জুনের সড়কে ৪২% মৃত্যুই বাইক দুর্ঘটনায়

গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে দ্রুত বাড়তে থাকা মোটর সাইকেল দুর্ঘটনাও বাড়াচ্ছে; রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, কেবল জুন মাসেই দুই চাকার এ বাহনের ২০৪ আরোহীর প্রাণ গেছে সড়কে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 July 2022, 09:34 AM
Updated : 5 July 2022, 04:14 AM

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ‘ভয়াবহ পরিণতির দিকে’ নিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করছে ফাউন্ডেশন। গত এক মাসের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে এ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণপরিবহনের সেবাপ্রাপ্তি সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত করে, যানজট কমিয়ে এনে মোটর সাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা ‘অতি জরুরি’।

সোমবার প্রকাশিত রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল জুন মাসে দেশে ৪৬৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৮২১ জন। 

এর মধ্যে ১৯৭টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসেবে মোট দুর্ঘটনার ৪২. ১৮ শতাংশ মোটর সাইকেলের। আর মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঘটেছে এই দুই চাকার বাহনে। 

নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক সংবাদমাধ্যমে আসা খবরের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন।

মোটর সাইকেল ছাড়াও ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণেও দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। 

ফাইল ছবি

জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র

>> ৩০ দিনে নিহত ৫২৪; নারী ৬৮, শিশু ৭৩

>> সবেচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে; ১১৭ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৩৯ জনের

>> একক জেলা হিসেবে দুর্ঘটনায় শীর্ষে ঢাকা; ২৯ দুর্ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানি 

>> সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে; ১৩ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৪ জনের

>> রাঙামাটি, মাগুরা, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নয়টি দুর্ঘটনা হলেও কেউ নিহত হয়নি এ মাসে

>> ৩৭.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৩৪.০৪ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ১৫.৪১ শতাংশ, শহরের সড়কে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে

>> কোনো না কোনো যানবাহনের চাপায় নিহতদের মধ্যে পথচারী ১০৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ২০.৪১ শতাংশ।

>> দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে যানবাহন চালক বা সহকারী ছিলেন ৮৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৬.৪১ শতাংশ।

রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোট ৭৯৩টি যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়েছে; এর মধ্যে ২১২টি, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৩ শতাংশই মোটরসাইকেল।

এছাড়াও ১৩০টি ট্রাক, ৭৮টি বাস, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৫৪টি পিকআপ, ১১টি ট্রলি, ১৩টি ট্রাক্টর, ১৪৯টি তিন চাকার যান, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৫১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম-চান্দের গাড়ি), ২৩টি অযান্ত্রিক যান (বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-প্যাডেল ভ্যান), পাঁচটি লরি, দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার, দুটি প্রিজনভ্যান, একটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক, আটটি মাইক্রোবাস, চারটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি জিপ, একটি পুলিশের পিকআপ, একটি সেনাবাহিনীর ট্রাক, এবং নয়টি অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ

মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ চালকদের বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী যানবাহন চালানোয় দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে মনে করছে ফাউন্ডেশন।

এ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও তরুণদের বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালনা কেবল তাদেরই দুর্ঘটনায় ফেলছে না, অন্যান্য যানবাহনকেও বিপদের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

মহানগরের পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে মহাসড়কেও মোটরসাইকেল চলাচল বেড়েছে, তাতে বেড়েছে ‍দুর্ঘটনা। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর প্রথম দিন বাইকের ঢল নামে, বেপরোয়া চালনায় প্রাণ যায় দুইজনের।

এই প্রেক্ষাপটে এবার কোরবানির ঈদের আগে ও পরে সাত দিন ‘যৌক্তিক’ কারণ ছাড়া মহাসড়কে মোটর বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

সেই সঙ্গে এক জেলায় নিবন্ধিত মোটর বাইকও অন্য জেলায় চালানো যাবে না বলে নির্দেশনা এসেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রাণালয়ের এক সভা থেকে।

পুরনো খবর:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক