সেনাবাহিনীতে জঙ্গি ধারা সৃষ্টির চেষ্টায় ছিলেন জিয়া

শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের কথিত পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক বাহিনীতে উগ্র ইসলামী ধারা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলে তার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2012, 08:43 AM
Updated : 19 Jan 2012, 08:43 AM
আবু সুফিয়ান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঢাকা, জানুয়ারি ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের কথিত পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক বাহিনীতে উগ্র ইসলামী ধারা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলে তার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
তার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সম্পৃক্ততা ছিলো বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেইসবুকে জিয়ার বভিন্ন বক্তব্যের পরপরই হিযবুত তাহরীরের লিফলেট প্রকাশ সেনাবাহিনীর দাবিকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
বিএমএ’র ৪১তম লং কোর্স সম্পন্নকারী জিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। মেজর পদমর্যাদা নিয়ে এই কর্মকর্তা মিরপুর সেনানিবাসে ছিলেন।
শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতে অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য জিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও গত কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগের সাইটসহ আলোচনায় ছিলেন তিনি।
সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ছুটিতে থাকা মেজর জিয়া গত ২২ ডিসেম্বর অন্য এক অফিসারের সঙ্গে দেখা করে তাকেও রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড তথা সেনাবাহিনীকে অপব্যবহার করার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে প্ররোচনা দেন।
“তবে ওই অফিসার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানালে মেজর জিয়ার ছুটি ও বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।”
ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াকে জানানো হলেও তিনি ‘পলাতক’ অবস্থায় ২৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সংক্রান্ত ‘কল্পনাপ্রসূত ও অবিশ্বাস্য গল্প’ বর্ণনা করে একটি ইমেইল তার পরিচিতদের কাছে পাঠান বলে সেনাবাহিনী জানায়, যা সোলজারস ফোরাম নামে একটি ব্লগসাইটেও প্রকাশ হয়।
এরপর ফেইসবুকে নিজের একাউন্টে জিয়া বলেন, “লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান ইউসুফসহ তিন সেনা কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি রাখা হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান ইউসুফসহ দুজনকে আটকের কথা জানানো হয়।
ফেইসবুকের প্রোফাইল পিকচারে শুশ্রƒধারী জিয়ার বিভিন্ন বক্তব্যের পরপরই ঢাকার বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের নামে পোস্টার দেখা যেতে থাকে, বিলি হয় প্রচারপত্র বা লিফলেটও। উগ্র ধর্মীয় এই সংগঠনটি তিন বছর আগে নিষিদ্ধ হয়।
হিযবুতের প্রচারপত্রে বলা হয়- ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অফিসারগণ। বর্তমান সরকার আপনাদের অফিসারদের হত্যা করেছে।”
শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করার আহ্বানও জানানো হয় এই লিফলেট ও পোস্টারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেনাবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এমআইএসটি, লজিস্টিক এরিয়াতে দায়িত্ব পালনকালে ছুটি ছাড়াই ইউনিট ত্যাগ করেন মেজর জিয়া।
“অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে কট্টরপন্থী ইসলামী ধারা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেন জিয়া। সেনা কর্মকর্তাদের কট্টরপন্থী ইসলামী দলে যোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি,” বলেন এক কর্মকর্তা।
কর্মকর্তারা জানান, ছুটি ছাড়া অফিস ছাড়ার অভিযোগে ২০০০ সালেও জিয়াকে একবার শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো।
ফেইসবুকের আগে ব্লগেও জিয়ার বিভিন্ন লেখা প্রকাশ হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।
জিয়া ইমেইল বার্তায় বলেছিলেন, “তাকে সাভার থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অপহরণ করেছিল। তাকে চোখ বেঁধে অজানা স্থানে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সেখানে ছিল। দুই দিন আটকে থাকার পর কৌশলে তিনি পালিয়ে আসেন।”
জিয়ার দাবি, তাকে অপহরণের বিষয়টি সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা জেনেও চুপ রয়েছেন।
আবার অপহরণের চেষ্টা হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ইমেইল বার্তায় বলেন, এজন্য তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
মেজর জিয়া তার অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নিয়ে ইশরাক আহমেদ নামে প্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথন চালাতেন বলে সেনাবাহিনী জানায়।
ইশরাক সম্পর্কে সেনাবাহিনী বলছে, তিনি সম্ভবত হংকংয়ে রয়েছেন। তার বাড়ি নওগাঁ সদরের বারশাইল ইউনিয়নের বালুভাড়া গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের এই পরিকল্পনায় ধর্মীয় কট্টর একটি গোষ্ঠী, অতীতের গণতন্ত্র ধ্বংসের বিভিন্ন অপশক্তি জড়িত রয়েছে। আর অপপ্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে স্বার্থান্বেষী সংবাদপত্র, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএসটি/এমআই/২০৩৯ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক