‘আমি তো ধরেই ছিলাম, ছুটলি কীভাবে’

হুড়োহুড়ির মধ্যে স্ত্রীকে ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন অষ্টমী পুণ্যস্নানে আসা নোয়াখালীর কবিরহাটের অনীল নাথ।

কামাল হোসেন তালুকদারবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 March 2015, 02:36 PM
Updated : 27 March 2015, 02:37 PM

শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নানে এসেপদদলিত হয়ে মারা যান তার স্ত্রী ভানুমতি নাথ রানু। একই ঘটনায় নিহত হন আরও নয়জন।

ঘটনারবর্ণনা দিয়ে অনিল বলছিলেন, “স্নান শেষে বাম হাত দিয়ে রানুর ডান হান ধরে হাটছিলাম। হঠাৎহুড়োহেুড়িতে ভিড়ের মধ্যে ওর হাত ছুটে যায়, দুজন দুই দিকে ছিটকে পড়ি। আমি রানুকে হারিয়েফেলি। কিছুক্ষণ খুঁজে ভাই ভাই স্টোরের সামনে তাকে পাই।”

সকালসাড়ে ৯টার দিকে ঘাটের ৫০ গজ দূরে একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে রাস্তাভর্তিমানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

স্ত্রীকেখুঁজে পেলেও অনিল জানতেন না তার স্ত্রী বেঁচে আছে, নাকি নেই।

লাশেরসামনে বসে বিলাপ করে বলছিলেন, “রানু বেঁচে আছে না মরে গেছে তা বোঝার আগেই লোকজন তাকেধরাধরি করে কোথায় যেন নিয়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে আবার রানুকে হারিয়ে ফেলি।”

“পরেযেখানে লাশ রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে দেখি রানুও শুয়ে আছে- লাশ হয়ে। আমি তাকে একেবারেইহারিয়ে ফেললাম।”

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকে পেশায় ব্যবসায়ী অনিল নাথ জানান, লাঙ্গলবন্দে পূণ্যস্নান করতে বৃহস্পতিবারএসেছিলেন তারা। এখন স্নান শেষে স্ত্রীর লাশ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

“আমি তো তোকে ধরেই ছিলাম। তুই কীভাবেছিটকে গেলি...?”- স্ত্রীর মৃতদেহের পাশে বসে তখনও বিলাপ করছিলেন তিনি।

দেশ-বিদেশেরপ্রায় ১৫ লাখ পুণ্যার্থীর স্নানের জন্য লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকায় প্রস্তুতকরা হয় ১৬টি ঘাট।

তবেস্নানের জন্য সবচেয়ে প্রাচীন রাজঘাটই প্রতিবছর পুণ্যার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে।ওই ঘাটে স্নান করলে বেশি পুণ্য পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস করেন তারা।

ঘাটের৫০ গজের মতো দূরে রয়েছে একটি বেইলি ব্রিজ। ব্রিজ পেরিয়ে একটি মোড়, যেখানে তিন দিক থেকেআসা পুণ্যার্থীরা মিলিত হয়ে রাজঘাটের দিকে যেতে পারেন।

সকালপৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ ব্রিজ ভেঙে পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে রাস্তাভর্তি মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়িশুরু হয় বলে ওই মোড়ের এক দোকানি জানান।

‘ভাইভাই স্টোরের’ মালিক শাহাবুদ্দিনও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছু বোঝার আগেইহুড়োহুড়ি শুরু হয়। ব্রিজ ভেঙে পড়ার কথা বলতে বলতে অনেকে এসে আমাদের দোকানে পড়ে। আমারও এক কর্মচারীর উপরেও পড়ে অনেকে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক