‘হুমকি পেয়ে’ ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে তসলিমা

ক্রমাগত জঙ্গি হুমকির মুখে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 June 2015, 09:29 AM
Updated : 3 June 2015, 09:41 AM

সেন্টার ফর ইনকোয়ারি নামে নিউ ইয়র্কভিত্তিক ওই সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তসলিমা এখন তাদের তত্ত্বাবধানে ‘নিরাপদে’ রয়েছেন। 

সংস্থাটি বলছে, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশকে যারা হত্যা করেছে, তারা তসলিমাকেও ‘টার্গেট’ করেছে।

গত ৩০ মে তসলিমা ফেইসবুকে লেখেন, “আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নাকি ভারতে তিনটে স্লিপার সেল পাঠিয়েছে আমাকে মেরে ফেলার জন্য। আমি ইউরোপের নাগরিক, আমেরিকার গ্রিনকার্ডধারী। আমি বিপদের আঁচ পেলে উড়াল দিতে পারব। কিন্তু বাংলাদেশের ব্লগাররা বেরোবে কী করে?”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যদি কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে থাকে, তবে নাস্তিক ব্লগারদের নিরাপত্তা দেবে। আর যদি এটি সম্পূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র হয়, তবে নিরাপত্তা দেবে না।”

ওইদিনই এক ব্লগে তসলিমা লিখেছেন, “বিজ্ঞানের সঙ্গে সংঘাত ধর্মের চিরকালের। বিজ্ঞানীরা, বিজ্ঞান যে মানে না, তাদের ধারালো ছুরি শানিয়ে কোপাতে যায় না। কিন্তু ধার্মিকরা ধর্ম যে মানে না তাদের কোপাতে যায়।”

‘ধর্মানুভূতি নিয়ে রাজনীতি’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে নির্বাসিত এই লেখক বলছেন, “এর সমাধান কিন্তু  ধর্মানুভূতিতে আঘাত না করা নয়। বরং উল্টো। ধর্মানুভূতিতে ক্রমাগত আঘাত করে যেতে হবে। আগের চেয়ে অনেক বেশি। ক্রমাগত আঘাতের ফলেই এই আঘাত গা সওয়া হবে। ধর্মানুভূতিকে নিয়ে ধর্ম-ব্যবসা এক্ষুণি বন্ধ না করলে অসৎ ধর্মব্যবসায়ীরা সমাজের যেটুকু বাকি আছে ধ্বংস হওয়ার, সেটুকুও ধ্বংস করবে।”

ব্লগার অনন্ত বিজয়কে হত্যার ঘটনার পর ১২ মে তসলিমা ট্যুইটারে লেখেন, “আজ সকালে বাংলাদেশে আরেকজন মুক্তচিন্তার লেখক-ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা এখন পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ।"

এরপর oneofthemuslims @jihadforkhilafa আইডি থেকে ট্যুইটারে একজন তসলিমাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, "@তসলিমানাসরিন ৮৪ জনের হিটলিস্টে আপনিও আছেন, তাই দিন গোনা শুরু করেন।"

ট্যুইটারের ওই বার্তায় যে ‘হিটলিস্টের’ কথা বলা হয়েছে, সেই নামগুলো বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে পত্রিকায় এসেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কোনো একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের করা ওই তালিকা ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতেও যায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে জঙ্গি কায়দায় হত্যা করা হয়েছে।

২০০৪ সাল থেকে ভারতে বসবাস করে আসা তসলিমা সেখানেও হুমকি পেয়েছেন বলে সেন্টার ফর ইনকোয়ারির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

সারা বিশ্বে আল কায়েদারমত চরমপন্থি দলের হুমকিতে থাকা মুক্তচিন্তার মানুষদের নিরাপত্তায় একটি তহবিল গঠন করেছে সেন্টার ফর ইনকোয়ারি। এরই আওতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে তসলিমার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে।

চিকিৎসক তসলিমা গত শতকের ’৯০ এর দশকে লেখালেখি শুরুর পর আলোচনায় উঠে আসেন। বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন নিয়ে উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর মৌলবাদীদের হুমকি ও ব্যাপক হৈ চৈয়ের মধ্যে ১৯৯৪ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হন তিনি। এরপর বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন এই লেখিকা।

২০০৪ সালে ভারত রেসিডেন্ট পারমিট ভিসা দেয় তসলিমাকে। পরে তা বাতিল হলেও ২০১৪ সালের শেষ দিকে এসে ফের থাকার অনুমতি দেয় ভারত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক