীন মেনি বেড়ালে পরিনত হয়।

আসামে ধর্ষণ করতে ধরা পড়লেন বিধায়ক, নারীদের ঝাঁটা-জুতা পেটা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: এবার ধর্ষণ করতে গিয়ে গ্রামের নারীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ভারতের আসামের কংগ্রেস বিধায়ক বিক্রম সিংহ ব্রহ্ম।

এ সময় গ্রামের নারীরাই তাকে ঝাঁটা-জুতা পেটাসহ মারধর করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাতে আসামের নামনি চিরাং জেলায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে, এ ঘটনায় কংগ্রেস বিধায়কের এ আচরণে অস্বস্তিতে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

তবে দলের মুখ রক্ষা করতে ঘটনার পরপরই ব্রহ্মকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সামনে এ ঘটনা কংগ্রেসের জন্য ভয়াবহ সঙ্কট তৈরী করেব বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, অরণ্যঘেঁষা চিরাঙের প্রত্যন্ত শালমারা গ্রামের গ্রাম পরিষদ উন্নয়ন কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান লখেন বসুমাতারির বাড়িতে দেহরক্ষী-সহ আতিথ্য নিয়েছিলেন ব্রহ্ম।

তিনি আরও জানান, নেতাকে ওই উম্মক্ত অবস্থায় দেখে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। এ সময় বিক্রম সিংহ পালাবার চেষ্টা করলেও তাঁকে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলেন।

তাকে পাকরাও করে রাতভর বেঁধে রাখার পরে সকালে সংবাদ মাধ্যমকে খবর দিয়ে গ্রামের নারীরা ঝাঁটা-লাঠি নিয়ে কংগ্রেস নেতাকে মারধর করতে থাকেন।

পরে বেলা ১২টা নাগাদ বিক্রম সিংহকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

লখেনবাবু জানান, সরকারি প্রকল্প দেওয়ার লোভ দেখিয়ে গত তিন মাস ধরে ব্রহ্ম তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকাও নিয়েছেন ব্রহ্ম।

ঘটনার বিষয়ে ওই গ্রামের প্রধান বিশ্বনাথ নার্জারি বলেন, এমন প্রবীণ নেতা গ্রামের মহিলার সম্মানহানি করবেন, এটা ভাবাই যায় না। এদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রশিদ অলভি বলেছেন, ওই লোকটি আদৌ প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য কি না খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রামের নারীদের হাতে ঝাটাপেটা খাওয়া প্রসঙ্গে এক কংগ্রেস নেতা কৌতূক করে বলেন, এটাই সত্যিকারে ফাস্ট ট্র্যাক ছিল!

খবরটা পড়ে দেখেছ- কিভাবে রুখে দাড়ালে ফল পাওয়া যায়। তখন আর সমাজ রাজনীতি দল সরকার কেউ আক্রমনকারীর পক্ষে যেতে চায় না। আসলে সবাই বিজয়ীর পক্ষে। নারী যদি নিজেকে জয়ী ও সফল প্রমান করতে পারে তখন সবাই তোমার গুনগান গাইবে। আর হামলাকারী নরপশুকে নিয়ে নানা তামাশা করবে। সুতরাং তামাশার পাত্র হও না। বরং প্রতিরোধ করে হামলাকারীকে তামাশার বস্তু বানাও।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক