গৌতমের খুনি নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হয়নি

পুলিশের এসআই গৌতম রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হায়দার-জাকিরকে নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হয়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 May 2010, 07:30 AM
Updated : 21 May 2010, 07:30 AM
ঢাকা, মে ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুলিশের এসআই গৌতম রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হায়দার-জাকিরকে নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হয়নি।
এরই মধ্যে শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কশিমনার একেএম শহীদুল হক দাবি করেছেন, জাকির হোসেন ওরফে কাইল্যা জাকির ওরফে বাইট্যা জাকির, জামাল মল্লিক এবং আহমেদ ওরফে হায়দার ওরফে হাদি এ হত্যাকোণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এই খুনের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন এবং আলী হায়দারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি জানান।
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাকির - হায়দার না থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাকির - হায়দার এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত এই প্রশ্ন দেখা দেয় এবং বিভিন্ন মহলে নানা কথা ওঠে। এই বিভ্রান্তি নিরসনে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সিআইডির প্রধান শাহ জামানরাজকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি এখনো প্রতিবেদন দেয়নি।
শুক্রবার গোয়েন্দা পুলিশের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশ কশিমনার বলেন, "তাদের (র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাকির ও হায়দার) রিমান্ডে আনার পর জিজ্ঞেস করেছিলাম র‌্যাবের কাছে তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে কেন। তারা বলেছে, 'স্যার, ভয়ে স্বীকার করেছি'।"
এ নিয়ে র‌্যাবের সঙ্গে পুলিশের কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই এই হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে বাদ যাবে।
পুলিশ কমিশনারের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় র‌্যাবের আইন ও মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে সকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আগে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে না। এই বক্তব্য তদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাব পড়তে পারে। তার এই বক্তব্য দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হয়নি।"
পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, তারা যে সত্য পেয়েছেন সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তদন্ত কমিটি তার প্রতিবেদনে সত্য ঘটনা তুলে ধরবে।
শহীদুল হক আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় জাকির হোসেন ওরফে কাইল্যা জাকির ওরফে বাইট্যা জাকির, জামাল মল্লিক এবং আহমেদ ওরফে হায়দার ওরফে হাদি ছিল। গৌতম রায় যখন হাদির শরীর তল্লাশি করছিল তখন জাকির ও জামাল মল্লিক তাকে গুলি করে। এই তিনজনসহ পুলিশ মোট চারজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যজন হচ্ছেন আব্দুর রউফ ভূইয়া সোহেল।
সোহেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু সোহেলের গাড়িতে করে হত্যাকারীরা নিয়মিত চলাচল করতো বলে জানান তিনি।
গৌতম হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল না উল্লেখ করে কমিশনার জানান, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জামাল মল্লিক বলেছে- প্রতিপক্ষ কেউ তাদের কাছে এসেছে। এজন্য নিজেরা বাঁচতে তারা গুলি করে। পুলিশ জানলে তারা গুলি করতো না।
প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আহমেদ ডাকাত শহীদের ক্যাডার বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জাকির হোসেন ওরফে কাইল্যা জাকির ওরফে বাইট্যা জাকির এবং আহমেদ ওরফে হায়দার ওরফে হাদি ছাড়াও মনিক নামে একজনের নাম এসেছিল। কিন্তু তদন্তে মানিক নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। জামাল মল্লিকের নাম পাওয়া গেছে। এই জামাল মল্লিককেই মানিক ভেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আহমেদ ওরফে হায়দার ওরফে হাদি।
জামাল মল্লিক এলাকার গড ফাদার। তাই তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করার সাহস পান না বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল দুইটি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে বংশাল থানার অপারেশন অফিসার গৌতম রায় সুত্রাপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন। এই ঘটনার পর ২৩ এপ্রিল সুত্রাপুর থানা পুলিশ আহমেদ ওরফে হায়দার ওরফে হাদি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এর দুইদিন পরেই র‌্যাব আলী হায়দার এবং জাকির হোসেন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে গৌতম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করে। সে দিনই র‌্যাব এই দুইজনকে গৌতম হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করে।
ফলে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হায়দার এবং এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হায়দারকে নিয়ে ব্যাপক বিভ্রন্তি দেখা দেয়।
এরই মধ্যে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা গত ২৮ এপ্রিল জাকির হোসেন ওরফে কাইল্যা জাকির ওরফে বাইট্যা জাকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করলে পুরো ঘটনাই জট পাকিয়ে যায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/ডিডি/এইচএ/১৯১৭ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক