‘বিশ্বজয়ের’ মানব-পতাকায় ২৭ হাজার মুখ

বিজয় দিবসের মধ্যাহ্নে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরল ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর তরুণ, শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসল বাংলাদেশের পতাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2013, 07:49 AM
Updated : 16 Dec 2013, 10:21 AM

৪২ বছর আগে যে দিনটিতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় পেয়েছিল, সেই দিনটিতে আরো এক বিজয়ের জন্য এই আয়োজন।  

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ মানব পতাকা তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়’ শিরোনামে এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রবির কমিউনিকেশনস কর্মকর্তা তালাত কামাল জানান, গিনেসের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব-পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান। নতুন রেকর্ড হলে গিনেস কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে।

সশস্ত্রবাহিনীর আট হাজার সদস্যের সহযোগিতায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এই মানব পতাকা তৈরি শুরু হয় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। 

কয়েক দফা মহড়ার পর বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে শুরু হয় চূড়ান্ত চেষ্টা। লাল-সবুজের টুকরোগুলো ছয় মিনিট ১৬ সেকেন্ড মাথার ওপর তুলে রাখে স্বেচ্ছাসেবীরা।

এ সময় মঞ্চ থেকে বেজে ওঠে গান- ‘বিজয়-নিশান উড়ছে ওই…’। আর এর মধ্যে দিয়েই  তৈরি হয় ‘লাল সবুজের বিশ্বজয়ের’ মঞ্চ।

অংশগ্রহণকারীরসংখ্যার দিক দিয়ে গিনেস বুকে এর আগের রেকর্ডটি পাকিস্তানের। গত বছর  ২১ অক্টোবর লাহোর হকি স্টেডিয়ামে ওই মানব-পতাকার অংশ হয়েছিলেন ২৪ হাজার ২০০ পাকিস্তানি।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ঢাকার মানব-পতাকা লাহোরের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। এখন গিনেস কর্তৃপক্ষের রায় পেলেই একাত্তরের বিজয়ের দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি বিজয় পাবে বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমাদের জাতীয় ঐক্য তুলে ধরতেই এ চেষ্টা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক