উইকিলিকসে প্রকাশ্য 'দুর্নীতিবাজ ছেলেকে রক্ষা খালেদার রাজনৈতিক ব্যর্থতা'

খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল তার দুর্নীতিবাজ বড় ছেলে তারেক রহমানকে বাঁচানো, মার্কিন এক কূটনৈতিক তারবার্তায় বলা হয়েছে একথা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Sept 2011, 07:43 AM
Updated : 5 Sept 2011, 07:43 AM
ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল তার দুর্নীতিবাজ বড় ছেলে তারেক রহমানকে বাঁচানো, মার্কিন এক কূটনৈতিক তারবার্তায় বলা হয়েছে একথা।
২০০৫ সালের শুরুর দিকে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে এ কথা বলেছেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী।
হ্যারি কে টমাস ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি তারবার্তায় একথা বলেছেন, যা বাংলাদেশ বিষয়ক অন্যান্য নথির সঙ্গে ফাঁস করে দিয়েছে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস।
টমাসের পাঠানো এই তারবার্তার শিরোনাম, 'পিএমও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি স্পিকস ক্যানডিডলি'। ২০০৫ সালের ১৩ মার্চে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস কামাল সিদ্দিকীর সঙ্গে ৪০ মিনিট বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে এটি তৈরি করা হয়।
টমাস কামাল সিদ্দিকীকে জানান, ওয়াশিংটনে মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারেক রহমান যে বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ করেছেন তা প্রটোকলসহ অন্যান্য কারণে সম্ভব হবে না। সিদ্দিকী রাখডাক না করেই বলেন, "বংশানুক্রমিক রাজনীতি উদীয়মান গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।"
তিনি মনে করেন, "দুর্নীতিপরায়ণ" ছেলেকে রক্ষা করাই খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
'সমস্যা হারিছ'
সিদ্দিকী হ্যারি কে টমাসকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকারীদের বিচার করার জন্য মার্কিন চাপ বজায় রাখাটা খুবই জরুরি। টমাস তখন এ মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্কের কথা গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে বলে জানান।। সিদ্দিকী তখন বলেন, সিলেটের এই লোকটি একটি "সমস্যা"। তারবার্তায় নোটে হ্যারি কে পটার লিখেছেন, সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কথাই বোঝাচ্ছিলেন। তারবার্তার শেষে সারমর্মেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা উল্লেখ করেন।
'নাছিরের ঘুষ দাবি'
তারবার্তায় হ্যারি টমাস লিখেন, "বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং না এয়ারবাস থেকে বিমান কিনবে তা ঠিক করতে বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী নাছির উদ্দীন ঘুষ চেয়েছিলেন।" সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠকে এই ধারণা পেয়েছিলেন তিনি। সিদ্দিকী তাকে জানান, তিনি বোয়িং থেকে বিমান কিনতে সমর্থন দিয়েছেন। এবং পরের দিন (১৪ মার্চ, ২০০৫) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নাছির উদ্দীনকে এ ব্যাপারে চাপ দেবেন ও এতে মন্ত্রীকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক লাভের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করবেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউ/১৯৩৩ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক