নড়াইলের সাহাপাড়ার ঘটনায় বিচারিক তদন্ত চেয়ে রিট

ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 07:04 AM
Updated : 18 July 2022, 10:11 AM

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান সোমবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর সোমবারই শুনানি হবে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

এর আগে নড়াইলের সদর এলাকার কলেজ শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট আবেদন করেছিল আইন ও সালিশ কেন্দ্র। ওই আবেদনের সাথে সম্পূরক আবেদন হিসেবে নতুন রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী শাহিনুজ্জামান।

এক তরুণের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নড়াইলের মির্জাপুরে এক অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর খবরে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায়; তার মধ্যেই শুক্রবার রাতে লোহাগড়া উপজেলার সাহাপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আকাশ সাহা নামে এক কলেজ ছাত্রের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দীঘলিয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন।

বিকালে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং সন্ধ্যায় তারা সাহাপাড়ার কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে টিনের কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরদিন শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও মন্দিরের পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সব ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তিনি এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও রাখেন।

লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের সালাউদ্দিন কচি নামের এক ব্যক্তি আকাশ সাহাকে আসামি করে গত ১৫ জুলাই রাতে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাতেই আকাশকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে, সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুরনো খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক