সাহারার ব্যর্থতায় দায়িত্ব পান ফারুক

পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা এবং পদত্যাগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানকে ওই ঘটনার তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ কথা জানান, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Sept 2011, 12:26 PM
Updated : 4 Sept 2011, 12:26 PM
ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা এবং পদত্যাগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানকে ওই ঘটনার তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ কথা জানান, যা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত ৩০ অগাস্ট প্রায় দেড় লাখ নতুন তারবার্তা প্রকাশ করে। একটিতে ফারুক খানকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনার পাশাপাশি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
২০০৯ সালের ২৪ ও ২৫ ফেব্র"য়ারি পিলখানায় ওই বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
তারবার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, ফারুক খানকে বিদ্রোহ-সংক্রান্ত তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। খুব সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে সেনা কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে ফারুক খানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো।
ফারুক খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।
ফারুক খানের অন্যান্য পরিচয়ের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন এবং গোপালগঞ্জের সংসদ সদস্য হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় তারবার্তায়।
তাজের সঙ্গে সাহারার মতবিরোধ
মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেন, বিদ্রোহের সময় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ ওরফে সোহেল তাজ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সবার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকে দেরিতে দেশে ফেরার তিনটি কারণ বর্ণনা করেন সোহেল তাজ। এর মধ্যে ছিলো- পারিবারিক দায়িত্ব পালন, এক আত্মীয়ের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার এবং নিজের ঘাড়ে ব্যাথা থাকার বিষয়। কথা বলার সময় তাকে কিছুটা অসুস্থও দেখাচ্ছিলো।
"বৈঠকে সোহেল তাজ ও সাহারা খাতুন দুজনই উপস্থিত ছিলেন। বেশির ভাগ কথাই বলছিলেন সোহেল তাজ। তাজের অনেক বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছিলেন সাহারা।"
প্রসঙ্গত, পরবর্তীতে তানজিম আহমেদের মন্ত্রিত্ব নিয়ে নানা জল্পনা চলে এবং তাকে দপ্তরবিহীন প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।
নানা গুজব থাকলেও কোন পক্ষই বিষয়টি খোলাসা করেনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএল/০০১১ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক